১১/৩. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২৫৯১-[৩১] - তাওয়াফে যিকিরের ফজিলত
মক্কায় প্রবেশ করা ও তাওয়াফ প্রসঙ্গে - তৃতীয় অনুচ্ছেদ
তাওয়াফে যিকিরে ব্যস্ত থাকার ফজিলত
মিশকাতুল মাসাবীহ : ২৫৯১-[৩১]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ২৫৯১-[৩১]
وَعَنْهُ أَنَّ النَّبِىَّ ﷺ قَالَ: مَنْ طَافَ بِالْبَيْتِ سَبْعًا وَلَا يَتَكَلَّمُ إِلَّا بِـ: سُبْحَانَ اللّٰهِ وَالْحَمْدُ لِلّٰهِ وَلَا إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ وَاللّٰهُ أَكْبَرُ وَلَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللّٰهِ مُحِيَتْ عَنْهُ عَشْرُ سَيِّئَاتٍ وَكُتِبَ لَه عَشْرُ حَسَنَاتٍ وَرُفِعَ لَه عَشْرُ دَرَجَاتٍ. وَمَنْ طَافَ فَتَكَلَّمَ وَهُوَ فِىْ تِلْكَ الْحَالِ خَاضَ فِى الرَّحْمَةِ بِرِجْلَيْهِ كَخَائِضِ الْمَاءِ بِرِجْلَيْهِ». رَوَاهُ ابْنُ مَاجَهْ
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি বায়তুল্লাহ সাতবার তাওয়াফ করে এবং ‘‘সুবহা-নাল্ল-হি ওয়াল হামদুলিল্লা-হি ওয়ালা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হু ওয়াল্ল-হু আকবার, ওয়ালা- হাওলা ওয়ালা- ক্যুওয়াতা ইল্লা- বিল্লা-হ’’ (অর্থাৎ- আল্লাহ পবিত্র, সকল প্রশংসা আল্লাহরই, আল্লাহ ছাড়া প্রকৃতপক্ষে কোন উপাস্য নেই, আল্লাহ মহান, আল্লাহ ছাড়া কারো উপায় বা শক্তি নেই।) দোয়াটি পড়া ব্যতীত আর কোন কথা না বলে তার দশটি গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হয়, তার (আমলনামায়) দশটি নেকী লিপিবদ্ধ করা হয় এবং তার দশটি মর্যাদাও বৃদ্ধি করা হয়। আর যে ব্যক্তি তাওয়াফ করা অবস্থায় কথাবার্তা বলবে সে আল্লাহ তা‘আলার রহমতে তার পা দিয়ে ঢেউ উঠিয়েছে যেমন কোন ব্যক্তি নিজের পা দিয়ে পানিতে ঢেউ উঠিয়ে থাকে। (ইবনু মাজাহ)[১]
[১] য‘ঈফ : ইবনু মাজাহ ২৯৫৭, য‘ঈফ আত্ তারগীব ৭২১।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২৫৯১-[৩১]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে বায়তুল্লাহ তাওয়াফের সময় যিকিরের একটি বড় ফজিলত এসেছে। নবীজি صلى الله عليه وسلم বলেছেন, যে ব্যক্তি বায়তুল্লাহ সাতবার তাওয়াফ করে এবং “সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আল্লাহু আকবার, ওয়ালা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ” ছাড়া অন্য কথা বলে না, তার দশটি গুনাহ মাফ করা হয়, দশটি নেকী লেখা হয় এবং দশটি মর্যাদা বাড়ানো হয়। এরপর তাওয়াফের অবস্থায় কথাবার্তা বলার বিষয়েও একটি তুলনা এসেছে—সে আল্লাহর রহমতের মধ্যে পা দিয়ে চলার মতো অবস্থায় থাকে। এই হাদিস তাওয়াফে যিকির, তাসবীহ, তাহমীদ, তাহলীল ও তাকবীরের গুরুত্ব বোঝায়। তাওয়াফ শুধু হাঁটার কাজ নয়; এটি জবান ও অন্তরকে আল্লাহর স্মরণে রাখার আমল।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- তাওয়াফের সময় আল্লাহর যিকিরে ব্যস্ত থাকা ফজিলতের কারণ হিসেবে এসেছে।
- তাসবীহ, তাহমীদ, তাহলীল, তাকবীর ও হাওকলা—এই যিকিরগুলো হাদিসে উল্লেখিত।
- সাতবার তাওয়াফের সঙ্গে যিকিরের আমল বিশেষভাবে বর্ণিত হয়েছে।
- তাওয়াফের সময় অপ্রয়োজনীয় কথার বদলে আল্লাহর স্মরণে থাকা উত্তম।
