১০/২. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২৩৫৩-[৩১] - আস্তাগফিরুল্লাহ দোয়ার ফজিলত
ক্ষমা ও তাওবা - দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
আস্তাগফিরুল্লাহাল্লাযী দোয়ার অর্থ ও শিক্ষা
মিশকাতুল মাসাবীহ : ২৩৫৩-[৩১]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ২৩৫৩-[৩১]
وَعَن بِلَال بْنِ يَسَارِ بْنِ زَيْدٍ مَوْلَى النَّبِىِّ ﷺ قَالَ: حَدَّثَنِىْ أَبِىْ عَنْ جَدِّىْ أَنَّه سَمِعَ رَسُوْلَ اللّٰهِ ﷺ يَقُولُ: «مَنْ قَالَ: أَسْتَغْفِرُ اللّٰهَ الَّذِىْ لَا إِلٰهَ إِلَّا هُوَ الْحَىُّ الْقَيُّوْمَ وَأَتُوبُ إِلَيْهِ غُفِرَ لَه وَإِنْ كَانَ قَدْ فَرَّ مِنَ الزَّحْفِ». رَوَاهُ التِّرْمِذِىُّ وَأَبُو دَاوُدَ لَكِنَّه عِنْدَ أَبِىْ دَاوُدَ هِلَالُ بْنُ يَسَارٍ وَقَالَ التِّرْمِذِىُّ: هٰذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ
বিলাল ইবনু ইয়াসার ইবনু যায়দ হতে বর্ণিতঃ
বলেন, আমার পিতা আমার দাদার মাধ্যমে বলেন, আমার দাদা যায়দ বলেছেন, তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছেন। যে ব্যক্তি বলল, ‘ ‘আস্তাগফিরুল্ল-হাল্লাযী লা- ইলা-হা ইল্লা- হুওয়াল হাইয়্যুল কইয়্যূম ওয়া আতূবু ইলায়হি’’ (অর্থাৎ- আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই, তিনি ছাড়া প্রকৃতপক্ষে কোন মা‘বূদ নেই, তিনি চিরঞ্জীব, চিরস্থায়ী এবং তাঁর কাছে তাওবাহ্ করি।)। আল্লাহ তা‘আলা তাকে ক্ষমা করবেন, যদিও সে যুদ্ধের ময়দান হতে পালিয়ে যেয়ে থাকে। (তিরমিযী, আবূ দাঊদ। তবে আবূ দাঊদ বলেন, বর্ণনাকারীর নাম হলো হিলাল ইবনু ইয়াসার। তিরমিযী বলেন, হাদীসটি গরীব)[১]
[১] সহীহ লিগয়রিহী : আবূ দাঊদ ১৫১৭, তিরমিযী ৩৫৭৭, রিয়াযুস্ সলিহীন ১৮৮৩, সহীহ আত্ তারগীব ১৬২২।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২৩৫৩-[৩১]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্তিগফারের দোয়া এসেছে: আস্তাগফিরুল্লাহাল্লাযী লা ইলাহা ইল্লা হুওয়াল হাইয়্যুল কইয়্যূম ওয়া আতূবু ইলাইহি। অর্থ হলো, আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই; তিনি ছাড়া প্রকৃত কোনো মা‘বূদ নেই, তিনি চিরঞ্জীব ও চিরস্থায়ী, আর আমি তাঁর কাছে তাওবাহ করি। হাদিসে বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি এ কথা বলে, আল্লাহ তাকে ক্ষমা করবেন, যদিও সে যুদ্ধের ময়দান থেকে পালিয়ে থাকে। বর্ণনার শেষে তিরমিযীর “গরীব” মন্তব্যও এসেছে। এই দোআতে তাওহীদ, ইস্তিগফার এবং তাওবাহ একসঙ্গে আছে। তাই গুনাহ মাফের জন্য শুধু মুখের শব্দ নয়, আল্লাহর একত্বে বিশ্বাস রেখে তাঁর কাছে ফিরে আসার মানসিকতা জরুরি।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ইস্তিগফারের দোআতে আল্লাহর একত্বের স্বীকারোক্তি আছে।
- ক্ষমা চাওয়ার সঙ্গে তাওবাহ করার কথাও এসেছে।
- গুরুতর গুনাহের ক্ষেত্রেও আল্লাহর কাছে মাগফিরাত চাইতে হবে।
- দোআটি অর্থ বুঝে পড়লে তাওবাহর অনুভূতি বাড়ে।
