১০/২. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২৩৬১-[৩৯] - শিরক ছাড়া ক্ষমার আশা
ক্ষমা ও তাওবা - তৃতীয় অনুচ্ছেদ
শিরক ছাড়া আল্লাহর ক্ষমার আশা
মিশকাতুল মাসাবীহ : ২৩৬১-[৩৯]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ২৩৬১-[৩৯]
وَعَنْ أَبِىْ ذَرٍّ قَالَ: قَالَ رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ: «إِنَّ اللّٰهَ تَعَالٰى لَيَغْفِرُ لِعَبْدِه مَا لَمْ يَقَعِ الْحِجَابُ. قَالُوا: يَا رَسُوْلَ اللّٰهِ وَمَا الْحِجَابُ؟ قَالَ: أَنْ تَمُوتَ النَّفْسُ وَهِىَ مُشْرِكَةٌرَوَى الْأَحَادِيْثَ الثَّلَاثَةَ أَحْمَدُ وَرَوَى الْبَيْهَقِىُّ الْأَخِيرَ فِىْ كِتَابِ الْبَعْثِ وَالنُّشُوْرِ
আবূ যার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আল্লাহ তা‘আলা তাঁর বান্দাকে ক্ষমা করে দেন, যতক্ষণ পর্যন্ত (আল্লাহ ও তাঁর বান্দার মধ্যে) পর্দা না পড়ে। সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! পর্দা কী? তিনি (ﷺ) বললেন, কোন ব্যক্তির মুশরিক হয়ে মৃত্যুবরণ করা। উপরোক্ত তিনটি হাদীসই বর্ণনা করেছেন ইমাম আহমদ, আর শেষ হাদীসটি ইমাম বায়হাক্বী বর্ণনা করেছেন ‘‘কিতাবিল বা‘সি ওয়ান্ নুশূর’’-এ।[১]
[১] য‘ঈফ : আহমাদ ২১৫২২, ইবনু হিব্বান ৬২৭, মুসতাদারাক লিল হাকিম ৭৬৬০। কারণ এর সানাদে ‘উমার ইবনু নু‘আয়ম এবং তার উস্তায উমামাহ্ ইবনু সালমান উভয়েই মাজহূল রাবী।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২৩৬১-[৩৯]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আল্লাহর ক্ষমা ও তাওহীদের গুরুত্ব খুব স্পষ্টভাবে এসেছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ তাঁর বান্দাকে ক্ষমা করে দেন, যতক্ষণ পর্যন্ত আল্লাহ ও বান্দার মাঝে পর্দা পড়ে না। সাহাবীগণ জানতে চাইলেন, সেই পর্দা কী? তিনি বললেন, কোনো ব্যক্তির মুশরিক অবস্থায় মৃত্যু। এখানে মূল শিক্ষা হলো, বান্দা ভুল করতে পারে, গুনাহ করতে পারে, কিন্তু আল্লাহর রহমত ও ক্ষমার দরজা খোলা থাকে। তবে আল্লাহর সঙ্গে কাউকে শরীক করা এবং সেই অবস্থায় মৃত্যু হওয়া সবচেয়ে বড় বাধা। তাই তাওহীদ, ঈমান, শিরক থেকে বাঁচা এবং আল্লাহর দিকে ফিরে আসা—এই হাদিসের প্রধান বার্তা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- আল্লাহর ক্ষমার আশা রাখতে হবে, তবে শিরক থেকে খুব সতর্ক থাকতে হবে।
- মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তাওহীদের ওপর থাকা মুমিনের সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা।
- গুনাহের কারণে হতাশ না হয়ে আল্লাহর দিকে ফিরে আসা উচিত।
