১১/০. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২৫১০-[৬] - শিশুর হজ্জ ও অভিভাবকের সওয়াব
হজ্জ - প্রথম অনুচ্ছেদ
مناسكশব্দটি বহুবচন, এর একবচনمنسك। ইবনু জারীর বলেনঃ ‘আরাবীمنسكঐ স্থানকে বলা হয় যেখানে লোকজন কল্যাণের উদ্দেশে একত্রিত হয়। হজের কার্যসমূহকেمناسكএজন্যই বলা হয়ে থাকে যে, হজ্জের কাজ সম্পাদনের জন্য লোকজন একই জায়গায় বারবার একত্রিত হয়।الحج-এর শাব্দিক অর্থ হলো ‘কোন কিছুকে উদ্দেশ্য করা’। ইসলামী শারী‘আতের পরিভাষায় নির্দিষ্ট সময়ে, নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে, নির্দিষ্ট কাজের মাধ্যমে, কাবা ঘরের সম্মানের উদ্দেশে তা যিয়ারত করাকে হজ্জ/হজ বলে।কুরআন-সুন্নাহ ও ইজমা দ্বারা হজ্জ/হজ ফরয হওয়া প্রমাণিত। এর অস্বীকারকারী কাফির এতে কোন দ্বিমত নেই। জীবনে তা শর্তসাপেক্ষে মাত্র একবারই ফরয।হজ্জ/হজ ফরয হওয়ামাত্রই তা সম্পাদন করা ওয়াজিব না-কি তা বিলম্বে পালন করার অবকাশ রয়েছে- এ বিষয়ে ‘উলামাগণের মাঝে মতপার্থক্য রয়েছে। ইমাম মালিক, আহমাদ, আবূ ইউসুফ এবং মুযানী-এর মতে তা ফরয হওয়ামাত্রই আদায় করা ওয়াজিব, বিলম্ব করার অবকাশ নেই। পক্ষান্তরে ইমাম শাফি‘ঈ, সাওরী, আওযা‘ঈ ও মুহাম্মাদ ইবনুল হাসান এর মতে তা বিলম্বে আদায় করার অবকাশ রয়েছে। ইমাম আবূ হানীফা (রহঃ)-এর মতে ওজর ব্যতীত বিলম্বকারী গুনাহগার হবে।উত্তম কথা হলো এই যে, যথাসম্ভব দ্রুত হজ্জ/হজ সম্পাদন করা উচিত। কেননা মৃত্যু কখন আসবে তা কেউ জানে না, তাই ফরয হওয়ার পরে তা বিলম্বে আদায় করতে গিয়ে তা আদায় করার পূর্বেই মৃত্যু উপস্থিত হলে, আর তার পক্ষ থেকে তা আদায় করা না হলে নিশ্চিত গুনাহের মধ্যে নিপতিত হতে হবে। আর তা দ্রুত আদায় করা মধ্যেই তা থেকে নিষ্কৃতি পাওয়ার একমাত্র উপায়। হজ্জ কখন ফরয হয়েছে তা নিয়েও ‘আলিমদের মাঝে মতভেদ রয়েছে। তবে প্রসিদ্ধ অভিমত হলো নবম হিজরী সালে হজ্জ ফরয করা হয়েছে।
শিশুর হজ্জ: হজ্জ হবে, সওয়াব অভিভাবকের
মিশকাতুল মাসাবীহ : ২৫১০-[৬]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ২৫১০-[৬]
وَعَنْهُ قَالَ: إِنَّ النَّبِىَّ ﷺ لَقِىَ رَكْبًا بِالرَّوْحَاءِ فَقَالَ: «مَنِ الْقَوْمُ؟» قَالُوا: الْمُسْلِمُونَ. فَقَالُوا: مَنْ أَنْتَ؟ قَالَ: «رَسُوْلُ اللّٰهِ» فَرَفَعَتْ إِلَيْهِ امْرَأَةٌ صَبِيًّا فَقَالَتْ: أَلِهٰذَا حَجٌّ؟ قَالَ: نَعَمْ وَلَكِ أَجْرٌ. رَوَاهُ مُسْلِمٌ
‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) (হজের সফরে) ‘রওহা’ নামক জায়গায় এক আরোহী দলের সাক্ষাৎ পেলেন। তিনি (ﷺ) জিজ্ঞেস করলেন, এরা কারা? তারা বললো, ‘আমরা মুসলিম’। অতঃপর তারা জিজ্ঞেস করলো, ‘আপনি কে?’ তিনি বললেন, (আমি) আল্লাহর রাসূল! তখন একজন মহিলা একটি শিশুকে উঠিয়ে ধরলেন এবং বললেন, (হে আল্লাহর রাসূল!) এর কি হজ হবে? তিনি (ﷺ) বললেন, হ্যাঁ, তবে সওয়াব হবে তোমার। (মুসলিম)[১]
[১] সহীহ : মুসলিম ১৩৩৬, আবূ দাঊদ ১৭৩৬, নাসায়ী ২৬৪৫, ইবনু আবী শায়বাহ্ ১৪৮৭৮, আহমাদ ১৮৯৮, ইরওয়া ৯৮৫।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২৫১০-[৬]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে হজ্জের সফরে রওহা নামক স্থানে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক আরোহী দলের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তারা নিজেদের মুসলিম বলে পরিচয় দেয় এবং নবীজি জানান যে তিনি আল্লাহর রাসূল। তখন একজন মহিলা একটি শিশুকে উঠিয়ে জিজ্ঞেস করেন, এই শিশুর কি হজ্জ হবে? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, হ্যাঁ, তবে সওয়াব হবে তোমার। এই হাদিস শিশুর হজ্জের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দেয়। শিশু নিজে দায়িত্বশীল প্রাপ্তবয়স্ক নয়, কিন্তু তাকে নিয়ে হজ্জ করানো হলে হজ্জের একটি মর্যাদা আছে এবং অভিভাবক সওয়াব পান। হাদিসটি অভিভাবকের আগ্রহ ও শিশুকে ইবাদতের পরিবেশে রাখার গুরুত্বও দেখায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- শিশুকে নিয়ে হজ্জ করলে তার হজ্জ হওয়ার কথা হাদিসে এসেছে।
- শিশুর হজ্জে অভিভাবকের জন্য সওয়াবের কথা বলা হয়েছে।
- ইবাদতের সফরে সন্তানকে সঙ্গে নেওয়া ভালো শিক্ষার মাধ্যম হতে পারে।
- ধর্মীয় প্রশ্ন সরাসরি জিজ্ঞেস করার সাহাবি নারীর আগ্রহ এখানে দেখা যায়।
