১৮/০. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৩৬৭০-[১০] - ভালো ও মন্দ শাসকের পরিচয়
প্রশাসন ও বিচারকার্য - প্রথম অনুচ্ছেদ
الإمارةশব্দটির অর্থ আমিরের পদ গ্রহণ করা বা চিহ্ন ইত্যাদি।القضاءদ্বারা এখানে উদ্দেশ্য শার্‘ঈ আদালত।
ভালো শাসক, মন্দ শাসক ও আনুগত্যের ভারসাম্য
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৩৬৭০-[১০]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৩৬৭০-[১০]
وَعَنْ عَوْفِ بْنِ مَالِكٍ الْأَشْجَعِيِّ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «خِيَارُ أئمتكم الَّذين يحبونهم وَيُحِبُّونَكُمْ وَتُصَلُّونَ عَلَيْهِمْ وَيُصَلُّونَ عَلَيْكُمْ وَشِرَارُ أَئِمَّتِكُمُ الَّذِي تبغضونهم ويبغضونكم وتلعنوهم ويلعنوكم» قَالَ: قُلْنَا: يَا رَسُولَ اللَّهِ أَفَلَا نُنَابِذُهُمْ عِنْدَ ذَلِكَ؟ قَالَ: «لَا مَا أَقَامُوا فِيكُمُ الصَّلَاةَ لَا مَا أَقَامُوا فِيكُمُ الصَّلَاةَ أَلَا مَنْ وُلِّيَ عَلَيْهِ وَالٍ فَرَآهُ يَأْتِي شَيْئًا مِنْ مَعْصِيَةِ اللَّهِ فَلْيَكْرَهْ مَا يَأْتِي مِنْ مَعْصِيَةِ اللَّهِ وَلَا يَنْزِعَنَّ يَدًا مِنْ طَاعَةٍ».رَوَاهُ مُسلم
আওফ ইবনু মালিক আল-আশজাঈ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: তোমাদের মধ্যে ঐ শাসকই সর্বোত্তম, যাদের তোমরা ভালোবাসো এবং তারা তোমাদের ভালোবাসে। তোমরা তাদের জন্য দোয়া করো এবং তারাও তোমাদের জন্য দোয়া করে। আর তোমাদের মধ্যে ঐ শাসকই সর্বনিকৃষ্ট, যাদের প্রতি তোমরা ক্রোধান্বিত হও এবং তারাও তোমাদের প্রতি ক্রোধ ও শত্রুতা পোষণ করে। আর তাদের প্রতি তোমরা অভিসম্পাত করো এবং তারাও তোমাদের প্রতি অভিসম্পাত করে।রাবী বলেন, তখন আমরা জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রাসূল! এমতাবস্থায় কি আমরা তাদেরকে প্রত্যাখ্যান করব না (তবুও কি বায়আতের উপর থাকব)? তিনি (ﷺ) বললেন: না, যতক্ষণ পর্যন্ত তারা তোমাদের মাঝে সালাত প্রতিষ্ঠা করে। (পুনরায় বললেন) না, যতক্ষণ পর্যন্ত তারা তোমাদের মাঝে সালাত প্রতিষ্ঠা করে। সাবধান! যে ব্যক্তিকে তোমাদের প্রতি শাসক নিযুক্ত করা হয় আর তার মধ্যে যদি আল্লাহ তা'আলার নাফরমানি পরিলক্ষিত হয়, তাহলে তার সে নাফরমানির কাজটি তুচ্ছ-তাচ্ছিল্যের সাথে অপছন্দ কর, কিন্তু তার আনুগত্য থেকে পিছপা হবে না।
[১] সহীহ : মুসলিম ১৮৫৫, আহমাদ ২৩৯৮১, দারিমী ২৮৩৯, সহীহাহ্ ৯০৭, সহীহ আল জামি‘ ৩২৫৮।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৩৬৭০-[১০]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم ভালো ও মন্দ শাসকের পরিচয় দিয়েছেন। ভালো শাসক তারা, যাদের জনগণ ভালোবাসে এবং তারাও জনগণকে ভালোবাসে; জনগণ তাদের জন্য দোয়া করে, তারাও জনগণের জন্য দোয়া করে। আর মন্দ শাসক তারা, যাদের প্রতি মানুষ ক্রোধান্বিত হয় এবং তারাও মানুষের প্রতি ক্রোধ ও শত্রুতা রাখে। সাহাবীগণ প্রশ্ন করলেন, এমন হলে কি তাদের প্রত্যাখ্যান করা হবে? রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم বললেন, না, যতক্ষণ তারা সালাত প্রতিষ্ঠা করে। এরপর তিনি বলেন, কারও অধীনে কোনো শাসক নিযুক্ত হলে এবং সে আল্লাহর নাফরমানির কিছু করতে দেখলে সেই নাফরমানিকে অপছন্দ করবে, কিন্তু আনুগত্য থেকে হাত সরাবে না। এতে মন্দ কাজকে ঘৃণা করা এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখার শিক্ষা একসাথে এসেছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ভালো শাসকের সাথে মানুষের ভালোবাসা ও দোয়ার সম্পর্ক থাকে।
- শাসকের নাফরমানি দেখলে সেই কাজকে অপছন্দ করতে বলা হয়েছে।
- সালাত প্রতিষ্ঠার বিষয়টি আনুগত্য আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে।
- মন্দ কাজ অপছন্দ করা ও আনুগত্য ভেঙে না ফেলা—দুটির ভারসাম্য আছে।
