১০/২. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২৩৪৫-[২৩] - তাওবাহর দরজা কখন বন্ধ হবে
ক্ষমা ও তাওবা - দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
তাওবাহর দরজা ও সূর্য পশ্চিম দিক থেকে ওঠা
মিশকাতুল মাসাবীহ : ২৩৪৫-[২৩]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ২৩৪৫-[২৩]
وَعَنْ صَفْوَانَ بْنِ عَسَّالٍ قَالَ: قَالَ رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ: إِنَّ اللّٰهَ تَعَالٰى جَعَلَ بِالْمَغْرِبِ بَابًا عَرْضُه مَسِيرَةُ سَبْعِينَ عَامًا لِلتَّوْبَةِ لَا يُغْلَقُ مَا لَمْ تَطْلُعِ الشَّمْسُ مِنْ قِبَلِه وَذٰلِكَ قَوْلُ اللّٰهِ عَزَّ وَجَلَّ: ﴿يَوْمَ يَأْتِىْ بَعْضُ اٰيَاتِ رَبِّكَ لَا يَنْفَعُ نَفْسًا إِيْمَانُهَا لَمْ تَكُنْ اٰمَنَتْ مِنْ قَبْلُ﴾. رَوَاهُ التِّرْمِذِىُّ وَابْن مَاجَهْ
সাফওয়ান ইবনু আসসাল (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আল্লাহ তা‘আলা তাওবাহ্ কবূলের জন্য পশ্চিম দিকে একটি দরজা খুলে রেখেছেন, যার প্রশস্ততা সত্তর বছরের পথ। সূর্য পশ্চিম দিকে উদয় না হওয়া পর্যন্ত এ দরজা বন্ধ করা হবে না।আর এটাই হলো আল্লাহ তা‘আলার এ বাণীর ব্যাখ্যাঃ ‘‘যেদিন (কিয়ামাতের পূর্বে) তোমার ‘রবের’ কোন বিশেষ নিদর্শন এসে পৌঁছবে, সেদিন এ ঈমান তার কোন কাজে আসবে না। কেননা এ নিদর্শন আসার আগে ঈমান আনেনি’’- (সূরা আল আন্‘আম ৬ : ১৫৮)।(তিরমিযী, ইবনু মাজাহ)[১]
[১] হাসান : তিরমিযী ৩৫৩৬, সহীহ আত্ তারগীব ৩১৩৭, সহীহ আল জামি‘ ৪১৯১, আহমাদ ১৮১০০, মু‘জামুল কাবীর লিত্ব ত্ববারানী ৭৩৮৩।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২৩৪৫-[২৩]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে তাওবাহর দরজার কথা বলা হয়েছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জানিয়েছেন, আল্লাহ তাওবাহ কবূলের জন্য পশ্চিম দিকে একটি দরজা খুলে রেখেছেন, যার প্রশস্ততা সত্তর বছরের পথ। সূর্য পশ্চিম দিক থেকে উদয় না হওয়া পর্যন্ত সেই দরজা বন্ধ করা হবে না। এরপর কুরআনের আয়াতের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে বড় নিদর্শন এসে যাওয়ার পর ঈমান আনার কথা বলা হয়েছে। এই হাদিসের মূল শিক্ষা হলো, তাওবাহর সুযোগ আছে, কিন্তু তা সীমাহীন সময়ের জন্য নয়। তাই গুনাহ মাফ, ইস্তিগফার ও আল্লাহর কাছে ফেরার কাজকে পিছিয়ে রাখা উচিত নয়। তাওবাহর দরজা খোলা থাকা বান্দার জন্য বড় রহমত, আর সময় থাকতে ফিরে আসা বুদ্ধিমানের কাজ।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- তাওবাহর দরজা এখন খোলা আছে—এটি আল্লাহর রহমত।
- সূর্য পশ্চিম দিক থেকে ওঠার আগে তাওবাহর সুযোগ রয়েছে।
- সময় থাকতে আল্লাহর কাছে ফিরে আসা উচিত।
- বড় নিদর্শন আসার পর ঈমান ও তাওবাহর বিষয়ে সতর্কতা আছে।
