১১/০. অধ্যায়ঃ

মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২৫১৫-[১১] - মাহরাম ছাড়া নারীর সফর নয়

হজ্জ - প্রথম অনুচ্ছেদ

مناسكশব্দটি বহুবচন, এর একবচনمنسك। ইবনু জারীর বলেনঃ ‘আরাবীمنسكঐ স্থানকে বলা হয় যেখানে লোকজন কল্যাণের উদ্দেশে একত্রিত হয়। হজের কার্যসমূহকেمناسكএজন্যই বলা হয়ে থাকে যে, হজ্জের কাজ সম্পাদনের জন্য লোকজন একই জায়গায় বারবার একত্রিত হয়।الحج-এর শাব্দিক অর্থ হলো ‘কোন কিছুকে উদ্দেশ্য করা’। ইসলামী শারী‘আতের পরিভাষায় নির্দিষ্ট সময়ে, নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে, নির্দিষ্ট কাজের মাধ্যমে, কাবা ঘরের সম্মানের উদ্দেশে তা যিয়ারত করাকে হজ্জ/হজ বলে।কুরআন-সুন্নাহ ও ইজমা দ্বারা হজ্জ/হজ ফরয হওয়া প্রমাণিত। এর অস্বীকারকারী কাফির এতে কোন দ্বিমত নেই। জীবনে তা শর্তসাপেক্ষে মাত্র একবারই ফরয।হজ্জ/হজ ফরয হওয়ামাত্রই তা সম্পাদন করা ওয়াজিব না-কি তা বিলম্বে পালন করার অবকাশ রয়েছে- এ বিষয়ে ‘উলামাগণের মাঝে মতপার্থক্য রয়েছে। ইমাম মালিক, আহমাদ, আবূ ইউসুফ এবং মুযানী-এর মতে তা ফরয হওয়ামাত্রই আদায় করা ওয়াজিব, বিলম্ব করার অবকাশ নেই। পক্ষান্তরে ইমাম শাফি‘ঈ, সাওরী, আওযা‘ঈ ও মুহাম্মাদ ইবনুল হাসান এর মতে তা বিলম্বে আদায় করার অবকাশ রয়েছে। ইমাম আবূ হানীফা (রহঃ)-এর মতে ওজর ব্যতীত বিলম্বকারী গুনাহগার হবে।উত্তম কথা হলো এই যে, যথাসম্ভব দ্রুত হজ্জ/হজ সম্পাদন করা উচিত। কেননা মৃত্যু কখন আসবে তা কেউ জানে না, তাই ফরয হওয়ার পরে তা বিলম্বে আদায় করতে গিয়ে তা আদায় করার পূর্বেই মৃত্যু উপস্থিত হলে, আর তার পক্ষ থেকে তা আদায় করা না হলে নিশ্চিত গুনাহের মধ্যে নিপতিত হতে হবে। আর তা দ্রুত আদায় করা মধ্যেই তা থেকে নিষ্কৃতি পাওয়ার একমাত্র উপায়। হজ্জ কখন ফরয হয়েছে তা নিয়েও ‘আলিমদের মাঝে মতভেদ রয়েছে। তবে প্রসিদ্ধ অভিমত হলো নবম হিজরী সালে হজ্জ ফরয করা হয়েছে।

মাহরাম ছাড়া নারীর সফর সম্পর্কে হাদিসের নির্দেশ

মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ২৫১৫-[১১]

وَعَنْ أَبِىْ هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ: لَا تُسَافِرُ امْرَأَةٌ مَسِيرَةَ يَوْمٍ وَلَيْلَةٍ إِلَّا وَمَعَهَا ذُوْ مَحْرَمٍ. (مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)

আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কোন মহিলা কোন মাহরাম ব্যতীত একদিন ও এক রাতের পথও সফর করবে না। (বুখারী ও মুসলিম)[১]

[১] সহীহ : বুখারী ১০৮৮, মুসলিম ১৩৩৯, তিরমিযী ১১৭০, আহমাদ ৭২২২, সহীহ ইবনু খুযায়মাহ্ ২৫২৬, মুসতাদরাক লিল হাকিম ১৬১৬, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৫৪১০।

মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২৫১৫-[১১]-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কোনো মহিলা যেন মাহরাম ছাড়া একদিন ও এক রাতের পথও সফর না করে। বর্ণনাটি সংক্ষিপ্ত হলেও নারীর সফরে মাহরামের বিষয়টি স্পষ্ট করে। এখানে সফরের সময় নিরাপত্তা, সম্মান ও শরয়ি সীমা মানার শিক্ষা পাওয়া যায়। হাদিসটি হজ্জ সফরসহ যেকোনো সফরের ক্ষেত্রে আলোচনায় আসে, কারণ হজ্জও একটি দীর্ঘ সফর। তবে এই হাদিসের মূল বক্তব্য হলো নির্দিষ্ট দূরত্বের সফরে নারীর সঙ্গে মাহরাম থাকা। তাই বিষয়টি শুধু সামাজিক রীতি নয়, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নির্দেশ হিসেবে বিবেচিত। মুসলিম পরিবারে সফর পরিকল্পনার সময় এই শিক্ষা মনে রাখা দরকার।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • নারীর সফরে মাহরাম থাকার নির্দেশ এই হাদিসে এসেছে।
  • সফর পরিকল্পনায় শরয়ি সীমা ও নিরাপত্তা গুরুত্ব পায়।
  • হজ্জ বা অন্য সফরে পরিবারকে দায়িত্বশীল হতে হবে।
  • নববী নির্দেশ মানা মুমিনের আনুগত্যের অংশ।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন