১১/০. অধ্যায়ঃ

মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২৫১৮-[১৪] - নবীজির চার উমরার বর্ণনা

হজ্জ - প্রথম অনুচ্ছেদ

مناسكশব্দটি বহুবচন, এর একবচনمنسك। ইবনু জারীর বলেনঃ ‘আরাবীمنسكঐ স্থানকে বলা হয় যেখানে লোকজন কল্যাণের উদ্দেশে একত্রিত হয়। হজের কার্যসমূহকেمناسكএজন্যই বলা হয়ে থাকে যে, হজ্জের কাজ সম্পাদনের জন্য লোকজন একই জায়গায় বারবার একত্রিত হয়।الحج-এর শাব্দিক অর্থ হলো ‘কোন কিছুকে উদ্দেশ্য করা’। ইসলামী শারী‘আতের পরিভাষায় নির্দিষ্ট সময়ে, নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে, নির্দিষ্ট কাজের মাধ্যমে, কাবা ঘরের সম্মানের উদ্দেশে তা যিয়ারত করাকে হজ্জ/হজ বলে।কুরআন-সুন্নাহ ও ইজমা দ্বারা হজ্জ/হজ ফরয হওয়া প্রমাণিত। এর অস্বীকারকারী কাফির এতে কোন দ্বিমত নেই। জীবনে তা শর্তসাপেক্ষে মাত্র একবারই ফরয।হজ্জ/হজ ফরয হওয়ামাত্রই তা সম্পাদন করা ওয়াজিব না-কি তা বিলম্বে পালন করার অবকাশ রয়েছে- এ বিষয়ে ‘উলামাগণের মাঝে মতপার্থক্য রয়েছে। ইমাম মালিক, আহমাদ, আবূ ইউসুফ এবং মুযানী-এর মতে তা ফরয হওয়ামাত্রই আদায় করা ওয়াজিব, বিলম্ব করার অবকাশ নেই। পক্ষান্তরে ইমাম শাফি‘ঈ, সাওরী, আওযা‘ঈ ও মুহাম্মাদ ইবনুল হাসান এর মতে তা বিলম্বে আদায় করার অবকাশ রয়েছে। ইমাম আবূ হানীফা (রহঃ)-এর মতে ওজর ব্যতীত বিলম্বকারী গুনাহগার হবে।উত্তম কথা হলো এই যে, যথাসম্ভব দ্রুত হজ্জ/হজ সম্পাদন করা উচিত। কেননা মৃত্যু কখন আসবে তা কেউ জানে না, তাই ফরয হওয়ার পরে তা বিলম্বে আদায় করতে গিয়ে তা আদায় করার পূর্বেই মৃত্যু উপস্থিত হলে, আর তার পক্ষ থেকে তা আদায় করা না হলে নিশ্চিত গুনাহের মধ্যে নিপতিত হতে হবে। আর তা দ্রুত আদায় করা মধ্যেই তা থেকে নিষ্কৃতি পাওয়ার একমাত্র উপায়। হজ্জ কখন ফরয হয়েছে তা নিয়েও ‘আলিমদের মাঝে মতভেদ রয়েছে। তবে প্রসিদ্ধ অভিমত হলো নবম হিজরী সালে হজ্জ ফরয করা হয়েছে।

রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم কতবার উমরা করেছেন

মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ২৫১৮-[১৪]

وَعَنْ أَنَسٍ قَالَ: اعْتَمَرَ رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ أَرْبَعُ عُمَرٍ كُلُّهُنَّ فِىْ ذِى الْقَعْدَةِ إِلَّا الَّتِىْ كَانَتْ مَعَ حَجَّتِه: عُمْرَةً مِنَ الْحُدَيْبِيَةِ فِىْ ذِى الْقَعْدَةِ وَعُمْرَةً مِنَ الْعَامِ الْمُقْبِلِ فِىْ ذِى الْقَعْدَةِ وَعُمْرَةً مِنَ الْجِعْرَانَةِ حَيْثُ قَسَّمَ غَنَائِمَ حُنَيْنٍ فِىْ ذِى الْقَعْدَةِ وَعُمْرَةً مَعَ حَجَّتِه. (مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)

আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

রাসুলুল্লাহ (ﷺ) মোট চারবার ‘উমরা পালন করেছেন। হজ্জের সাথে ‘উমরা ছাড়া প্রত্যেকটি ‘উমরা পালন করেছেন যিলকদ মাসে। এক ‘উমরা করেছেন হুদায়বিয়াহ্ নামক স্থান হতে যিলকদ মাসে, আর এক ‘উমরা করেছেন পরবর্তী বৎসরে যিলকদ মাসে, আর এক ‘উমরা করেছেন জি‘রানাহ্ নামক স্থান থেকে, যেখানে তিনি (ﷺ) হুনায়ন যুদ্ধেলব্ধ গনীমাতের মাল বণ্টন করেছিলেন যিলকদ মাসে। আর এক ‘উমরা তিনি পালন করেছেন (দশম হিজরীতে তাঁর বিদায়) হজ্জের মাসে। (বুখারী ও মুসলিম)[১]

[১] সহীহ : বুখারী ৪১৪৮, মুসলিম ১২৫৩, আবূ দাঊদ ১৯৯৪, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৮৭৩৮, সহীহ ইবনু হিব্বান ৩৭৬৪।

মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২৫১৮-[১৪]-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মোট চারবার উমরা করেছেন। হজ্জের সঙ্গে যে উমরা ছিল তা ছাড়া বাকি উমরাগুলো যিলকদ মাসে হয়েছে। এক উমরা ছিল হুদায়বিয়াহ থেকে, আরেকটি পরের বছর যিলকদ মাসে, আরেকটি জি'রানাহ থেকে—যেখানে হুনায়নের গনীমতের মাল বণ্টন করা হয়েছিল। আর একটি ছিল তাঁর হজ্জের সঙ্গে। এই হাদিস নবীজির উমরার সংখ্যা ও সময় সম্পর্কে সরাসরি তথ্য দেয়। এখানে উমরার ফজিলত নিয়ে আলাদা আলোচনা নেই; বরং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আমল ও সফরের বিবরণ এসেছে।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মোট চারবার উমরা করেছেন বলে এই বর্ণনায় এসেছে।
  • হজ্জের সঙ্গে থাকা উমরা ছাড়া বাকি উমরাগুলো যিলকদ মাসে ছিল।
  • হুদায়বিয়াহ, জি'রানাহ ও হজ্জের সঙ্গে উমরার কথা এখানে উল্লেখ আছে।
  • নবীজির আমল জানলে হজ্জ-উমরার ইতিহাস বুঝতে সহজ হয়।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন