১৩/২. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৩১২৬-[১] - বিয়েতে নারীর সম্মতির অধিকার
বিয়ের ওয়ালি (অভিভাবক) এবং নারীর অনুমতি গ্রহণ প্রসঙ্গে - প্রথম অনুচ্ছেদ
বিয়ের সম্মতি: নারীর মতামতকে গুরুত্ব
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৩১২৬-[১]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৩১২৬-[১]
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَا تُنْكَحُ الْأَيِّمُ حَتَّى تُسْتَأْمَرَ وَلَا تُنْكَحُ الْبِكْرُ حَتَّى تُسْتَأْذَنَ». قَالُوا: يَا رَسُول الله وَكَيف إِذْنهَا؟ قَالَ: «أَن تسكت»
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন : প্রাপ্তবয়স্কা বা বিধবা নারীর অনুমতি ব্যতীত তার বিয়ে দেয়া যাবে না। কুমারীর সম্মতি ব্যতীত তার বিয়ে দেয়া যাবে না। তাঁরা (উপস্থিত সাহাবায়ে কিরাম) জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ) কুমারীর সম্মতি কিরূপে হবে? উত্তরে তিনি (ﷺ) বললেন, তার নীরবতাই (বিয়ের) সম্মতি।
[১] সহীহ : বুখারী ৬৯৬৮, মুসলিম ১৪১৯, আবূ দাঊদ ২০৯২, নাসায়ী ৩২৬৫, তিরমিযী ১১০৭, ইবনু মাজাহ ১৮৭১, আহমাদ ৯৬০৫, দারিমী ২২৩২, ইরওয়া ১৮২৮।
অনুবাদের উৎস
- প্রকাশক:
- হাদিস একাডেমী
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৩১২৬-[১]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে বিয়ের আগে নারীর সম্মতি নেওয়ার বিষয়টি পরিষ্কারভাবে এসেছে। রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم বলেছেন, প্রাপ্তবয়স্কা বা বিধবা নারীর অনুমতি ছাড়া তার বিয়ে দেওয়া যাবে না। কুমারী মেয়ের ক্ষেত্রেও তার সম্মতি ছাড়া বিয়ে দেওয়া যাবে না। সাহাবিরা জিজ্ঞেস করলেন, কুমারীর সম্মতি কীভাবে বুঝা যাবে? তিনি صلى الله عليه وسلم বললেন, তার নীরবতাই সম্মতি। হাদিসটি দেখায়, বিয়ে শুধু অভিভাবকের সিদ্ধান্ত নয়; মেয়ের মতামতও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে বিধবা বা পূর্বে বিবাহিত নারীর অনুমতি স্পষ্টভাবে নিতে বলা হয়েছে। আর কুমারীর লজ্জা বিবেচনায় তার নীরবতাকে সম্মতি হিসেবে ধরা হয়েছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- বিয়ের আগে নারীর সম্মতি নেওয়া দরকার।
- পূর্বে বিবাহিত নারীর অনুমতি ছাড়া বিয়ে দেওয়া যাবে না।
- কুমারী মেয়ের লজ্জা বিবেচনা করে নীরবতাকে সম্মতি ধরা হয়েছে।
- বিয়েতে অভিভাবক ও পাত্রীর মতামত—দুই দিকেই গুরুত্ব আছে।
