১৩/১০. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৩২৬০-[২৩] - স্ত্রীর সঙ্গে নাসীহাত ও কোমলতা
স্ত্রীদের সাথে সদ্ব্যবহার এবং তাদের প্রত্যেকের (স্বামী-স্ত্রীর) পারস্পরিক হক ও অধিকার সংক্রান্ত - দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
স্ত্রীকে নাসীহাত ও না মারার হাদিস
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৩২৬০-[২৩]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৩২৬০-[২৩]
وَعَنْ لَقِيطِ بْنِ صَبِرَةَ قَالَ: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ لِي امْرَأَةً فِي لِسَانِهَا شَيْءٌ يَعْنِي الْبَذَاءَ قَالَ: «طَلِّقْهَا» . قُلْتُ: إِنَّ لِي مِنْهَا وَلَدًا وَلَهَا صُحْبَةٌ قَالَ: «فَمُرْهَا» يَقُولُ عِظْهَا «فَإِنْ يَكُ فِيهَا خَيْرٌ فَسَتَقْبَلُ وَلَا تَضْرِبَنَّ ظَعِينَتَكَ ضَرْبَكَ أُمَيَّتَكَ» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُد
লাক্বীত্ব ইবনু সবিরহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
হে আল্লাহর রাসূল! আমার স্ত্রী অত্যন্ত মুখরিতা (বাচাল)। উত্তরে তিনি (ﷺ) বললেন, তবে তালাক দিয়ে দাও। আমি বললাম, কিন্তু ঐ স্ত্রীর ঘরে আমার সন্তান রয়েছে এবং সে আমার দীর্ঘ দিনের দাম্পত্য সঙ্গিনী। উত্তরে তিনি (ﷺ) বললেন, তবে তাকে নাসীহাত কর। যদি সে তোমার উপদেশে ভালো হয়ে যায় তবে ভালো। কিন্তু স্ত্রীকে ক্রীতদাসীর ন্যায় মারবে না।
[১] সহীহ : আবূ দাঊদ ১৪২-৪৩, সহীহ ইবনু হিব্বান ১০৫৪।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৩২৬০-[২৩]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে লাকীত ইবনু সাবিরাহ রা. বলেন, তাঁর স্ত্রী মুখর বা কঠিন ভাষার। রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم প্রথমে বলেন, তাকে তালাক দাও। তিনি জানান, সেই স্ত্রীর ঘরে তাঁর সন্তান আছে এবং তিনি দীর্ঘদিনের সঙ্গিনী। তখন নবী صلى الله عليه وسلم বলেন, তাকে নাসীহাত করো; যদি তার মধ্যে ভালো থাকে, সে তা গ্রহণ করবে। এরপর তিনি বলেন, স্ত্রীকে ক্রীতদাসীর মতো মারবে না। এই হাদিস দাম্পত্য সমস্যায় ধাপে ধাপে ভাবার শিক্ষা দেয়। শুধু রাগের সিদ্ধান্ত নয়, সম্পর্ক, সন্তান, দীর্ঘ সঙ্গ এবং সংশোধনের সুযোগও বিবেচনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে মারধরের সীমাহীনতা নিষেধ করা হয়েছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- দাম্পত্য সমস্যায় নাসীহাত ও সংশোধনের সুযোগ রাখা দরকার।
- সন্তান ও দীর্ঘ সংসারের বিষয় সিদ্ধান্তে বিবেচনা করা যায়।
- স্ত্রীকে ক্রীতদাসীর মতো মারধর করা নিষেধ করা হয়েছে।
- কঠিন ভাষার সমস্যা হলেও সংযত পথ বেছে নেওয়া উচিত।
