১৩/১০. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৩২৬৯-[৩২] - অভিযোগ শুনে ন্যায়সমাধান
স্ত্রীদের সাথে সদ্ব্যবহার এবং তাদের প্রত্যেকের (স্বামী-স্ত্রীর) পারস্পরিক হক ও অধিকার সংক্রান্ত - তৃতীয় অনুচ্ছেদ
দাম্পত্য অভিযোগে নবীজির ন্যায়ভিত্তিক সমাধান
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৩২৬৯-[৩২]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৩২৬৯-[৩২]
وَعَنْ أَبِي سَعِيدٍ قَالَ: جَاءَتِ امْرَأَةٌ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَنَحْنُ عِنْده فَقَالَت: زَوْجِي صَفْوَانُ بْنُ الْمُعَطَّلِ يَضْرِبُنِي إِذَا صَلَّيْتُ وَيُفَطِّرُنِي إِذَا صُمْتُ وَلَا يُصَلِّي الْفَجْرَ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ قَالَ: وَصَفْوَانُ عِنْدَهُ قَالَ: فَسَأَلَهُ عَمَّا قَالَت فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ أَمَّا قَوْلُهَا: يَضْرِبُنِي إِذَا صَلَّيْتُ فَإِنَّهَا تَقْرَأُ بِسُورَتَيْنِ وَقَدْ نَهَيْتُهَا قَالَ: فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَوْ كَانَتْ سُورَةً وَاحِدَةً لَكَفَتِ النَّاسَ» . قَالَ: وَأَمَّا قَوْلُهَا يُفَطِّرُنِي إِذَا صُمْتُ فَإِنَّهَا تَنْطَلِقُ تَصُوم وَأَنا رجل شَاب فَلَا أَصْبِر فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَا تَصُومُ امْرَأَةٌ إِلَّا بِإِذْنِ زَوْجِهَا» وَأَمَّا قَوْلُهَا: إِنِّي لَا أُصَلِّي حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ فَإنَّا أهل بَيت قد عرف لنا ذَاك لَا نَكَادُ نَسْتَيْقِظُ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ قَالَ: «فَإِذَا اسْتَيْقَظْتَ يَا صَفْوَانُ فَصَلِّ» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُد وَابْن مَاجَه
আবূ সাঈদ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
একদিন আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট ছিলাম, এমন সময়ে জনৈকা রমণী এসে বলল, যখন আমি সালাত আদায় করি তখন আমার স্বামী সফওয়ান ইবনু মু'আত্ত্বাল আমাকে প্রহার করে, আমি যখন সাওম পালন করি তখন সাওম ভেঙ্গে দেয় এবং তিনি সূর্যোদয়ের পূর্বে ফজরের সালাত আদায় করে না।রাবী বলেন, সফওয়ানও সেখানে উপস্থিত ছিলেন, তখন তিনি (ﷺ) (অভিযোগের সত্যতা) তাকে জিজ্ঞেস করলে সে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! তার অভিযোগ হলো সালাত আদায়কালে আমি তাকে প্রহার করি- এর উত্তর হলো, সে সালাতে দু'টি (বা দীর্ঘ) সূরা পাঠ করে, যা আমি তাকে নিষেধ করেছি। রাবী বলেন, এটা শুনে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, একটি সূরাই তো লোকেদের জন্য যথেষ্ট। আর তার (পরবর্তী) অভিযোগ- আমি তাকে সাওম ভাঙ্গতে বাধ্য করি। অথচ (একাধারে সাওম পালনে) এত ধৈর্য ধারণ করতে পারি না, আমি তো একজন যুবক পুরুষ।এটা শুনে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, কোনো স্ত্রীলোক যেন স্বামীর অনুমতি ব্যতীত (নাল) সাওম পালন না করে। আর তার (শেষ) অভিযোগ- সূর্যোদয়ের পূর্বে ফজরের সালাত আদায় করি না। এর কারণ হলো, আমাদের পরিবারের লোকেরা দীর্ঘ রাত পর্যন্ত জেগে (জমির পানি নিষ্কাশনে লিপ্ত) থাকার দরুন প্রায়ই সূর্যোদয়ের (সঠিক সময়ের) পূর্বে ঘুম হতে উঠতে পারি না। এ কথা শুনে তিনি (ﷺ) বললেন, হে সফওয়ান! যখনই ঘুম হতে জাগবে তখনই সালাত আদায় করবে।
[১] সহীহ : আবূ দাঊদ ১৪৫৯, ইবনু মাজাহ ১৭৬২, আহমাদ ১১৭৫৯, সহীহাহ্ ২১৭২।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৩২৬৯-[৩২]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে এক নারী রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে তার স্বামী সম্পর্কে তিনটি অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, সালাত আদায় করলে স্বামী প্রহার করে, সাওম রাখলে ভেঙে দেয় এবং ফজর সূর্যোদয়ের আগে পড়ে না। নবীজি (صلى الله عليه وسلم) সঙ্গে সঙ্গে একপক্ষের কথা ধরে রায় দেননি; স্বামী সাফওয়ানকেও জিজ্ঞেস করেছেন। সালাতের বিষয়ে তিনি বললেন, একটি সূরাই মানুষের জন্য যথেষ্ট। সাওমের বিষয়ে বললেন, স্ত্রী যেন স্বামীর অনুমতি ছাড়া নফল সাওম না রাখে। আর ফজরের বিষয়ে বললেন, যখন জাগবে তখন সালাত আদায় করবে। এই হাদিস দাম্পত্য অভিযোগ, ন্যায়বিচার, নফল ইবাদত ও পারিবারিক দায়িত্বের ভারসাম্য শেখায়। এখানে দেখা যায়, অভিযোগ শোনা, উত্তর নেওয়া এবং বাস্তব অবস্থার ভিত্তিতে নির্দেশ দেওয়া নবীজির শিক্ষা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- বিচার বা পরামর্শে দুই পক্ষের কথা শোনা জরুরি।
- নফল সাওমের ক্ষেত্রে দাম্পত্য অধিকারের বিষয় বিবেচনায় রাখা হয়।
- সালাতে দীর্ঘ পড়া সবার জন্য সহজ নাও হতে পারে।
- ঘুম থেকে জেগে গেলে ফজরের সালাত আদায় করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
