১৫/০. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৩৪১৭-[১২] - নিরর্থক কসমের ব্যাখ্যা
কসম ও মানত - প্রথম অনুচ্ছেদ
নিরর্থক কসম: লা ওয়াল্লাহ ও বালা ওয়াল্লাহ
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৩৪১৭-[১২]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৩৪১৭-[১২]
عَن عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتْ: أُنْزِلَتْ هَذِهِ الْآيَةُ: ﴾لَا يُؤَاخِذُكُمُ اللَّهُ بِاللَّغْوِ فِي أَيْمَانِكُمْ﴿ فِي قَوْلِ الرَّجُلِ: لَا وَاللَّهِ وَبَلَى وَاللَّهِ. رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ وَفِي شَرْحِ السُّنَّةِ لَفْظُ الْمَصَابِيحِ وَقَالَ: رَفَعَهُ بَعْضُهُمْ عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنهُ
'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
অত্র আয়াত “তোমাদেরকে নিরর্থক কসমের জন্য আল্লাহ তা'আলা তোমাদেরকে দায়ী করবেন না”- (সূরা আল বাক্বারহ্ ২ : ২২৫) ঐ ব্যক্তির ব্যাপারে অবতীর্ণ হয়েছে যে, لَا وَاللهِ (না, আল্লাহর কসম) এবং بَلٰى وَاللهِ (হ্যাঁ, আল্লাহর কসম) বলে। আর শারহুস্ সুন্নাহ্-এর মধ্যে এ বর্ণনা মাসাবীহ গ্রন্থকারের উদ্ধৃতি দিয়ে উল্লেখ করা হয়েছে। শারহুস্ সুন্নাহ্'তে আরও বলা হয়েছে যে, কোনো কোনো রাবী এ হাদীস 'আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে মারফূ' হিসেবে (তথা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর বাণীরূপে) বর্ণনা করেছেন।
[১] সহীহ : বুখারী ৪৬১৩, শারহুস্ সুন্নাহ্ ২৪৩৪।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৩৪১৭-[১২]-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় সূরাহ আল-বাকারাহর আয়াতের একটি ব্যাখ্যা এসেছে: আল্লাহ তোমাদের নিরর্থক কসমের জন্য দায়ী করবেন না। আয়িশাহ রাঃ বলেন, এটি ওই ব্যক্তির কথার বিষয়ে অবতীর্ণ হয়েছে, যে কথার মধ্যে লা ওয়াল্লাহ বা বালা ওয়াল্লাহ বলে ফেলে। অর্থাৎ কথার অভ্যাসে, গভীর উদ্দেশ্য ছাড়া এমন কসম জাতীয় শব্দ মুখে চলে আসে। বর্ণনায় আরও উল্লেখ আছে, কিছু রাবী একে মারফূ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাই ব্যাখ্যায় বর্ণনার ধরন খেয়াল রাখা দরকার। এই হাদিস নিরর্থক কসম, মুখের অভ্যাস এবং কসমের নিয়ত নিয়ে বোঝার সুযোগ দেয়। একই সঙ্গে এটি শেখায়, আল্লাহর নাম মুখে আনার সময় অভ্যাসের কথাও সচেতনভাবে ঠিক করা দরকার।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- লা ওয়াল্লাহ ও বালা ওয়াল্লাহ ধরনের অভ্যাসগত কথার বিষয়ে ব্যাখ্যা এসেছে।
- নিরর্থক কসম বুঝতে নিয়ত ও কথার ধরন বিবেচ্য।
- আল্লাহর নাম মুখে আনার ক্ষেত্রে সচেতন হওয়া উচিত।
- বর্ণনার ধরন বুঝে হাদিস ব্যাখ্যা করা দরকার।
