১০/২. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২৩৫৪-[৩২] - সন্তানের ইস্তিগফারে পিতার মর্যাদা
ক্ষমা ও তাওবা - তৃতীয় অনুচ্ছেদ
সন্তানের ইস্তিগফারে জান্নাতে মর্যাদা বৃদ্ধি
মিশকাতুল মাসাবীহ : ২৩৫৪-[৩২]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ২৩৫৪-[৩২]
عَنْ أَبِىْ هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ: «إِنَّ اللّٰهَ عَزَّ وَجَلَّ لَيَرْفَعُ الدَّرَجَةَ لِلْعَبْدِ الصَّالِحِ فِى الْجَنَّةِ فَيَقُولُ: يَا رَبِّ أَنّٰى لِىْ هٰذِه؟ فَيَقُولُ: بِاِسْتِغْفَارِ وَلَدِكَ لَكَ». رَوَاهُ أَحْمَدُ
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আল্লাহ তা‘আলা জান্নাতে তাঁর কোন নেক বান্দার মর্যাদা বাড়িয়ে দেবেন। এ অবস্থা দেখে সে (নেক বান্দা) বলবে, হে আমার রব! আমার এ মর্যাদা কিভাবে বৃদ্ধি হলো? তখন আল্লাহ তা‘আলা বলবেন, তোমার সন্তান-সন্ততি তোমার জন্য মাগফিরাত কামনা করার কারণে। (আহমাদ)[১]
[১] সহীহ : ইবনু মাজাহ ৩৬৬০, ইবনু আবী শায়বাহ্ ২৯৭৪০, আহমাদ ১০৬১০, সহীহাহ্ ১৫৯৮, সহীহ আল জামি‘ ১৬১৭।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২৩৫৪-[৩২]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে সন্তানের দোআ ও ইস্তিগফারের একটি সুন্দর প্রভাব এসেছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ জান্নাতে তাঁর কোনো নেক বান্দার মর্যাদা বাড়িয়ে দেবেন। তখন সে বান্দা বলবে, হে আমার রব! আমার এই মর্যাদা কীভাবে বৃদ্ধি হলো? আল্লাহ বলবেন, তোমার সন্তান তোমার জন্য মাগফিরাত কামনা করেছে, সেই কারণে। এখানে জীবিত সন্তানের পক্ষ থেকে পিতা-মাতার জন্য ইস্তিগফারের শিক্ষা স্পষ্ট। মৃত বা অনুপস্থিত বাবা-মার জন্যও ক্ষমা চাওয়া অর্থপূর্ণ আমল। এই হাদিস পরিবারকে শুধু দুনিয়ার সম্পর্ক হিসেবে নয়, আখিরাতের কল্যাণের সম্পর্ক হিসেবেও ভাবতে শেখায়। সন্তানের দোআ, মাগফিরাত ও আল্লাহর রহমত—এই তিনটি বিষয় এখানে একসঙ্গে এসেছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সন্তানের ইস্তিগফার পিতা-মাতার জন্য উপকারী হতে পারে।
- জান্নাতে মর্যাদা বৃদ্ধি আল্লাহর দান।
- বাবা-মার জন্য ক্ষমা চাওয়া একটি মূল্যবান আমল।
- পরিবারের সম্পর্ক আখিরাতের কল্যাণের সঙ্গেও যুক্ত।
