১০/২. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২৩৬০-[৩৮] - শির্কের পরও তাওবাহর আশা
ক্ষমা ও তাওবা - তৃতীয় অনুচ্ছেদ
আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ নয়: সূরা যুমার ৫৩
মিশকাতুল মাসাবীহ : ২৩৬০-[৩৮]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ২৩৬০-[৩৮]
وَعَنْ ثَوْبَانَ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُوْلَ اللّٰهِ ﷺ يَقُولُ: «مَا أُحِبُّ أَنَّ لِى الدُّنْيَا بِهٰذِهِ الْاٰيَةِ ﴿يَا عِبَادِىَ الَّذِينَ أَسْرَفُوْا عَلٰى أنْفُسِهِمْ لَا تَقْنَطُوْا﴾ الْاٰيَةَ» فَقَالَ رَجُلٌ: فَمَنْ أَشْرَكَ؟ فَسَكَتَ النَّبِىِّ ﷺ ثُمَّ قَالَ: «أَلَا وَمَنْ أَشْرَكَ» ثَلَاثَ مَرَّاتٍ
সাওবান (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি, ‘‘ইয়া- ‘ইবা-দিয়াল্লাযীনা আসরফূ ‘আলা- আনফুসিহিম, লা- তাকনাত্বূ ......’’ (অর্থাৎ- হে আমার বান্দাগণ! যারা নিজেদের ওপর অবিচার করেছো, তোমরা আল্লাহর রহমত হতে নিরাশ হয়ো না’’- (সূরা আয্ যুমার ৩৯ : ৫৩)।এ আয়াতের পরিবর্তে সারা দুনিয়া হাসিল হওয়াকেও আমি পছন্দ করি না। তখন এক ব্যক্তি বলে উঠল, যে ব্যক্তি শিরক করেছে? নবী (ﷺ) তখন কিছুক্ষণ নীরব থাকলেন। অতঃপর তিনবার করে বললেন, যে ব্যক্তি শিরক করেছে তার ব্যাপারেও।[১]
[১] য‘ঈফ : আহমাদ ২২৩৬২, য‘ঈফাহ্ ৪৪০৯, য‘ঈফ আল জামি‘ ৪৯৮০, শু‘আবূল ঈমান ৬৭৩৫, মু‘জামুল আওসাত লিত্ব ত্ববারানী ১৮৯০। কারণ এর সানাদে আবূ ‘আবদুর রহমান আল জাবালানী একজন মাজহূলুল হাল রাবী এবং ইবনু লাহ্ই‘আহ্ একজন দুর্বল রাবী।
অনুবাদের উৎস
- প্রকাশক:
- হাদিস একাডেমী
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২৩৬০-[৩৮]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে সাওবান রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেন, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সূরা আয্ যুমারের আয়াত সম্পর্কে বলতে শুনেছেন: হে আমার বান্দাগণ! যারা নিজেদের ওপর অবিচার করেছ, তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, এই আয়াতের বদলে সারা দুনিয়া পাওয়া তিনি পছন্দ করতেন না। তখন একজন জিজ্ঞেস করল, যে ব্যক্তি শির্ক করেছে তার ব্যাপারেও? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিছুক্ষণ নীরব থাকলেন, তারপর তিনবার বললেন, শির্ক করেছে তার ব্যাপারেও। এই বর্ণনার মূল শিক্ষা হলো, আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হওয়া নয়; বরং গুনাহ ছেড়ে তাওবাহ করে আল্লাহর কাছে ফিরে আসা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হওয়া উচিত নয়।
- নিজেদের ওপর অবিচারকারী বান্দাদেরও আল্লাহর দিকে ফেরার ডাক আছে।
- শির্কের মতো ভয়ংকর অপরাধের পরও তাওবাহর দরজা নিয়ে আশা দেখানো হয়েছে।
- ক্ষমার আশা গুনাহ চালিয়ে যাওয়ার নয়, বরং ফিরে আসার কারণ হওয়া উচিত।
