১২/০. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২৭৬২-[৪] - হালাল হারাম ও অন্তরের শুদ্ধতা
উপার্জন করা এবং হালাল রুজি অবলম্বনের উপায় সন্ধান করা - প্রথম অনুচ্ছেদ
সন্দেহজনক বিষয় এড়িয়ে হালাল পথে থাকার শিক্ষা
মিশকাতুল মাসাবীহ : ২৭৬২-[৪]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ২৭৬২-[৪]
وَعَنِ النُّعْمَانِ بْنِ بَشِيرٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «الْحَلَالُ بَيِّنٌ وَالْحَرَامُ بَيِّنٌ وَبَيْنَهُمَا مُشْتَبِهَاتٌ لَا يَعْلَمُهُنَّ كَثِيرٌ مِنَ النَّاسِ فَمَنِ اتَّقَى الشبهاب استبرَأَ لدِينهِ وعِرْضِهِ ومَنْ وقَعَ فِي الشبُّهَاتِ وَقَعَ فِي الْحَرَامِ كَالرَّاعِي يَرْعَى حَوْلَ الْحِمَى يُوشِكُ أَنْ يَرْتَعَ فِيهِ أَلَا وَإِنَّ لِكُلِّ مَلِكٍ حِمًى أَلَا وَإِنَّ حِمَى اللَّهِ مَحَارِمُهُ أَلَا وَإِنَّ فِي الْجَسَدِ مُضْغَةً إِذَا صَلَحَتْ صَلَحَ الْجَسَدُ كُلُّهُ وَإِذَا فَسَدَتْ فَسَدَ الْجَسَدُ كُله أَلا وَهِي الْقلب»
নু‘মান ইবনু বাশীর (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: হালাল সুস্পষ্ট এবং হারামও সুস্পষ্ট। আর এ উভয়ের মধ্যে এমন অনেক সন্দেহভাজন বিষয় বা বস্তু আছে, যে ব্যাপারে অনেক মানুষই এগুলো হালাল, কি হারাম- এ বিষয়ে অবগত নয়। এক্ষেত্রে যে ব্যক্তি সন্দেহজনক বিষয় হতে বিরত থাকবে, তার দীন ও মান-মর্যাদা পুত-পবিত্র থাকবে। আর যে ব্যক্তি সন্দেহে পতিত থাকবে, সে সহসাই হারামে জড়িয়ে পড়বে।বিষয়টি সেই রাখালের ন্যায়, যে রাখাল তার পশুপালকে নিষিদ্ধ এলাকার সীমার কাছাকাছি নিয়ে চরালো, তার পাল অজান্তেই নিষিদ্ধ এলাকায় ঢুকে পড়ার সম্ভাবনা থাকে। সাবধান! প্রত্যেক দায়িত্বশীলেরই (প্রশাসন বা সরকারেরই) চারণভূমি (নিষিদ্ধ এলাকা) আছে, আর আল্লাহ তা'আলার নিষিদ্ধ চারণভূমি হারামসমূহকে নির্ধারিত করেছেন। মনে রাখতে হবে, মানব দেহের ভিতরে একটি গোশ্তপিণ্ড আছে, যা ভালো থাকলে গোটা শরীরই ভালো থাকে। আর এটি নষ্ট হয়ে গেলে বা বিকৃতি ঘটলে সমস্ত শরীরটাই নষ্ট হয়ে যায়। সেই গোশ্তপিণ্ডটিই হলো 'ক্বল্ব' (অন্তঃকরণ)।
[১] সহীহ : বুখারী ৫২, মুসলিম ১৫৯৯, তিরমিযী ১২০৫, আবূ দাঊদ ৩৩৩০, আহমাদ ১৮৩৭৪, দারিমী ২৫৭৩, সহীহ আত্ তারগীব ১৭৩১।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২৭৬২-[৪]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে হালাল ও হারামের স্পষ্ট সীমা তুলে ধরা হয়েছে। রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم বলেছেন, হালাল পরিষ্কার, হারামও পরিষ্কার; কিন্তু মাঝখানে কিছু সন্দেহজনক বিষয় আছে, যা অনেক মানুষ বুঝতে পারে না। তাই যে ব্যক্তি সন্দেহজনক বিষয় থেকে দূরে থাকে, সে নিজের দীন ও মান-মর্যাদা রক্ষা করে। হাদিসে রাখালের উদাহরণ দেওয়া হয়েছে, যে নিষিদ্ধ এলাকার কাছে পশু চরালে পশু ঢুকে পড়ার আশঙ্কা থাকে। এর মাধ্যমে বোঝানো হয়েছে, হারামের কাছাকাছি থাকা নিরাপদ নয়। শেষে অন্তরের কথা বলা হয়েছে। ক্বল্ব ভালো হলে শরীরের কাজ ভালো হয়, আর অন্তর নষ্ট হলে কাজও নষ্ট হয়। তাই হালাল-হারাম উপার্জন, সন্দেহ বর্জন এবং অন্তরের শুদ্ধতা একে অপরের সঙ্গে জড়িত।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- হালাল ও হারামের সীমা জানা এবং মানা মুমিনের দায়িত্ব।
- সন্দেহজনক বিষয় এড়িয়ে চলা দীন ও সম্মান রক্ষার কারণ।
- হারামের কাছাকাছি গেলে তাতে জড়িয়ে পড়ার ভয় থাকে।
- অন্তর ভালো থাকলে মানুষের কাজও সঠিক পথে থাকে।
