১২/০. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২৭৬৩-[৫] - ঘৃণিত উপার্জনের সতর্কতা
উপার্জন করা এবং হালাল রুজি অবলম্বনের উপায় সন্ধান করা - প্রথম অনুচ্ছেদ
ঘৃণিত উপার্জন সম্পর্কে হাদিসের শিক্ষা
মিশকাতুল মাসাবীহ : ২৭৬৩-[৫]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ২৭৬৩-[৫]
وَعَنْ رَافِعِ بْنِ خَدِيجٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «ثَمَنُ الْكَلْبِ خَبِيثٌ وَمَهْرُ الْبَغِيِّ خَبِيثٌ وَكَسْبُ الْحَجَّامِ خَبِيثٌ». رَوَاهُ مُسلم
রাফি’ ইবনু খাদীজ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: কুকুর বিক্রয়লব্ধ মূল্য ঘৃণিত বস্তু, যিনা-ব্যভিচারের বিনিময়ও ঘৃণিত, শিঙ্গা লাগানোর (রক্তমোক্ষণের) ব্যবসা ঘৃণিত।
[১] সহীহ : মুসলিম ১৫৬৮, আবূ দাঊদ ৩৪২১, তিরমিযী ১২৭৫, আহমাদ ১৫৮২৭, দারিমী ২৬৬৩, সহীহ আল জামি‘ ৩০৭৭, সহীহাহ্ ৩৬২২, সহীহ ইবনু হিব্বান ৫১৫২।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২৭৬৩-[৫]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم তিন ধরনের উপার্জনকে ঘৃণিত বলেছেন। কুকুর বিক্রয়ের মূল্য, যিনা-ব্যভিচারের বিনিময় এবং শিঙ্গা লাগানোর ব্যবসা—এসব সম্পর্কে কঠোর ভাষা এসেছে। হাদিসটির মূল শিক্ষা হলো, সব ধরনের আয় সমান নয়। কোনো কাজ থেকে টাকা পাওয়া গেলেই তা পবিত্র বা গ্রহণযোগ্য হয়ে যায় না। বিশেষ করে যে আয়ে পাপ, নৈতিক ক্ষতি বা অপছন্দনীয় কাজ জড়িয়ে থাকে, তা থেকে সতর্ক থাকা দরকার। এখানে হারাম আয় ও অপবিত্র উপার্জনের দিকটি স্পষ্টভাবে এসেছে। একজন মুসলিমের ব্যবসা, পেশা ও লেনদেন এমন হওয়া উচিত, যা আল্লাহর নিষিদ্ধ বিষয় থেকে দূরে রাখে। এই হাদিস আমাদের আয়-রোজগারের উৎস নিয়ে ভাবতে শেখায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- আয়ের উৎস পবিত্র কি না তা যাচাই করা দরকার।
- ব্যভিচারের বিনিময় গ্রহণ করা ঘৃণিত উপার্জনের অন্তর্ভুক্ত।
- কুকুর বিক্রয়ের মূল্য সম্পর্কে হাদিসে কঠোর সতর্কতা এসেছে।
- অপছন্দনীয় উপার্জন থেকে দূরে থাকা ঈমানের পরিচর্যার অংশ।
