১২/১. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২৭৯৯-[১০] - ব্যবসায়ীদের কেয়ামতের সতর্কতা
ক্রয়-বিক্রয় ও লেনদেনে সহনশীলতা - দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
ব্যবসায় তাকওয়া ও সত্যবাদিতার প্রয়োজন
মিশকাতুল মাসাবীহ : ২৭৯৯-[১০]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ২৭৯৯-[১০]
وَعَن عبيد بنِ رفاعةَ عَنْ أَبِيهِ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «التُّجَّارُ يُحْشَرُونَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فُجَّارًا إِلَّا مَنِ اتَّقَى وَبَرَّ وَصَدَقَ». رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَابْن مَاجَه
রিফা'আহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি (ﷺ) বলেছেন : কিয়ামতের দিন হাশরের ময়দানে ব্যবসায়ীগণ বদকাররূপে উপস্থিত হবেন। অবশ্য যারা মুত্তাক্বী, পরহেযগার, নেককার ও সত্যবাদী হবেন তারা এরূপ হবেন না।
[১] সহীহ : তিরমিযী ১২১০, ইবনু মাজাহ ২১৪৬, সহীহাহ্ ১৪৫৮, দারিমী ২৫৮০।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২৭৯৯-[১০]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم ব্যবসায়ীদের বিষয়ে কঠোর সতর্কতা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, কেয়ামতের দিন ব্যবসায়ীগণ বদকাররূপে উঠবে; তবে যারা তাকওয়া অবলম্বন করেছে, নেক কাজ করেছে এবং সত্যবাদী ছিল, তারা এর বাইরে থাকবে। ব্যবসায় লাভের সুযোগ যেমন আছে, তেমনি মিথ্যা, ধোঁকা, কসম, মাপজোকের সমস্যা এবং মানুষের অধিকার নষ্ট করার ঝুঁকিও আছে। তাই ব্যবসায়ীকে সব সময় আল্লাহভীতি, নেক আচরণ এবং সত্যবাদিতা ধরে রাখতে হয়। এই হাদিস ব্যবসাকে খারাপ বলছে না; বরং অসৎ ব্যবসার ভয় দেখাচ্ছে। সৎ ব্যবসা, আমানতদার আচরণ এবং সত্য কথা—এসবই ব্যবসায়ীকে নিরাপদ পথে রাখে। তাই বাজারে সফল হওয়া যথেষ্ট নয়; আল্লাহর কাছে সত্যবাদী হয়ে দাঁড়ানোই বড় বিষয়। তাই প্রতিটি বিক্রি, দাম বলা ও প্রতিশ্রুতির মধ্যে তাকওয়ার পরীক্ষা থাকে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ব্যবসায় তাকওয়া ছাড়া মানুষ বিপদে পড়তে পারে।
- সত্যবাদী ও নেক ব্যবসায়ী আলাদা মর্যাদা পায়।
- ব্যবসার ঝুঁকি হলো মিথ্যা, ধোঁকা ও অন্যায় লাভ।
- সৎ ব্যবসা করতে হলে আল্লাহভীতি দরকার।
