১৫/০. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৩৪১১-[৬] - ভালো কাজের জন্য কসমের কাফফারা
কসম ও মানত - প্রথম অনুচ্ছেদ
উত্তম কাজ সামনে এলে কসমের কাফফারা
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৩৪১১-[৬]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৩৪১১-[৬]
وَعَنْ أَبِي مُوسَى قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَنِّي وَاللَّهِ إِنْ شَاءَ اللَّهُ لَا أَحْلِفُ عَلَى يَمِينٍ فَأَرَى غَيْرَهَا خَيْرًا مِنْهَا إِلَّا كَفَّرْتُ عَنْ يَمِينِي وَأَتَيْتُ الَّذِي هُوَ خَيْرٌ»
আবূ মূসা আশআরী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন : আল্লাহর কসম! আমি যদি কোনো বস্তুর উপর কসম করি, তখন ঐ কসমের বিপরীত করা উত্তম বলে মনে করি। অতঃপর ইন্শা-আল্লাহ আমি আমার কসমের কাফ্ফারাহ্ আদায় করে দেই এবং যে কাজটি উত্তম, তাই করি।
[১] সহীহ : বুখারী ৬৭১৮, মুসলিম ১৬৪৯, আবূ দাঊদ ৩২৭৬, নাসায়ী ৩৭৮০, ইবনু মাজাহ ২১০৭, সহীহ আল জামি‘ ২৫০৭।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৩৪১১-[৬]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে কসমের কাফফারা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা আছে। রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم বলেছেন, তিনি যদি কোনো বিষয়ে কসম করেন, পরে দেখেন তার বিপরীত কাজ উত্তম, তাহলে তিনি কসমের কাফফারা দেন এবং যে কাজ উত্তম তা করেন। এখানে বোঝানো হয়েছে, কসম করার পরও যদি পরিষ্কার হয় যে অন্য কাজটি ভালো, তাহলে শুধু কসমের কারণে কম ভালো কাজে আটকে থাকা ঠিক নয়। বরং কাফফারা আদায় করে ভালো কাজ করা উচিত। এই হাদিস কসমের বিধান, কসমের কাফফারা এবং উত্তম কাজ বেছে নেওয়ার ভারসাম্য শেখায়। এতে দায়িত্বহীনভাবে কসম ভাঙার শিক্ষা নেই; বরং কাফফারা দিয়ে সঠিক পথ নেওয়ার শিক্ষা আছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কসমের বিপরীত কাজ ভালো হলে কাফফারা দিয়ে ভালো কাজ করা যায়।
- কসমকে অজুহাত বানিয়ে কম ভালো কাজে আটকে থাকা উচিত নয়।
- কাফফারা কসমের দায়িত্ববোধের অংশ।
- উত্তম কাজ বেছে নেওয়া ইসলামী চরিত্রের অংশ।
