১১/৩. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২৫৮০-[২০] - তাওয়াফ ও রুকন স্পর্শের ফজিলত
মক্কায় প্রবেশ করা ও তাওয়াফ প্রসঙ্গে - দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
তাওয়াফের ফজিলত ও দুই রুকন স্পর্শ
মিশকাতুল মাসাবীহ : ২৫৮০-[২০]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ২৫৮০-[২০]
وَعَن عُبيدِ بنِ عُمَيرٍ: أَنَّ ابْنَ عُمَرَ كَانَ يُزَاحِمُ عَلَى الرُّكْنَيْنِ زِحَامًا مَا رَأَيْتُ أَحَدًا مِنْ أَصْحَابِ رَسُولِ اللّٰهِ ﷺ يُزَاحِمُ عَلَيْهِ قَالَ: إِنْ أَفْعَلْ فَإِنِّىْ سَمِعْتُ رَسُوْلَ اللّٰهِ ﷺ يَقُولُ: إِنَّ مَسْحَهُمَا كَفَّارَةٌ لِلْخَطَايَا وَسَمِعْتُه يَقُولُ: مَنْ طَافَ بِهٰذَا الْبَيْتِ أُسْبُوعًا فَأَحْصَاهُ كَانَ كَعِتْقِ رَقَبَةٍ. وَسَمِعْتُه يَقُولُ: لَا يَضَعُ قَدَمًا وَلَا يَرْفَعُ أُخْرٰى إِلَّا حطَّ اللّٰهُ عَنْهُ بِهَا خَطِيْئَةً وَكَتَبَ لَه بِهَا حَسَنَةً. رَوَاهُ التِّرْمِذِىُّ
ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
‘আব্দুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) দুই রুকনের (হাজারে আসওয়াদ ও রুকনে ইয়ামানীর) কাছে যেভাবে ভিড় করতেন, রাসুলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাহাবীদের আর কাউকে এমনভাবে (প্রতিযোগিতামূলকভাবে) ভিড় করতে দেখিনি। ইবনু উমর (রাঃ) বলেন, আমি যদি এরূপ করি (তাতে দোষের কোন বিষয় নয়), কেননা আমি রাসুলুল্লাহ (ﷺ) - কে বলতে শুনেছি, নিশ্চয়ই এদের স্পর্শ করা গুনাহের কাফ্ফারাহ্।আমি তাঁকে ((ﷺ) - কে) আরো বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি বায়তুল্লাহর চারদিকে সাতবার তাওয়াফ করবে ও তা যথাযথভাবে সম্পন্ন করবে, তবে তা তার জন্য গোলাম মুক্ত করে দেবার সমতুল্য হবে। এটা ছাড়াও তাঁকে ((ﷺ) - কে) বলতে শুনেছি, কোন লোক এতে এক পা ফেলে অপর পা উঠানোর আগেই বরং আল্লাহ তা‘আলা তার একটি গুনাহ মাফ করে দেন ও তার জন্যে একটি সওয়াব নির্ধারণ করেন। (তিরমিযী)[১]
[১] সহীহ : তিরমিযী ৯৫৯, সহীহ আত্ তারগীব ১১৩৯, সহীহ ইবনু হিব্বান ৩৬৯৭।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২৫৮০-[২০]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আব্দুল্লাহ ইবনু উমর রাঃ দুই রুকন, অর্থাৎ হাজরে আসওয়াদ ও রুকনে ইয়ামানীর কাছে ভিড় করার কারণ ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি বলেন, তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেন, এ দুটিকে স্পর্শ করা গুনাহের কাফফারাহ। তিনি আরও শুনেছেন, যে ব্যক্তি বায়তুল্লাহর চারদিকে সাতবার তাওয়াফ করে এবং তা যথাযথভাবে সম্পন্ন করে, তার জন্য গোলাম মুক্ত করার সমতুল্য সাওয়াব হবে। আরও বলা হয়েছে, তাওয়াফে এক পা রাখা ও আরেক পা ওঠানোর আগেই আল্লাহ একটি গুনাহ মাফ করেন এবং একটি সাওয়াব লিখে দেন। এই হাদিসে তাওয়াফের ফজিলত স্পষ্ট, তবে ফজিলতকে হাদিসের ভাষার মধ্যেই রাখা হয়েছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- হাজরে আসওয়াদ ও রুকনে ইয়ামানী স্পর্শকে গুনাহের কাফফারাহ বলা হয়েছে।
- সাতবার তাওয়াফ যথাযথভাবে সম্পন্ন করার বড় ফজিলত হাদিসে এসেছে।
- তাওয়াফের প্রতিটি পদক্ষেপ সাওয়াব ও গুনাহ মাফের সঙ্গে যুক্ত বলে বর্ণিত।
