১৭/৭. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৩৫৮৮-[৩৪] - আল্লাহর হদ কায়েমের গুরুত্ব
দণ্ডবিধি - তৃতীয় অনুচ্ছেদ
আল্লাহর হদ কায়েমের বড় গুরুত্ব
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৩৫৮৮-[৩৪]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৩৫৮৮-[৩৪]
وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «إِقَامَةُ حَدٍّ مِنْ حُدُودِ اللَّهِ خَيْرٌ مِنْ مَطَرِ أَرْبَعِينَ لَيْلَةً فِي بلادِ الله». رَوَاهُ ابْن مَاجَه
ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন : আল্লাহ তা'আলার দণ্ডবিধিসমূহের কোনো একটি দণ্ড কার্যকর করা, আল্লাহ তা'আলার নগরসমূহে চল্লিশ দিন (অবিরত) বৃষ্টি বর্ষণের চেয়েও উত্তম।
[১] হাসান : ইবনু মাজাহ ২৫৩৭, সহীহ আল জামি‘ ১১৩৯, সহীহ আত্ তারগীব ২৩৫০।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৩৫৮৮-[৩৪]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) আল্লাহর দণ্ডবিধি বা হদ কায়েমের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। তিনি বলেছেন, আল্লাহর দণ্ডবিধিসমূহের একটি দণ্ড কার্যকর করা আল্লাহর নগরসমূহে চল্লিশ দিন বৃষ্টি বর্ষণের চেয়েও উত্তম। বৃষ্টি মানুষের জমি, ফসল ও জীবনের জন্য বড় রহমত। কিন্তু হাদিসে হদ কায়েমকে তার চেয়েও বড় কল্যাণ হিসেবে দেখানো হয়েছে। এর কারণ, হদ সমাজে অন্যায় কমায়, মানুষকে সীমা মানতে শেখায় এবং ন্যায়বিচারকে শক্ত করে। তবে এই শিক্ষা বুঝতে গিয়ে মনে রাখতে হবে, হদ প্রয়োগ ব্যক্তিগত রাগ বা প্রতিশোধ নয়। এটি ইসলামী বিচারব্যবস্থার অংশ, যেখানে প্রমাণ, শর্ত এবং কর্তৃপক্ষের ভূমিকা থাকে। তাই হাদিসের মূল শিক্ষা হলো—আল্লাহর বিধানকে সম্মান করা, অপরাধকে হালকা না দেখা এবং সমাজে ন্যায়ের মূল্য বোঝা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- আল্লাহর হদ কায়েম সমাজে ন্যায় ও শৃঙ্খলার সাথে যুক্ত।
- অপরাধকে হালকা করে দেখা সমাজের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
- হদ প্রয়োগ ব্যক্তিগত কাজ নয়; এটি বিচার ও কর্তৃপক্ষের বিষয়।
- আল্লাহর বিধানের গুরুত্বকে মুমিনের হৃদয়ে বড় করে দেখা উচিত।
