১৮/২. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৩৭৩৮-[৮] - দুই পক্ষের কথা শুনে বিচার
প্রশাসনিক কর্মস্থলে কাজ করা এবং তা গ্রহণের দায়িত্বে ভয় করা - দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
দুই পক্ষের কথা শুনে বিচার করার নববী শিক্ষা
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৩৭৩৮-[৮]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৩৭৩৮-[৮]
عَن عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: بَعَثَنِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلَى الْيَمَنِ قَاضِيًا فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ تُرْسِلُنِي وَأَنَا حَدِيثُ السِّنِّ وَلَا عِلْمَ لِي بِالْقَضَاءِ؟ فَقَالَ: «إِنَّ اللَّهَ سَيَهْدِي قَلْبَكَ وَيُثَبِّتُ لِسَانَكَ إِذَا تَقَاضَى إِلَيْكَ رَجُلَانِ فَلَا تَقْضِ لِلْأَوَّلِ حَتَّى تَسْمَعَ كَلَامَ الْآخَرِ فَإِنَّهُ أَحْرَى أَنْ يَتَبَيَّنَ لَكَ الْقَضَاءُ». قَالَ: فَمَا شَكَكْتُ فِي قَضَاءٍ بَعْدُ. رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَأَبُو دَاوُدَ وَابْنُ مَاجَهْ وَسَنَذْكُرُ حَدِيثَ أُمِّ سَلَمَةَ: «إِنَّمَا أَقْضِي بَيْنَكُمْ برأيي» فِي بَابِ «الْأَقْضِيَةِ وَالشَّهَادَاتِ» إِنْ شَاءَ اللَّهُ تَعَالَى
আলী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে শাসক নিযুক্ত করে যখন ইয়ামানে পাঠালেন, তখন আমি জিজ্ঞেস করলামঃ হে আল্লাহর রাসূল! আপনি আমাকে পাঠাচ্ছেন অথচ আমি একজন যুবক, আর বিচারকার্য বা শাসনভার পরিচালনায় আমি অনভিজ্ঞ। তখন তিনি (ﷺ) বললেনঃ আল্লাহ তা’আলা তোমার অন্তরকে শীঘ্রই সৎপথ দেখাবেন এবং তোমার জবানকেও হিফাযাত করবেন। যদি দুই ব্যক্তি তাদের মুকদ্দামা নিয়ে তোমার নিকট উপস্থিত হয়, তখন অপর পক্ষের কথা না শুনা পর্যন্ত প্রথম ব্যক্তির পক্ষে কোনো ফয়সালা দিও না। কেননা প্রতিপক্ষের বর্ণনা থেকে মুকদ্দামার ফয়সালা দিতে তোমার সহজসাধ্য হবে। তিনি [’আলী (রাঃ)] বলেনঃ অতঃপর আমি আর কোনো মুকদ্দামায় দ্বিধাগ্রস্ত হইনি। (তিরমিযী, আবূ দাঊদ ও ইবনু মাজাহ্)
[১] হাসান : আবূ দাঊদ ৩৫৮২, ইরওয়া ২৫০০, তিরমিযী ১৩৩১, ইবনু মাজাহ ২৩১০।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৩৭৩৮-[৮]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে বিচারকের জন্য খুব বাস্তব একটি নিয়ম এসেছে। ‘আলী (রাঃ) ইয়ামানে বিচারক হয়ে যাওয়ার আগে নিজের কম বয়স ও অনভিজ্ঞতার কথা জানান। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) তাঁকে বলেন, আল্লাহ তোমার অন্তরকে সৎপথ দেখাবেন এবং তোমার জবানকে স্থির রাখবেন। এরপর তিনি মূল শিক্ষা দেন—যদি দুই ব্যক্তি মামলা নিয়ে আসে, অপর পক্ষের কথা না শোনা পর্যন্ত প্রথম ব্যক্তির পক্ষে ফায়সালা দিও না। কারণ অন্য পক্ষের বক্তব্য শুনলে বিচার স্পষ্ট হতে সহজ হবে। এই হাদিস আদালত, সালিশ, পরিবার ও অফিস—সব জায়গায় কাজে লাগে। এক পক্ষের কথা শুনে সিদ্ধান্ত নেওয়া অন্যায়ের দরজা খুলতে পারে। ন্যায়বিচারের জন্য ধৈর্য, শুনে নেওয়া ও ভারসাম্য দরকার।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- এক পক্ষের কথা শুনে ফায়সালা করা ঠিক নয়।
- বিচারে দুই পক্ষের বক্তব্য শোনা জরুরি।
- অভিজ্ঞতা কম হলেও নববী নির্দেশ মেনে চললে বিচার সহজ হয়।
- ধৈর্য ও ভারসাম্য ন্যায়বিচারের মূল অংশ।
