১০/৪. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২৩৯৮-[১৮] - সকাল-সন্ধ্যায় তাওহীদের সাক্ষ্য
সকাল সন্ধ্যা ও শয্যা গ্রহণকালে যা বলবে - দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
তাওহীদ ও নবুয়তের সাক্ষ্য: সকাল-সন্ধ্যার দোয়া
মিশকাতুল মাসাবীহ : ২৩৯৮-[১৮]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ২৩৯৮-[১৮]
وَعَنْ أَنَسٍ قَالَ: قَالَ رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ: «مَنْ قَالَ حِينَ يُصْبِحُ: اَللّٰهُمَّ أَصْبَحْنَا نُشْهِدُكَ وَنُشْهِدُ حَمَلَةَ عَرْشِكَ وَمَلَائِكَتَكَ وَجَمِيعَ خَلْقِكَ أَنَّكَ أَنْتَ اللّٰهُ لَا إِلٰهَ إِلَّا أَنْتَ وَحْدَكَ لَا شَرِيْكَ لَكَ وَأَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُكَ وَرَسُولُكَ إِلَّا غَفَرَ اللّٰهُ لَه مَا أَصَابَه فِىْ يَوْمِه ذٰلِكَ مِنْ ذَنْبٍ». رَوَاهُ التِّرْمِذِىُّ وَأَبُو دَاوُدَ وَقَالَ التِّرْمِذِىُّ: هٰذَا حَدِيْثٌ غَرِيْبٌ
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি ভোরে (ঘুম থেকে) উঠে বলবে, ‘‘আল্ল-হুম্মা আসবাহনা- নুশহিদুকা, ওয়া নুশহিদু হামালাতা ‘আরশিকা, ওয়া মালা-য়িকাতাকা, ওয়া জামী‘আ খলক্বিকা, আন্নাকা আনতাল্ল-হু, লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হু আন্তা ওয়াহদাকা, লা- শারীকা লাকা, ওয়া আন্না মুহাম্মাদান ‘আবদুকা ওয়া রাসূলুকা’’ (অর্থাৎ- হে আল্লাহ! আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি ভোরে তোমাকে এবং তোমার ‘আরশের বহনকারীদেরকে, তোমার মালায়িকাহকে [ফেরেশতাগণকে], তোমার সমস্ত সৃষ্টিকে। নিশ্চয়ই তুমিই আল্লাহ! তুমি ছাড়া প্রকৃতপক্ষে আর কোন মা‘বূদ নেই। তুমি একক, তোমার কোন শারীক নেই এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তোমার বান্দা ও রাসূল।)।নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা ঐ দিনে তার যে গুনাহ হবে তাকে ক্ষমা করে দেবেন। আর সে যদি এ দোয়া সন্ধ্যায় পড়ে তাহলে নিশ্চয়ই আল্লাহ তাকে ঐ রাতে যে গুনাহ সংঘটিত হবে তা ক্ষমা করে দেবেন।(তিরমিযী, আবূ দাঊদ; ইমাম তিরমিযী হাদীসটিকে গরীব বলেন)[১]
[১] য‘ঈফ : আবূ দাঊদ ৫০৭৮, তিরমিযী ৩০৫১, য‘ঈফাহ্ ১০৪১, য‘ঈফ আল জামি‘ ৫৭২৯। কারণ এর সানাদে ‘আবদুর রহমান ইবনু ‘আবদুল মাজীদ একজন মাজহূল রাবী। আর আনাস (রাযিঃ) হতে মাকহূল-এর শ্রবণ নিয়ে মতবিরোধ রয়েছে। ইমাম বুখারী (রহঃ) এটিকে নাকচ করেছেন।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২৩৯৮-[১৮]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ভোরে বলার একটি দোয়া শিখিয়েছেন। দোয়ায় আল্লাহকে সাক্ষী রাখা হয়েছে, তাঁর আরশ বহনকারী ফেরেশতাদের, অন্যান্য ফেরেশতা এবং সব সৃষ্টিকেও সাক্ষী রাখা হয়েছে। এরপর ঘোষণা করা হয়েছে, তুমিই আল্লাহ; তুমি ছাড়া প্রকৃত কোনো মা‘বূদ নেই; তুমি এক, তোমার কোনো শরীক নেই। আরও ঘোষণা করা হয়েছে, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর বান্দা ও রাসূল। বর্ণনায় এসেছে, সকালে বললে ঐ দিনের গুনাহ ক্ষমা করা হবে এবং সন্ধ্যায় বললে ঐ রাতের গুনাহ ক্ষমা করা হবে। ইমাম তিরমিযী হাদিসটিকে গরীব বলেছেন—এ তথ্যটিও বর্ণনায় উল্লেখ আছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- দোয়ায় তাওহীদ ও নবুয়তের সাক্ষ্য একসঙ্গে এসেছে।
- আল্লাহর আরশ বহনকারী ফেরেশতা, ফেরেশতা ও সৃষ্টিকে সাক্ষী রাখার কথা বলা হয়েছে।
- সকাল ও সন্ধ্যায় এই দোয়ার সঙ্গে গুনাহ মাফের ফজিলত বর্ণিত হয়েছে।
- হাদিসের মান সম্পর্কে তিরমিযীর মন্তব্যও বর্ণনায় রাখা হয়েছে।
