১১/৩. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২৫৮১-[২১] - তাওয়াফে দুনিয়া আখিরাতের কল্যাণের দোয়া
মক্কায় প্রবেশ করা ও তাওয়াফ প্রসঙ্গে - দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
তাওয়াফে রব্বানা আতিনা দোয়ার শিক্ষা
মিশকাতুল মাসাবীহ : ২৫৮১-[২১]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ২৫৮১-[২১]
وَعَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ السَّائِبِ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُوْلَ اللّٰهِ ﷺ يَقُولُ مَا بَيْنَ الرُّكْنَيْنِ: ﴿رَبَّنَا اٰتِنَا فِى الدُّنْيَا حَسَنَةً وَّفِى الْاٰخِرَةِ حَسَنَةً وَّقِنَا عَذَابَ النَّارِ﴾. رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ
আবদুল্লাহ ইবনুস সায়িব (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) - কে দুই রুকনের (হাজারে আসওয়াদ ও রুকনে ইয়ামানী) মধ্যবর্তী স্থানে এ দোয়া পড়তে শুনেছি- ‘‘রব্বানা- আ-তিনা ফিদ্দুন্ইয়া- হাসানাতাওঁ ওয়াফিল আ-খিরাতি হাসানাতাওঁ ওয়াক্বিনা- ‘আযা-বান্না-র’’ (অর্থাৎ- হে আল্লাহ! তুমি আমাদেরকে দুনিয়া ও আখিরাতে কল্যাণ দান কর এবং জাহান্নামের আগুন হতে রক্ষা কর।)। (আবূ দাঊদ)[১]
[১] হাসান : আবূ দাঊদ ১৮৯২, আহমাদ ১৫৩৯৯।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২৫৮১-[২১]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আবদুল্লাহ ইবনুস সায়িব (রাঃ) রাসুলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ তাওয়াফের দোয়া শুনেছেন। তিনি বলেন, নবীজি صلى الله عليه وسلم দুই রুকনের মাঝামাঝি স্থানে এই দোয়া পড়তেন: “রব্বানা আতিনা ফিদ দুনিয়া হাসানাহ, ওয়াফিল আখিরাতি হাসানাহ, ওয়াকিনা আযাবান নার।” এই দোয়ার মূল কথা হলো, মুমিন শুধু দুনিয়ার ভালো চায় না, শুধু আখিরাতের ভালোও চায় না; বরং দুই জীবনের কল্যাণ একসাথে আল্লাহর কাছে চায়। একই সঙ্গে জাহান্নামের আগুন থেকে নিরাপত্তা চায়। তাওয়াফের দোয়া, দুনিয়া আখিরাতের কল্যাণ এবং জাহান্নাম থেকে মুক্তির প্রার্থনা—এই তিনটি বিষয় এখানে খুব সুন্দরভাবে এক হয়েছে। হাদিসটি আমাদের শেখায়, ছোট দোয়ার মধ্যেও জীবনের বড় চাওয়া রাখা যায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- তাওয়াফের সময় আল্লাহর কাছে দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ চাওয়া নববী আমল।
- দোয়ায় শুধু দুনিয়ার চাহিদা নয়, আখিরাতের নিরাপত্তাও থাকা উচিত।
- জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষার দোয়া মুমিনের গুরুত্বপূর্ণ প্রার্থনার অংশ।
- সংক্ষিপ্ত দোয়াও অর্থে গভীর ও পূর্ণ হতে পারে।
