৪৫/১১৪. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩৫৬৮ - সহজ ও ব্যাপক তাসবীহের বাক্য
নাবী (ﷺ) প্রতি নামাযের পর যে দোয়া দ্বারা আশ্রয় প্রার্থনা করতেন
তাসবীহের সহজ আমল: সৃষ্টির সংখ্যা পরিমাণ আল্লাহর পবিত্রতা
জামে‘ আত-তিরমিযী : ৩৫৬৮
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৩৫৬৮
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ الْحَسَنِ، حَدَّثَنَا أَصْبَغُ بْنُ الْفَرَجِ، أَخْبَرَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ الْحَارِثِ، أَنَّهُ أَخْبَرَهُ عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي هِلاَلٍ، عَنْ خُزَيْمَةَ، عَنْ عَائِشَةَ بِنْتِ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ، عَنْ أَبِيهَا، أَنَّهُ دَخَلَ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ عَلَى امْرَأَةٍ وَبَيْنَ يَدَيْهَا نَوًى أَوْ قَالَ حَصًى تُسَبِّحُ بِهِ فَقَالَ «أَلاَ أُخْبِرُكِ بِمَا هُوَ أَيْسَرُ عَلَيْكِ مِنْ هَذَا أَوْ أَفْضَلُ سُبْحَانَ اللَّهِ عَدَدَ مَا خَلَقَ فِي السَّمَاءِ وَسُبْحَانَ اللَّهِ عَدَدَ مَا خَلَقَ فِي الأَرْضِ وَسُبْحَانَ اللَّهِ عَدَدَ مَا بَيْنَ ذَلِكَ وَسُبْحَانَ اللَّهِ عَدَدَ مَا هُوَ خَالِقٌ وَاللَّهُ أَكْبَرُ مِثْلَ ذَلِكَ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ مِثْلَ ذَلِكَ وَلاَ حَوْلَ وَلاَ قُوَّةَ إِلاَّ بِاللَّهِ مِثْلَ ذَلِكَ».قَالَ وَهَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ مِنْ حَدِيثِ سَعْدٍ .
আইশা বিনতু সা’দ ইবনু আবূ ওয়াক্কাস (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাথে এক মহিলার ঘরে যান, যার সামনে ছিল খেজুরের অনেকগুলো বিচি অথবা নুড়ি পাথর, যার সাহায্যে সে তাসবীহ পাঠ করত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ আমি কি তোমাকে এর চেয়েও সহজ ও উত্তম পথ প্রসঙ্গে জানাবো না? “আল্লাহ মহাপবিত্র আকাশে তাঁর সৃষ্টি জীবের সমসংখ্যক, আল্লাহ মহাপবিত্র দুনিয়াতে তাঁর সৃষ্ট জীবের সমসংখ্যক, আল্লাহ তা’আলা মহাপবিত্র এতদুভয়ের মধ্যকার সৃষ্টির সমসংখ্যক, আল্লাহ তা’আলা মহাপবিত্র তিনি যেসকল প্রাণী সৃষ্টি করবেন তার সমসংখ্যক, অনুরূপ পরিমাণ আল্লাহ তা’আলা মহান, অনুরূপ পরিমাণ আল্লাহ তা’আলার প্রশংসা, অনুরূপ সংখ্যকবার আল্লাহ তা’আলা ছাড়া কল্যাণ করার বা ক্ষতিসাধনের আর কোন শক্তি নেই”।
মুনকার, আর রাদ্দু আলা আত-তা’কীবিল হাছীস (২৩-৩২), মিশকাত (২৩১১), যঈফা(৮৩), আল কালিমুত তায়্যিব (১৩/৪), আবু ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান এবং সা’দ (রাঃ)-এর হাদীস হিসেবে গারীব।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩৫৬৮-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে এক মহিলার সামনে খেজুরের বিচি বা নুড়ি ছিল, যা দিয়ে তিনি তাসবীহ পড়তেন। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) তাকে আরও সহজ ও উত্তম পথের কথা জানান। শেখানো বাক্যগুলোর মূল হলো—আকাশের সৃষ্টি, পৃথিবীর সৃষ্টি, দুটির মাঝের সৃষ্টি এবং ভবিষ্যতে যা সৃষ্টি হবে—এসবের সংখ্যা পরিমাণ “সুবহানাল্লাহ” বলা। এরপর একই পরিমাণ “আল্লাহু আকবার”, “আলহামদুলিল্লাহ” এবং “লা হাওলা ওয়া লা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ” বলা। এখানে তাসবীহ, তাকবীর, হামদ এবং আল্লাহর সাহায্যের স্বীকারোক্তি একসাথে এসেছে। হাদিসের শিক্ষা হলো, জিকির শুধু সংখ্যার হিসাব নয়; অর্থ বুঝে আল্লাহকে স্মরণ করা বড় বিষয়। ব্যাখ্যায় অতিরিক্ত সওয়াবের দাবি না করে হাদিসের শেখানো শব্দগুলোই মূল রাখা উচিত।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- আল্লাহর তাসবীহ সহজ বাক্যেও ব্যাপক অর্থ বহন করতে পারে।
- সুবহানাল্লাহ, আল্লাহু আকবার ও আলহামদুলিল্লাহ—সবই বড় জিকির।
- জিকিরে সংখ্যা গোনার চেয়ে অর্থ ও মনোযোগও গুরুত্বপূর্ণ।
- আল্লাহর সাহায্য ছাড়া শক্তি নেই—এ বিশ্বাস জিকিরে প্রকাশ পায়।
