১৩/৮. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৩২২৬-[১৭] - অহংকারের দাওয়াত গ্রহণ না করার শিক্ষা
ওয়ালিমা (বৌভাত) - তৃতীয় অনুচ্ছেদ
অহংকারের দাওয়াত গ্রহণ না করার শিক্ষা
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৩২২৬-[১৭]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৩২২৬-[১৭]
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «الْمُتَبَارِيَانِ لَا يُجَابَانِ وَلَا يُؤْكَلُ طَعَامُهُمَا». قَالَ الْإِمَامُ أَحْمَدُ: يَعْنِي المتعارضين بالضيافة فخراً ورياء
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন : (লোক দেখানো) দুই প্রতিযোগীর দাওয়াত কবুল করা ঠিক নয় এবং তাদের খাদ্য গ্রহণও ঠিক নয়। ইমাম আহমাদ (রহঃ) বলেন, ‘খাবার আয়োজনে প্রতিযোগী' এর অর্থ লৌকিকতা ও অহংকার প্রদর্শনীর জন্য দাওয়াত প্রতিযোগিতাই উদ্দেশ্য।
[১] হাসান : শু‘আবুল ঈমান ৫৬৬৭, সহীহাহ্ ৬২৬, সহীহ আল জামি‘ ৬৬৭১।
অনুবাদের উৎস
- প্রকাশক:
- হাদিস একাডেমী
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৩২২৬-[১৭]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, দুই প্রতিযোগীর দাওয়াত গ্রহণ করা ঠিক নয় এবং তাদের খাবারও খাওয়া ঠিক নয়। ইমাম আহমাদ (রহঃ) ব্যাখ্যা করেছেন, এখানে প্রতিযোগী বলতে এমন লোকদের বোঝানো হয়েছে, যারা আতিথেয়তার নামে অহংকার ও রিয়া দেখাতে চায়। এই ব্যাখ্যা হাদিসের মূল বার্তাকে পরিষ্কার করে: দাওয়াত যদি আল্লাহর সন্তুষ্টি, সম্পর্ক রক্ষা বা সম্মানের জন্য না হয়ে মানুষের সামনে বড় দেখানোর জন্য হয়, তাহলে তা নিন্দনীয়। ইসলামে মেহমানদারি ভালো কাজ, কিন্তু সেই ভালো কাজও নিয়তের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই দাওয়াত দেওয়া ও দাওয়াত গ্রহণ—দুই ক্ষেত্রেই উদ্দেশ্য ও পরিবেশ বিবেচনা করা দরকার।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- অহংকার ও রিয়ার উদ্দেশ্যে করা দাওয়াত থেকে দূরে থাকা উচিত।
- ভালো কাজও খারাপ নিয়তের কারণে নিন্দনীয় হতে পারে।
- মেহমানদারিতে প্রতিযোগিতা নয়, আন্তরিকতা দরকার।
- দাওয়াত গ্রহণের ক্ষেত্রেও ইসলামী আদব ও বিবেচনা আছে।
