১০/২. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২৩৪৭-[২৫] - কারও ক্ষমা নিয়ে চূড়ান্ত কথা নয়
ক্ষমা ও তাওবা - দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
আল্লাহর রহমত নিয়ে চূড়ান্ত রায় না দেওয়ার শিক্ষা
মিশকাতুল মাসাবীহ : ২৩৪৭-[২৫]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ২৩৪৭-[২৫]
وَعَنْ أَبِىْ هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ: «إِنَّ رَجُلَيْنِ كَانَا فِىْ بَنِىْ إِسْرَائِيلَ مُتَحَابَّيْنِ أَحَدُهُمَا مُجْتَهِدٌ لِلْعِبَادَةِ وَالْاٰخَرُ يَقُولُ: مُذْنِبٌ فَجَعَلَ يَقُولُ: أَقْصِرْ عَمَّا أَنْتَ فِيهِ فَيَقُولُ خَلِّنِىْ وَرَبِّىْ حَتّٰى وَجَدَه يَوْمًا عَلٰى ذَنْبٍ اسْتَعْظَمَه فَقَالَ: أَقْصِرْ فَقَالَ: خَلِّنِىْ وَرَبِّىَ أَبُعِثْتَ عَلَىَّ رَقِيبًا؟ فَقَالَ: وَاللّٰهِ لَا يَغْفِرُ اللّٰهُ لَكَ أَبَدًا وَلَا يُدْخِلُكَ الْجَنَّةَ فَبَعَثَ اللّٰهُ إِلَيْهِمَا مَلَكًا فَقَبَضَ أَرْوَاحَهُمَا فَاجْتَمَعَا عِنْدَه فَقَالَ لِلْمُذْنِبِ: اُدْخُلِ الْجَنَّةَ بِرَحْمَتِىْ وَقَالَ لِلْاٰخَرِ: أَتَسْتَطِيعُ أَنْ تَحْظِرَ عَلٰى عَبْدِىْ رَحْمَتِىْ؟ فَقَالَ: لَا يَا رَبِّ قَالَ: اذْهَبُوْا بِه إِلَى النَّارِ». رَوَاهُ أَحْمَدُ
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ বানী ইসরাঈলের মধ্যে দুই ব্যক্তি পরস্পর বন্ধু ছিল। তাদের একজন ছিল বড় ‘আবিদ আর অন্যজন ছিল গুনাহগার। ‘আবিদ তাকে বলত, তুমি যেসব (গুনাহের) কাজে লিপ্ত আছো তা হতে বিরত থাক। গুনাহগার বলত, আমাকে আমার ‘রবের’ কাছে ছেড়ে দাও। পরিশেষে একদিন ‘আবিদ গুনাহগার ব্যক্তিকে এমন একটি বড় গুনাহের কাজে লিপ্ত পেলো, যা তার কাছে খুবই গুরুতর বলে মনে হল এবং বলল, বিরত থাকো। সে বলল, আমাকে আমার ‘রবের’ কাছে ছেড়ে দাও। তোমাকে কী আমার জন্য পাহারাদার করে পাঠানো হয়েছে? ‘আবিদ ব্যক্তি বলল, আল্লাহর কসম! তোমাকে কক্ষনো আল্লাহ ক্ষমা করবেন না এবং জান্নাতে প্রবেশ করাবেন না।অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা তাদের কাছে একজন মালাক (ফেরেশতা) পাঠালেন। সে তাদের উভয়ের রূহ কবয করল। তারা উভয়েই আল্লাহর দরবারে উপস্থিত হলো। তখন গুনাহগার ব্যক্তিকে আল্লাহ বললেন, আমার রহমাতের মাধ্যমে তুমি জান্নাতে প্রবেশ করো। আর ‘আবিদ ব্যক্তিকে বললেন, তুমি কি আমাকে আমার বান্দার প্রতি রহম করতে বাধা দিতে পারো? সে বলল, ‘না, হে রব’। তখন আল্লাহ বললেন, একে জাহান্নামে প্রবেশ করাও। (আহমাদ)[১]
[১] সহীহ : আবূ দাঊদ ৪৯০১, আহমাদ ৮২৯২, শু‘আবূল ঈমান ৬২৬২, ইবনু হিব্বান ৫৭১২, সহীহ আল জামি‘ ৪৪৫৫।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২৩৪৭-[২৫]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে বানী ইসরাঈলের দুই বন্ধুর ঘটনা এসেছে। একজন ছিল বেশি ইবাদতকারী, অন্যজন ছিল গুনাহগার। ইবাদতকারী বন্ধু তাকে বারবার গুনাহ ছাড়তে বলত। কিন্তু এক সময় সে বলে ফেলল, আল্লাহ তোমাকে কখনো ক্ষমা করবেন না এবং জান্নাতে প্রবেশ করাবেন না। এরপর আল্লাহ তাদের রূহ কবয করালেন। গুনাহগারকে আল্লাহ তাঁর রহমতে জান্নাতে প্রবেশ করালেন, আর অন্যজনকে জাহান্নামে পাঠানোর নির্দেশ দিলেন। এই হাদিসের শিক্ষা খুব গভীর: কাউকে গুনাহ থেকে বারণ করা ভালো, কিন্তু আল্লাহর রহমত নিজের হাতে আছে মনে করে কারও মাগফিরাত নিয়ে চূড়ান্ত রায় দেওয়া ঠিক নয়। তাওবাহ, গুনাহ মাফ ও আল্লাহর রহমত—সব আল্লাহর অধীনে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- গুনাহ থেকে কাউকে বারণ করা যায়, কিন্তু আল্লাহর রহমত নিয়ে চূড়ান্ত রায় দেওয়া যায় না।
- কারও মাগফিরাত হবে না—এমন কথা বলা বিপজ্জনক।
- আল্লাহ তাঁর রহমতে যাকে চান ক্ষমা করতে পারেন।
- ইবাদতকারীরও নিজের ভাষা ও মনোভাব নিয়ে সতর্ক থাকা দরকার।
