১৩/১০. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৩২৪২-[৫] - স্ত্রীকে মারধর না করার শিক্ষা
স্ত্রীদের সাথে সদ্ব্যবহার এবং তাদের প্রত্যেকের (স্বামী-স্ত্রীর) পারস্পরিক হক ও অধিকার সংক্রান্ত - প্রথম অনুচ্ছেদ
স্ত্রীকে মারধর না করার নববী শিক্ষা
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৩২৪২-[৫]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৩২৪২-[৫]
وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ زَمَعَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَا يَجْلِدْ أَحَدُكُمُ امْرَأَتَهُ جَلْدَ الْعَبْدِ ثُمَّ يُجَامِعْهَا فِي آخِرِ الْيَوْمِ» وَفِي رِوَايَةٍ: «يَعْمِدُ أَحَدُكُمْ فَيَجْلِدُ امْرَأَتَهُ جَلْدَ الْعَبْدِ فَلَعَلَّهُ يُضَاجِعُهَا فِي آخِرِ يَوْمِهِ». ثُمَّ وَعَظَهُمْ فِي ضَحِكِهِمْ مِنَ الضَّرْطَةِ فَقَالَ: «لِمَ يَضْحَكُ أَحَدُكُمْ مِمَّا يفعل؟»
‘আবদুল্লাহ ইবনু যাম‘আহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন : তোমাদের কেউ যেন ক্রীতদাসীর ন্যায় স্ত্রীকে না মারে (অত্যাচার না করা হয়), অথচ দিনের শেষেই তার সাথে সহবাস করে। অপর বর্ণনায় আছে’ তোমাদের কেউ যেন ইচ্ছা করে স্ত্রীকে ক্রীতদাসীর ন্যায় মারমুখো না হয়, হয়তো দিন শেষে তার সাথে সহবাস করতে চাইবে; আর এতে সে অনাগ্রহ প্রকাশ করবে। অতঃপর তিনি (ﷺ) বায়ু নির্গত হওয়ায় হাসি-ঠাট্টাচ্ছলের কারণে উপদেশ করলেন, যে কাজ নিজে কর অন্যের সে কাজে তোমরা কেন হাসবে!
[১] সহীহ : বুখারী ৪৯৪২, মুসলিম ১৪৭০।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৩২৪২-[৫]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم খুব স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, স্ত্রীকে ক্রীতদাসীর মতো মারা উচিত নয়; অথচ দিনের শেষে একই স্ত্রীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা চাওয়া হয়। এতে দাম্পত্য জীবনের এক গভীর আদব শেখানো হয়েছে। স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক অপমান, ভয় বা নির্যাতনের সম্পর্ক নয়; এটি মমতা, সম্মান ও দায়িত্বের সম্পর্ক। হাদিসের দ্বিতীয় অংশে তিনি বায়ু নির্গত হওয়ার মতো মানুষের স্বাভাবিক বিষয়ে হাসাহাসি করতেও নিষেধ করেছেন। তাই এই হাদিসে স্ত্রীকে সম্মান করা, কথায় ও আচরণে ভারসাম্য রাখা এবং অন্যের স্বাভাবিক বিষয় নিয়ে ঠাট্টা না করার শিক্ষা আছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- স্ত্রীকে দাসীর মতো মারধর করা নববী আদবের বিপরীত।
- দাম্পত্য সম্পর্কে সম্মান ও কোমল আচরণ জরুরি।
- মানুষের স্বাভাবিক কাজ নিয়ে হাসাহাসি করা উচিত নয়।
- ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের আগে অপমানজনক আচরণ থেকে বাঁচতে হবে।
