১০/২. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২৩৪৮-[২৬] - আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ নয়
ক্ষমা ও তাওবা - দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ না হওয়ার হাদিস
মিশকাতুল মাসাবীহ : ২৩৪৮-[২৬]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ২৩৪৮-[২৬]
وَعَنْ أَسْمَاءَ بِنْتِ يَزِيدَ قَالَتْ: سَمِعْتُ رَسُوْلَ اللّٰهِ ﷺ يقْرَأ: ﴿يَاعِبَادِىَ الَّذِىْ أَسْرَفُوْا عَلَى انْفُسِهِمْ لَا تَقْنَطُوْا مِنْ رَّحْمَةِ اللّٰهِ إِنَّ اللّٰهَ يَغْفِرُ الذُّنُوْبَ جَمِيْعًا﴾. وَلَا يُبَالِىْ. رَوَاهُ أَحْمَدُ وَالتِّرْمِذِىُّ وَقَالَ هٰذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ وَفِىْ شَرْحِ السُّنَّةِ يَقُولُ: بَدَلَ: يَقْرَأ
আসমা বিনতু ইয়াযীদ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে কোরআন মাজীদের এ আয়াত পড়তে শুনেছি, ‘‘ইয়া- ‘ইবা-দিয়াল্লাযী আসরফূ ‘আলা- আনফুসিহিম লা- তাকনাত্বূ মির্ রহমাতিল্লা-হি, ইন্নাল্ল-হা ইয়াগফিরুয্ যুনূবা জামী‘আ-’’ (অর্থাৎ- ‘‘হে বান্দারা! যারা নিজেদের ওপর অবিচার করেছ, তোমরা আল্লাহর রহমত হতে নিরাশ হয়ো না। অবশ্যই আল্লাহ তা‘আলা সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে দেন’’- সূরা আয্ যুমার ৩৯ : ৫৩।)তিনি (ﷺ) বলেন, আর এ ব্যাপারে আল্লাহ কারো পরোয়া করেন না। (আহমদ, তিরমিযী; ইমাম তিরমিযী বলেন, হাদীসটি হাসান গারীব; আর শারহুস্ সুন্নাহ্’য় রয়েছে يَقْرَأ (পড়েছেন) এর পরিবর্তে يَقُولُ (বলেছেন)। [১]
[১] সানাদ দুর্বল : তিরমিযী ৩২৩৭, আহমাদ ২৭৫৬৯, মু‘জামুল কাবীর লিত্ব ত্ববারানী ৪১১, মুসতাদারাক লিল হাকিম ২৯৮২, শারহুস্ সুন্নাহ ৪১৮৭। কারণ এর সানাদে শাহর ইবনু হাওসাব দুর্বল রাবী।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২৩৪৮-[২৬]-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় আসমা বিনতু ইয়াযীদ রাযিয়াল্লাহু আনহা বলেন, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সূরা আয্ যুমারের আয়াত পড়তে শুনেছেন: হে বান্দারা! যারা নিজেদের ওপর অবিচার করেছ, আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয় আল্লাহ সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে দেন। এরপর বর্ণনায় এসেছে, এ ব্যাপারে আল্লাহ কারও পরোয়া করেন না। এই হাদিসের মূল শিক্ষা হলো গুনাহের কারণে হতাশ হয়ে বসে থাকা ঠিক নয়। তাওবাহ, ইস্তিগফার এবং আল্লাহর কাছে ফিরে আসার দরজা আছে। তবে আয়াতের অর্থ গুনাহকে সহজ করা নয়; বরং যারা ভুল করেছে তাদের জন্য আল্লাহর রহমতের আশা জাগানো। মুমিনের উচিত গুনাহ বুঝে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- গুনাহের কারণে আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হওয়া উচিত নয়।
- নিজের ওপর অবিচার করলেও তাওবাহর পথ খোলা থাকে।
- ক্ষমার আশা মানুষকে আল্লাহর দিকে ফিরিয়ে আনে।
- এই আয়াত গুনাহ চালিয়ে যাওয়ার নয়, বরং ফিরে আসার ডাক।
