১৮/০. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৩৬৯৫-[৩৫] - শাসককে অপমান করার সতর্কতা
প্রশাসন ও বিচারকার্য - দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
শাসককে অপমান নয়: ভাষা ও আচরণে সতর্কতা
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৩৬৯৫-[৩৫]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৩৬৯৫-[৩৫]
وَعَن زِيادِ بنِ كُسَيبٍ العَدَوِيِّ قَالَ: كُنْتُ مَعَ أَبِي بَكْرَةَ تَحْتَ مِنْبَرِ ابْنِ عَامِرٍ وَهُوَ يَخْطُبُ وَعَلَيْهِ ثِيَابٌ رِقَاقٌ فَقَالَ أَبُو بِلَال: انْظُرُوا إِلَى أَمِير نايلبس ثِيَابَ الْفُسَّاقِ. فَقَالَ أَبُو بَكْرَةَ: اسْكُتْ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُول: «مَنْ أَهَانَ سُلْطَانَ اللَّهِ فِي الْأَرْضِ أَهَانَهُ اللَّهُ» رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَقَالَ: هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ
আবূ বাকরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
একদিন আমি আবূ বাকরাহ্ (রাঃ) -এর সাথে ইবনু ‘আমির-এর মিম্বারের নিচে বসে ছিলাম, তখন তিনি খুতবা দিচ্ছিলেন এবং তাঁর পরিধানে ছিল একটি পাতলা মিহিন কাপড়। তখন আবূ বিলাল (রহঃ) বলে উঠলেন : তোমরা আমাদের ‘আমির-এর দিকে তাকিয়ে দেখ, তিনি ফাসিক্বদের পোশাক পরিধান করেছেন। তখন আবূ বাকরাহ্ (রাঃ) বললেন: নিশ্চুপ থাকো! আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি, তিনি (ﷺ) বলেছেন: যাকে আল্লাহ তা'আলা দুনিয়ার প্রতিনিধি (শাসক) নিযুক্ত করেছেন, আর ঐ শাসককে যে ব্যক্তি অপমানিত করে, আল্লাহ তা'আলাও তাকে অপমানিত করবেন।
[১] হাসান : তিরমিযী ২২২৪, সহীহ আল জামি‘ ৬১১১।
অনুবাদের উৎস
- প্রকাশক:
- হাদিস একাডেমী
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৩৬৯৫-[৩৫]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আবূ বাকরাহ (রা.)-এর একটি ঘটনা এসেছে। তিনি ইবনু ‘আমিরের মিম্বারের নিচে বসে ছিলেন। ইবনু ‘আমির খুতবা দিচ্ছিলেন এবং তাঁর পোশাক নিয়ে আবূ বিলাল কঠোর মন্তব্য করেন। তখন আবূ বাকরাহ (রা.) তাকে চুপ থাকতে বলেন এবং রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-এর কথা শুনান—যে ব্যক্তি আল্লাহর পৃথিবীতে নিযুক্ত শাসককে অপমান করে, আল্লাহও তাকে অপমানিত করবেন। হাদিসটি শাসকের ভুলকে সমর্থন করার কথা নয়; বরং ভাষা, সম্মান ও আচরণে সীমা মানার শিক্ষা দেয়। নেতৃত্বের সঙ্গে মতভেদ হতে পারে, কিন্তু অপমান, হেয় করা ও প্রকাশ্য তুচ্ছতা মুসলিম চরিত্রের সঙ্গে মানায় না। তাই “শাসককে অপমান”, “আমীরের সম্মান” ও “আচরণে সতর্কতা” এই হাদিসের মূল বিষয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- শাসকের ব্যাপারে কথা বলার সময় ভাষায় সতর্কতা দরকার।
- অপমান করা ও হেয় করা ইসলামী আচরণের সঙ্গে মানায় না।
- মতভেদ থাকলেও সীমা ও শিষ্টতা রক্ষা করা উচিত।
- দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির মর্যাদা নষ্ট করা হালকা বিষয় নয়।
