১১/০. অধ্যায়ঃ

মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২৫১৯-[১৫] - হজ্জের আগে যিলকদে উমরা

হজ্জ - প্রথম অনুচ্ছেদ

مناسكশব্দটি বহুবচন, এর একবচনمنسك। ইবনু জারীর বলেনঃ ‘আরাবীمنسكঐ স্থানকে বলা হয় যেখানে লোকজন কল্যাণের উদ্দেশে একত্রিত হয়। হজের কার্যসমূহকেمناسكএজন্যই বলা হয়ে থাকে যে, হজ্জের কাজ সম্পাদনের জন্য লোকজন একই জায়গায় বারবার একত্রিত হয়।الحج-এর শাব্দিক অর্থ হলো ‘কোন কিছুকে উদ্দেশ্য করা’। ইসলামী শারী‘আতের পরিভাষায় নির্দিষ্ট সময়ে, নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে, নির্দিষ্ট কাজের মাধ্যমে, কাবা ঘরের সম্মানের উদ্দেশে তা যিয়ারত করাকে হজ্জ/হজ বলে।কুরআন-সুন্নাহ ও ইজমা দ্বারা হজ্জ/হজ ফরয হওয়া প্রমাণিত। এর অস্বীকারকারী কাফির এতে কোন দ্বিমত নেই। জীবনে তা শর্তসাপেক্ষে মাত্র একবারই ফরয।হজ্জ/হজ ফরয হওয়ামাত্রই তা সম্পাদন করা ওয়াজিব না-কি তা বিলম্বে পালন করার অবকাশ রয়েছে- এ বিষয়ে ‘উলামাগণের মাঝে মতপার্থক্য রয়েছে। ইমাম মালিক, আহমাদ, আবূ ইউসুফ এবং মুযানী-এর মতে তা ফরয হওয়ামাত্রই আদায় করা ওয়াজিব, বিলম্ব করার অবকাশ নেই। পক্ষান্তরে ইমাম শাফি‘ঈ, সাওরী, আওযা‘ঈ ও মুহাম্মাদ ইবনুল হাসান এর মতে তা বিলম্বে আদায় করার অবকাশ রয়েছে। ইমাম আবূ হানীফা (রহঃ)-এর মতে ওজর ব্যতীত বিলম্বকারী গুনাহগার হবে।উত্তম কথা হলো এই যে, যথাসম্ভব দ্রুত হজ্জ/হজ সম্পাদন করা উচিত। কেননা মৃত্যু কখন আসবে তা কেউ জানে না, তাই ফরয হওয়ার পরে তা বিলম্বে আদায় করতে গিয়ে তা আদায় করার পূর্বেই মৃত্যু উপস্থিত হলে, আর তার পক্ষ থেকে তা আদায় করা না হলে নিশ্চিত গুনাহের মধ্যে নিপতিত হতে হবে। আর তা দ্রুত আদায় করা মধ্যেই তা থেকে নিষ্কৃতি পাওয়ার একমাত্র উপায়। হজ্জ কখন ফরয হয়েছে তা নিয়েও ‘আলিমদের মাঝে মতভেদ রয়েছে। তবে প্রসিদ্ধ অভিমত হলো নবম হিজরী সালে হজ্জ ফরয করা হয়েছে।

বিদায় হজ্জের আগে যিলকদ মাসে নবীজির উমরা

মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ২৫১৯-[১৫]

وَعَنِ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ قَالَ: اعْتَمَرَ رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ فِىْ ذِى الْقَعْدَةِ قَبْلَ أَنْ يَحُجَّ مَرَّتَيْنِ. رَوَاهُ الْبُخَارِىُّ

বারা ইবনু ‘আযিব (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

রাসুলুল্লাহ (ﷺ) (দশম হিজরীতে তাঁর বিদায়) হজ পালন করার আগে যিলকদ মাসে দুইবার উমরা করেছিলেন। (বুখারী)[১]

[১] সহীহ : বুখারী ১৭৮১।

মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২৫১৯-[১৫]-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে বারা ইবনু আযিব রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হজ্জ করার আগে যিলকদ মাসে দুইবার উমরা করেছিলেন। বর্ণনাটি সংক্ষিপ্ত, কিন্তু নবীজির উমরার সময় সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেয়। এখানে মূল আলোচ্য বিষয় হলো যিলকদ মাসে উমরা এবং হজ্জের আগে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আমল। 2518 নম্বর বর্ণনায় চার উমরার বিস্তারিত এসেছে, আর এই হাদিসে হজ্জের আগে যিলকদে দুইবার উমরার কথা বলা হয়েছে। তাই নবীজির উমরার সময় ও সংখ্যা নিয়ে পড়ার সময় এই বর্ণনাটি প্রাসঙ্গিক।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হজ্জের আগে যিলকদে উমরা করেছেন।
  • যিলকদ মাসে উমরার ইতিহাস এই বর্ণনায় পাওয়া যায়।
  • নবীজির আমল জানলে উমরার সময় সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।
  • সংক্ষিপ্ত হাদিসও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বহন করতে পারে।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন