১১/৩. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২৫৮৬-[২৬] - হাজারে আসওয়াদ ও রুকনে ইয়ামানী স্পর্শ
মক্কায় প্রবেশ করা ও তাওয়াফ প্রসঙ্গে - তৃতীয় অনুচ্ছেদ
হাজারে আসওয়াদ ও রুকনে ইয়ামানী স্পর্শের আমল
মিশকাতুল মাসাবীহ : ২৫৮৬-[২৬]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ২৫৮৬-[২৬]
عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ: مَا تَرَكْنَا اسْتِلَامَ هَذَيْنِ الرُّكْنَيْنِ: الْيَمَانِىْ وَالْحَجَرِ فِىْ شِدَّةٍ وَلَا رَخَاءٍ مُنْذُ رَأَيْتُ رَسُوْلَ اللّٰهِ ﷺ يَسْتَلِمُهُمَا. (مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)
ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমরা এ দুইটি কোণ তথা রুকনে ইয়ামানী ও হাজারে আসওয়াদ কষ্টে ও আরামে কোন অবস্থাতেই স্পর্শ করতে ছাড়িনি যখন থেকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) - কে এ দুই কোণ (রুকন) স্পর্শ করতে দেখেছি। (বুখারী ও মুসলিম)[১]
[১] সহীহ : বুখারী ১৬০৬, মুসলিম ১২৬৮, নাসায়ী ২৯৫২, মুসান্নাফ ‘আবদুর রাযযাক্ব ৮৯০২, আহমাদ ৪৮৮৭, দারিমী ১৮৮০, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৯২৩৩।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২৫৮৬-[২৬]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে ইবনু উমর (রাঃ)-এর একটি দৃঢ় অনুসরণের কথা এসেছে। তিনি বলেন, যখন থেকে তিনি রাসুলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-কে রুকনে ইয়ামানী ও হাজারে আসওয়াদ স্পর্শ করতে দেখেছেন, তখন থেকে কষ্টে ও আরামে কোনো অবস্থাতেই এই দুই রুকন স্পর্শ করা ছাড়েননি। এখানে মূল শিক্ষা হলো নবীজির আমল দেখে সাহাবীদের অনুসরণ। হাদিসে দুইটি নির্দিষ্ট রুকনের কথা এসেছে: হাজারে আসওয়াদ ও রুকনে ইয়ামানী। তাই তাওয়াফের রুকন স্পর্শের আলোচনা করতে গেলে এই সীমা মনে রাখা জরুরি। এটি তাওয়াফের আদব ও সুন্নাহর প্রতি ভালোবাসা বোঝায়। একই সঙ্গে এটি দেখায়, সাহাবীরা নবীজি صلى الله عليه وسلم-এর কাজকে খুব যত্নের সঙ্গে গ্রহণ করতেন।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- হাজারে আসওয়াদ ও রুকনে ইয়ামানী স্পর্শ নবীজি صلى الله عليه وسلم-এর আমল হিসেবে এসেছে।
- সাহাবীগণ নবীজির আমল দেখে তা ধরে রাখতেন।
- তাওয়াফের আদব নির্দিষ্ট হাদিসের ভাষা অনুযায়ী বোঝা উচিত।
- সুন্নাহ অনুসরণে ধারাবাহিকতা সাহাবীদের জীবনে স্পষ্ট ছিল।
