১২/০. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২৭৬১-[৩] - হালাল-হারাম উপার্জনের সতর্কতা
উপার্জন করা এবং হালাল রুজি অবলম্বনের উপায় সন্ধান করা - প্রথম অনুচ্ছেদ
হালাল হারাম উপার্জন নিয়ে নবীজির সতর্কবাণী
মিশকাতুল মাসাবীহ : ২৭৬১-[৩]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ২৭৬১-[৩]
وَعَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «يَأْتِي عَلَى النَّاسِ زَمَانٌ لَا يُبَالِي الْمَرْءُ مَا أَخَذَ مِنْهُ أَمِنَ الْحَلَالِ أم من الْحَرَام». رَوَاهُ البُخَارِيّ
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: মানুষের সামনে এমন একটি যুগ আসবে, যখন কেউ কি উপায়ে ধন-সম্পদ উপার্জন করলো, হারাম না হালাল উপায়ে— এ ব্যাপারে কেউ কোনো প্রকার পরোয়া করবে না।
[১] সহীহ : বুখারী ২০৫৯, নাসায়ী ৪৪৫৪, সহীহ আল জামি‘ ৮০০৩, সহীহ আত্ তারগীব ১৭২২।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২৭৬১-[৩]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم এমন এক সময়ের কথা বলেছেন, যখন মানুষ ধন-সম্পদ অর্জনের পথে হালাল-হারাম নিয়ে চিন্তা করবে না। মূল শিক্ষা হলো, একজন মুমিনের কাছে শুধু আয় করাই লক্ষ্য নয়; বরং সেই আয় কোন পথে আসছে, তা দেখা জরুরি। হালাল উপার্জন মানুষের দীন, চরিত্র ও জীবনের বরকতের সঙ্গে জড়িত। আর হারাম উপার্জন মানুষকে ধীরে ধীরে আল্লাহর নিষিদ্ধ সীমার দিকে ঠেলে দেয়। হাদিসটি আমাদের মনে করিয়ে দেয়, বাজার, চাকরি, ব্যবসা বা যেকোনো লেনদেনে সততা দরকার। মানুষের সমাজে যখন অর্থই বড় হয়ে যায়, তখন হালাল-হারামের হিসাব দুর্বল হয়ে পড়ে। তাই মুসলিমের দায়িত্ব হলো নিজের আয়কে যাচাই করা এবং সন্দেহজনক পথ থেকে দূরে থাকা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ধন-সম্পদ অর্জনের আগে তার উৎস হালাল কি না তা দেখা জরুরি।
- সমাজে মানুষ উদাসীন হলেও মুমিনকে হালাল-হারামের ব্যাপারে সচেতন থাকতে হবে।
- শুধু বেশি আয় নয়, পবিত্র আয়ই একজন মুসলিমের জন্য মূল্যবান।
- আয়ের পথে অবহেলা মানুষকে হারামের দিকে নিয়ে যেতে পারে।
