১১/৪. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২৫৯২-[১] - আরাফার দিনে তালবিয়াহ ও তাকবীর
আরাফায় অবস্থান প্রসঙ্গে - প্রথম অনুচ্ছেদ
আরাফার দিনে তালবিয়াহ ও তাকবীরের আমল
মিশকাতুল মাসাবীহ : ২৫৯২-[১]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ২৫৯২-[১]
عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِىْ بَكْرٍ الثَقَفِىُّ أَنَّه سَأَلَ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ وَهُمَا غَادِيَانِ مِنْ مِنًى إِلٰى عَرَفَةَ: كَيْفَ كُنْتُمْ تَصْنَعُونَ فِىْ هٰذَا الْيَوْمِ مَعَ رَسُولِ اللّٰهِ ﷺ؟ فَقَالَ: كَانَ يُهِلُّ مِنَّا الْمُهِلُّ فَلَا يُنْكَرُ عَلَيْهِ وَيُكَبِّرُ الْمُكَبِّرُ مِنَّا فَلَا يُنكَرُ عَلَيْهِ. (مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি একবার আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করেছিলেন যে, তখন তাঁরা উভয়ে মিনা হতে সকালে ‘আরাফাতের দিকে যাচ্ছিলেন। আপনারা এ ‘আরাফার দিনে রাসুলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাথে কি করতেন? তখন তিনি বললেন, আমাদের মধ্যে যারা তালবিয়াহ্ পাঠ করার পাঠ করতো, এজন্যে তাঁদের তা হতে নিষেধ করা হতো না এবং যারা তাকবির ধ্বনি দিতো এতেও নিষেধ করা হতো না। (বুখারী ও মুসলিম)[১]
[১] সহীহ : বুখারী ১৬৫৯, মুসলিম ১২৮৫, মুয়াত্ত্বা মালিক ১২১৪, আহমাদ ১৩৫২১, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৬২৭১, ইবনু হিব্বান ৩৮৪৭।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২৫৯২-[১]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আরাফার দিনের পথে সাহাবীদের আমলের একটি সহজ ছবি এসেছে। মুহাম্মাদ ইবনু আবী বকর আস-সাকাফী আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করেন, তাঁরা রাসুলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-এর সঙ্গে আরাফার দিনে কী করতেন। তখন আনাস (রাঃ) বলেন, তাঁদের মধ্যে যারা তালবিয়াহ পড়তেন, তাদের নিষেধ করা হতো না; আর যারা তাকবীর বলতেন, তাদেরও নিষেধ করা হতো না। এই হাদিসে আরাফার দিন, তালবিয়াহ এবং তাকবীর—তিনটি বিষয় এসেছে। এখানে কোনো জটিল আলোচনা নেই। মূল শিক্ষা হলো, ঐ অবস্থায় সাহাবীদের মধ্যে উভয় ধরনের যিকিরের চর্চা ছিল এবং একে অপরের ওপর আপত্তি করা হতো না। তাই আরাফার দিনের যিকিরে এই বর্ণনাটি নমনীয়তা ও শান্ত আচরণের শিক্ষা দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- আরাফার পথে সাহাবীদের কেউ তালবিয়াহ পড়তেন, কেউ তাকবীর বলতেন।
- এই দুই আমলের কোনোটির ওপর আপত্তি করা হতো না—এ কথা হাদিসে এসেছে।
- যিকিরের আমলে অকারণ বিরোধ না করা সাহাবীদের আচরণে দেখা যায়।
- আরাফার দিন আল্লাহর স্মরণে থাকা গুরুত্বপূর্ণ আমল হিসেবে ফুটে ওঠে।
