১৩/১০. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৩২৬৮-[৩১] - দাম্পত্য আচরণে সতর্কতা
স্ত্রীদের সাথে সদ্ব্যবহার এবং তাদের প্রত্যেকের (স্বামী-স্ত্রীর) পারস্পরিক হক ও অধিকার সংক্রান্ত - তৃতীয় অনুচ্ছেদ
স্ত্রীকে প্রহার বিষয়ে হাদিসের সতর্ক পাঠ
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৩২৬৮-[৩১]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৩২৬৮-[৩১]
وَعَنْ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «لَا يُسْأَلُ الرَّجُلُ فِيمَا ضَرَبَ امْرَأَتَهُ عَلَيْهِ». رَوَاهُ أَبُو دَاوُد وَابْن مَاجَه
উমার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) বলেছেন : স্বামী স্বীয় স্ত্রীকে (প্রয়োজনসাপেক্ষে) প্রহার করলে (কিয়ামত দিবসে) জিজ্ঞাসিত হবে না।
[১] য‘ঈফ : আবূ দাঊদ ২১৪, ইবনু মাজাহ ১৯৮৬, ইরওয়া ২০৩৪, য‘ঈফ আল জামি‘ ৬৩৫০। কারণ এ হাদীসে ‘আবদুর রহমান আল মুসলী হতে হাদীস বর্ণনায় দাঊদ বিন ‘আবদুল্লাহ আল আওদী একাকী হয়েছেন।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৩২৬৮-[৩১]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে বলা হয়েছে, স্বামী স্ত্রীকে প্রয়োজনসাপেক্ষে প্রহার করলে সে বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হবে না। তবে এই বর্ণনাকে বিচ্ছিন্নভাবে বুঝলে ভুল হতে পারে। কারণ একই ধারার অন্য বর্ণনায় দেখা যায়, স্ত্রীদের কষ্ট দেওয়ার অভিযোগ শুনে নবীজি (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, যারা এমন করে তারা ভালো মানুষদের অন্তর্ভুক্ত নয়। তাই এই হাদিসের আলোচনায় দায়িত্ব, প্রয়োজন, সীমা এবং ভালো আচরণের বিষয় একসঙ্গে মনে রাখতে হয়। এখানে মূল শিক্ষা হলো দাম্পত্য জীবনে শাসনের নামে জুলুম, অপমান বা কষ্ট দেওয়া কাম্য নয়। স্বামীকে নিজের আচরণের ব্যাপারে আল্লাহভীতি ও সতর্কতা রাখতে হবে। হাদিসটি দাম্পত্য শাসন, স্বামীর দায়িত্ব এবং স্ত্রীকে কষ্ট না দেওয়ার আলোচনায় ভারসাম্যপূর্ণভাবে বুঝতে হয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- দাম্পত্য বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় দায়িত্ববোধ থাকা দরকার।
- শাসনের নামে কষ্ট দেওয়া ভালো আচরণ নয়।
- এই বর্ণনা একই বিষয়ের অন্য সতর্ক বাণীর সঙ্গে বুঝতে হয়।
- স্বামীর আচরণে আল্লাহভীতি ও সংযম থাকা উচিত।
