১১/৩. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২৫৯০-[৩০] - রুকনে ইয়ামানীতে দোয়া ও ফেরেশতাদের আমীন
মক্কায় প্রবেশ করা ও তাওয়াফ প্রসঙ্গে - তৃতীয় অনুচ্ছেদ
রুকনে ইয়ামানীতে দোয়া ও মালায়িকার আমীন
মিশকাতুল মাসাবীহ : ২৫৯০-[৩০]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ২৫৯০-[৩০]
وَعَنْ أَبِىْ هُرَيْرَةَ أَنَّ النَّبِىَّ ﷺ قَالَ: وُكِّلَ بِه سَبْعُونَ مَلَكًا يَعْنِى الرُّكْنَ الْيَمَانِىَ «فَمَنْ قَالَ: اَللّٰهُمَّ إِنِّىْ أَسْأَلُكَ الْعَفْوَ وَالْعَافِيَةَ فِى الدُّنْيَا وَالْاٰخِرَةِ ﴿رَبَّنَا اٰتِنَا فِى الدُّنْيَا حَسَنَةً وَّفِى الْاٰخِرَةِ حَسَنَةً وَّقِنَا عَذَابَ النَّارِ﴾ قَالُوا: اٰمِيْنَ». رَوَاهُ ابْنُ مَاجَهْ
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) বলেছেনঃ রুকনে ইয়ামানীর সাথে সত্তরজন মালাক (ফেরেশতা) নিয়োজিত রয়েছেন। যখন কোন ব্যক্তি বলে, হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে দুনিয়া ও আখিরাতের ক্ষমা ও কুশল প্রার্থনা করছি। হে রব! আমাদেরকে দুনিয়ায় কল্যাণ দান কর, আখিরাতেও কল্যাণ দান করো এবং জাহান্নামের ‘আযাব হতে রক্ষা করো। তখন সেসব মালায়িকাহ্ (ফেরেশতাগণ) বলে ওঠেন, ‘আমীন’ (আল্লাহ কবুল কর)। (ইবনু মাজাহ)[১]
[১] য‘ঈফ : ইবনু মাজাহ ২৯৫৭, য‘ঈফ আল জামি‘ ৫৬৮৩, য‘ঈফ আত্ তারগীব ৭২১। কারণ এর সনদে হুমায়দ ইবনু আবী সাবিয়্যাহ্ একজন দুর্বল রাবী।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২৫৯০-[৩০]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রুকনে ইয়ামানীর সঙ্গে যুক্ত একটি দোয়ার কথা এসেছে। নবীজি صلى الله عليه وسلم বলেছেন, রুকনে ইয়ামানীর সঙ্গে সত্তরজন ফেরেশতা নিয়োজিত আছেন। কেউ যখন আল্লাহর কাছে দুনিয়া ও আখিরাতের ক্ষমা ও কুশল চায়, তারপর “রব্বানা আতিনা ফিদ দুনিয়া হাসানাহ, ওয়াফিল আখিরাতি হাসানাহ, ওয়াকিনা আযাবান নার” পড়ে, তখন ফেরেশতারা “আমীন” বলেন। এখানে রুকনে ইয়ামানী, তাওয়াফের দোয়া, ক্ষমা, নিরাপত্তা এবং দুনিয়া-আখিরাতের কল্যাণ একসঙ্গে এসেছে। হাদিসটি দোয়ার ভাষা শেখায় এবং দোয়ার মানসিকতাও শেখায়। একজন মুমিন আল্লাহর কাছে শুধু কিছু সুবিধা নয়, ক্ষমা, কুশল এবং আগুন থেকে রক্ষা চায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- রুকনে ইয়ামানীর কাছে ক্ষমা ও কুশল চাওয়ার দোয়া এই হাদিসে এসেছে।
- দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ একসঙ্গে চাওয়া সুন্দর দোয়ার অংশ।
- জাহান্নামের আযাব থেকে রক্ষা চাওয়া মুমিনের দোয়ার বড় বিষয়।
- ফেরেশতাদের আমীন বলার কথা হাদিসে দোয়ার মর্যাদা বোঝায়।
