১২/০. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২৭৮৬-[২৮] - সন্দেহজনক আয় জানলে সতর্ক হওয়া
উপার্জন করা এবং হালাল রুজি অবলম্বনের উপায় সন্ধান করা - তৃতীয় অনুচ্ছেদ
হারাম খাদ্য থেকে বাঁচতে আবূ বাক্র (রাঃ)-এর সতর্কতা
মিশকাতুল মাসাবীহ : ২৭৮৬-[২৮]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ২৭৮৬-[২৮]
وَعَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: كَانَ لِأَبِي بَكْرٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ غُلَامٌ يُخْرِّجُ لَهُ الْخَرَاجَ فَكَانَ أَبُو بَكْرٍ يَأْكُلُ مِنْ خَرَاجِهِ فَجَاءَ يَوْمًا بشيءٍ فأكلَ مِنْهُ أَبُو بَكْرٍ فَقَالَ لَهُ الْغُلَامُ: تَدْرِي مَا هَذَا؟ فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ: وَمَا هُوَ؟ قَالَ: كُنْتُ تَكَهَّنْتُ لِإِنْسَانٍ فِي الْجَاهِلِيَّةِ وَمَا أُحسِنُ الكهَانةَ إِلاَّ أَنِّي خدَعتُه فلَقيَني فَأَعْطَانِي بِذَلِكَ فَهَذَا الَّذِي أَكَلْتَ مِنْهُ قَالَتْ: فَأَدْخَلَ أَبُو بَكْرٍ يَدَهُ فَقَاءَ كُلَّ شَيْءٍ فِي بَطْنه.رَوَاهُ البُخَارِيّ
'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমার পিতা আবূ বাক্র (রাঃ)-এর একটি ক্রীতদাস ছিল। দাসটি তাঁর জন্য রুযী-রোজগার করতো এবং তিনি তা খেতেন। একবার সেই ক্রীতদাসটি কোনো খাবার নিয়ে এলে আবূ বাক্র (রাঃ) তা খেলেন। ক্রীতদাসটি তাঁকে বললেন; আপনি কি জানেন- এটা কিভাবে উপার্জিত হয়েছে? আবূ বাক্র (রাঃ) জিজ্ঞেস করলেন, এ মাল কিভাবে উপার্জিত? তখন ক্রীতদাসটি বললো, জাহিলী যুগে একবার আমি এক ব্যক্তির কাছে গণকের কাজ করেছিলাম, অথচ আমি গণনার কাজও ভালো করে জানতাম না। আমি গণনার ভান করে তাকে ধোঁকা দিয়েছিলাম। ঐ ব্যক্তির সাথে আজ আমার দেখা হলে সে আমাকে আগের ঐ গণনার বিনিময়ে বস্তুটি দান করেছে, আপনি তাই খেয়েছেন। তিনি বলেন, (এ কথা শুনামাত্র) আবূ বাক্র (রাঃ) গলার ভিতরে আঙুল ঢুকিয়ে দিয়ে পেটের সব জিনিস বমি করে ফেলে দিলেন।
[১] সহীহ : বুখারী ৩৮৪২, সহীহ আত্ তারগীব ১৭৩৮।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২৭৮৬-[২৮]-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় আবূ বাক্র (রাঃ)-এর হারাম খাদ্য থেকে বাঁচার গভীর সতর্কতা দেখা যায়। তাঁর দাস খাবার এনে দিলে তিনি খান। পরে দাস জানায়, জাহিলী যুগে সে এক ব্যক্তিকে গণকের ভান করে ধোঁকা দিয়েছিল; সেই কাজের বিনিময়ে পাওয়া জিনিস থেকেই খাবারটি এসেছে। কথা শুনেই আবূ বাক্র (রাঃ) গলার ভিতরে আঙুল দিয়ে পেটের খাবার বমি করে ফেলেন। এখানে মূল শিক্ষা হলো, আয়ের উৎস জানা খুব জরুরি। প্রতারণা, ধোঁকা ও ভুয়া কাজের বিনিময়ে পাওয়া সম্পদ থেকে বাঁচা দরকার। এই ঘটনা হালাল উপার্জন, হারাম খাদ্য এবং আমানতের বিষয়ে মুসলিমের বিবেককে জাগ্রত করে। তাই খাবার সামনে আসলে শুধু স্বাদ নয়, উৎস সম্পর্কে সতর্ক মনও প্রয়োজন।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- খাবারের উৎস হারাম হলে তা থেকে বাঁচা দরকার।
- ধোঁকার বিনিময়ে পাওয়া আয় গ্রহণযোগ্য নয়।
- সাহাবিরা হালাল-হারাম বিষয়ে খুব সতর্ক ছিলেন।
- উপার্জনের উৎস জানার চেষ্টা করা ঈমানি সতর্কতার অংশ।
