১৭/৫. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৩৬৪৮-[১৫] - ইয়াতীমের মদও ঢেলে ফেলার নির্দেশ
মদের বর্ণনা ও মধ্যপায়ীকে ভীতিপ্রদর্শন করা - দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
ইয়াতীমের মাল হলেও মদ ঢেলে ফেলার শিক্ষা
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৩৬৪৮-[১৫]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৩৬৪৮-[১৫]
وَعَن أبي سعيدٍ الخدريِّ قَالَ: كانَ عندَنا خَمْرٌ لِيَتِيمٍ فَلَمَّا نَزَلَتِ (الْمَائِدَةُ) سَأَلَتْ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْهُ وَقُلْتُ: إِنَّه ليَتيمٍ فَقَالَ: «أهْريقوهُ». رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ
আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমাদের নিকট জনৈক ইয়াতীমের কিছু মদ ছিল। অতঃপর যখন সূরা আল মায়িদাহ্ নাযিল হলো (অর্থাৎ- মদ হারাম হওয়ার আয়াত নাযিল হলো), তখন আমি এ সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে জিজ্ঞেস করলাম এবং বললাম, এটাতো ইয়াতীমের মাল। নবী (ﷺ) বললেন: তবুও তা ঢেলে ফেল।
[১] সহীহ : তিরমিযী ১২৬৩।
অনুবাদের উৎস
- প্রকাশক:
- হাদিস একাডেমী
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৩৬৪৮-[১৫]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) বলেন, তাদের কাছে একজন ইয়াতীমের কিছু মদ ছিল। যখন সূরা আল মায়িদাহ্ নাযিল হলো, অর্থাৎ মদ হারাম হওয়ার আয়াত এলো, তখন তিনি রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-কে জিজ্ঞেস করলেন। তিনি বিশেষভাবে বললেন, এটি তো ইয়াতীমের মাল। তবুও নবী (صلى الله عليه وسلم) বললেন, “তা ঢেলে ফেল।” এই বর্ণনা দেখায়, মদের নিষেধাজ্ঞা মালিকের পরিচয় দেখে বদলায়নি। ইয়াতীমের সম্পদ সাধারণত যত্নের সঙ্গে রক্ষা করতে হয়, কিন্তু এখানে বস্তুটি নিজেই নিষিদ্ধ হওয়ায় তা রাখা হয়নি। মূল শিক্ষা হলো, হারাম বস্তু সম্পদ হিসেবে ধরে রাখার পথ ইসলাম দেখায় না। আল্লাহর বিধান এলে আবেগ বা আর্থিক কারণ দিয়ে তা এড়িয়ে যাওয়া ঠিক নয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ইয়াতীমের মাল হলেও মদ সংরক্ষণ করা হয়নি।
- হারাম বস্তু সম্পদ হিসেবে ধরে রাখার অনুমতি এই বর্ণনায় নেই।
- আল্লাহর বিধান এলে ব্যক্তিগত ক্ষতি-লাভের হিসাব পেছনে রাখা উচিত।
