১১/০. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২৫১৩-[৯] - নারীর সফরে মাহরামের গুরুত্ব
হজ্জ - প্রথম অনুচ্ছেদ
مناسكশব্দটি বহুবচন, এর একবচনمنسك। ইবনু জারীর বলেনঃ ‘আরাবীمنسكঐ স্থানকে বলা হয় যেখানে লোকজন কল্যাণের উদ্দেশে একত্রিত হয়। হজের কার্যসমূহকেمناسكএজন্যই বলা হয়ে থাকে যে, হজ্জের কাজ সম্পাদনের জন্য লোকজন একই জায়গায় বারবার একত্রিত হয়।الحج-এর শাব্দিক অর্থ হলো ‘কোন কিছুকে উদ্দেশ্য করা’। ইসলামী শারী‘আতের পরিভাষায় নির্দিষ্ট সময়ে, নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে, নির্দিষ্ট কাজের মাধ্যমে, কাবা ঘরের সম্মানের উদ্দেশে তা যিয়ারত করাকে হজ্জ/হজ বলে।কুরআন-সুন্নাহ ও ইজমা দ্বারা হজ্জ/হজ ফরয হওয়া প্রমাণিত। এর অস্বীকারকারী কাফির এতে কোন দ্বিমত নেই। জীবনে তা শর্তসাপেক্ষে মাত্র একবারই ফরয।হজ্জ/হজ ফরয হওয়ামাত্রই তা সম্পাদন করা ওয়াজিব না-কি তা বিলম্বে পালন করার অবকাশ রয়েছে- এ বিষয়ে ‘উলামাগণের মাঝে মতপার্থক্য রয়েছে। ইমাম মালিক, আহমাদ, আবূ ইউসুফ এবং মুযানী-এর মতে তা ফরয হওয়ামাত্রই আদায় করা ওয়াজিব, বিলম্ব করার অবকাশ নেই। পক্ষান্তরে ইমাম শাফি‘ঈ, সাওরী, আওযা‘ঈ ও মুহাম্মাদ ইবনুল হাসান এর মতে তা বিলম্বে আদায় করার অবকাশ রয়েছে। ইমাম আবূ হানীফা (রহঃ)-এর মতে ওজর ব্যতীত বিলম্বকারী গুনাহগার হবে।উত্তম কথা হলো এই যে, যথাসম্ভব দ্রুত হজ্জ/হজ সম্পাদন করা উচিত। কেননা মৃত্যু কখন আসবে তা কেউ জানে না, তাই ফরয হওয়ার পরে তা বিলম্বে আদায় করতে গিয়ে তা আদায় করার পূর্বেই মৃত্যু উপস্থিত হলে, আর তার পক্ষ থেকে তা আদায় করা না হলে নিশ্চিত গুনাহের মধ্যে নিপতিত হতে হবে। আর তা দ্রুত আদায় করা মধ্যেই তা থেকে নিষ্কৃতি পাওয়ার একমাত্র উপায়। হজ্জ কখন ফরয হয়েছে তা নিয়েও ‘আলিমদের মাঝে মতভেদ রয়েছে। তবে প্রসিদ্ধ অভিমত হলো নবম হিজরী সালে হজ্জ ফরয করা হয়েছে।
নারীর হজ্জ সফরে মাহরাম: নববী নির্দেশের শিক্ষা
মিশকাতুল মাসাবীহ : ২৫১৩-[৯]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ২৫১৩-[৯]
وَعَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ: لَا يَخْلُوَنَّ رَجُلٌ بِاِمْرَأَةٍ وَلَا تُسَافِرَنَّ امْرَأَةٌ إِلَّا وَمَعَهَا مَحْرَمٌ. فَقَالَ رَجُلٌ: يَا رَسُوْلَ اللّٰهِ اكْتُتِبْتُ فِىْ غَزْوَةِ كَذَا وَكَذَا وَخَرَجَتِ امْرَأَتِىْ حَاجَّةً قَالَ: اِذْهَبْ فَاحْجُجْ مَعَ اِمْرَأَتِكَ. (مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)
‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কোন পুরুষ যেন কক্ষনো কোন স্ত্রীলোকের সাথে এক জায়গায় নির্জনে একত্র না হয়, আর কোন স্ত্রীলোক যেন কক্ষনো আপন কোন মাহরাম ব্যতীত একাকিনী সফর না করে। তখন এক ব্যক্তি জিজ্ঞেস করলো, হে আল্লাহর রাসূল! অমুক অমুক যুদ্ধে আমার নাম লেখানো হয়েছে। আর আমার স্ত্রী একাকিনী হজের উদ্দেশে বের হয়েছে। তিনি (ﷺ) বললেন, যাও তুমি তোমার স্ত্রীর সাথে হজ করো। (বুখারী ও মুসলিম)[১]
[১] সহীহ : বুখারী ৩০০৬, মুসলিম ১৩৪১, আহমাদ ১৯৩৪, সহীহ ইবনু খুযায়মাহ্ ২৫২৯, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ১০১৩৪, সহীহ ইবনু হিব্বান ৩৭৫৭।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২৫১৩-[৯]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুটি বিষয় বলেছেন। প্রথমত, কোনো পুরুষ যেন কোনো নারীর সঙ্গে নির্জনে একত্র না হয়। দ্বিতীয়ত, কোনো নারী যেন মাহরাম ছাড়া সফর না করে। এরপর এক ব্যক্তি জানান, তার নাম একটি যুদ্ধে লেখা হয়েছে, কিন্তু তার স্ত্রী একা হজ্জে বের হয়েছে। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বলেন, যাও, তোমার স্ত্রীর সঙ্গে হজ্জ করো। এখানে নারীর সফরে মাহরামের গুরুত্ব খুব পরিষ্কার। একই সঙ্গে পরিবারকে নিরাপদ সফরে সহায়তা করার বিষয়ও এসেছে। হাদিসটি নির্জনতা, সফর ও হজ্জের আদব নিয়ে সরাসরি শিক্ষা দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নারী-পুরুষের নির্জনে একত্র হওয়া থেকে সতর্ক করা হয়েছে।
- নারীর সফরে মাহরাম থাকার কথা হাদিসে এসেছে।
- স্ত্রীর হজ্জ সফরে স্বামীর সঙ্গ দেওয়াকে এখানে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
- ইবাদতের সফরেও নিরাপত্তা ও শরয়ি আদব মানা প্রয়োজন।
