৩/৪. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪০৫-[১৫] - পরিপূর্ণ ওজু ও আঙ্গুল খিলাল
ওজুর নিয়ম-কানুন - দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
পরিপূর্ণ ওজু ও আঙ্গুল খিলালের নিয়ম
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৪০৫-[১৫]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৪০৫-[১৫]
وَعَنْ لَقِيطِ بْنِ صَبُرَةَ قَالَ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللهِ أَخْبِرْنِي عَنِ الْوُضُوءِ قَالَ أَسْبِغْ الْوُضُوءَ وَخَلِّلْ بَيْنَ الْأَصَابِعِ وَبَالِغْ فِي الِاسْتِنْشَاقِ اِلَّا أَنْ تَكُونَ صَائِمًا. رَوَاهُ أَبُوْ دَاوٗدَ وَالتِّرْمِذِيُّ وَالنَّسَائِـيُِّ وَرَوَى ابْنُ مَاجَةَ وَالدَّارِمِيُّ اِلى قَوْلِه بَيْنَ الْاَصَابِعِ
লাক্বীত্ব ইবনু সবুরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে ওজু সম্পর্কে বলুন। তিনি (ﷺ) বললেন, ওজুর অঙ্গগুলো পরিপূর্ণভাবে ধুবে। আঙ্গুলগুলোর মধ্যে (আঙ্গুল ঢুকিয়ে) খিলাল করবে এবং উত্তমরূপে নাকে পানি পৌঁছাবে, যদি সিয়াম পালনকারী (রোজাদার) না হও। [১]
[১] সহীহ : আবূ দাঊদ ১৪২, তিরমিযী ৭৮৮, নাসায়ী ১১৪, ইবনু মাজাহ্ ৪৪৮। তবে ইবনু মাজাহ্ ও দারিমীতে শেষের অংশটুকু নেই।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪০৫-[১৫]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে লাকীত ইবনু সাবুরাহ (রাঃ) রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-কে ওজু সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেন। উত্তরে নবীজি صلى الله عليه وسلم বলেন, ওজুর অঙ্গগুলো পরিপূর্ণভাবে ধুবে, আঙ্গুলগুলোর মধ্যে খিলাল করবে এবং ভালোভাবে নাকে পানি পৌঁছাবে, তবে সিয়াম পালনকারী হলে সতর্ক থাকবে। এখানে ওজু করার নিয়ম খুব পরিষ্কারভাবে এসেছে। শুধু পানি লাগালেই নয়, বরং অঙ্গগুলো ভালোভাবে ধোয়া এবং যেখানে পানি পৌঁছানো কঠিন হতে পারে, সেখানে যত্ন নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। আঙ্গুল খিলাল করার শিক্ষা হাত-পায়ের পরিচ্ছন্নতার দিকে মনোযোগ দেয়। আবার নাকে পানি পৌঁছানোর ক্ষেত্রে রোজাদারের জন্য আলাদা সতর্কতা রাখা হয়েছে, যেন ওজুর আদব মানতে গিয়ে সিয়ামের ক্ষতি না হয়। তাই এই হাদিসে পরিপূর্ণ ওজু, আঙ্গুল খিলাল এবং রোজাদারের ওজু—তিনটি বিষয় সুন্দরভাবে এসেছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ওজুর অঙ্গগুলো পরিপূর্ণভাবে ধোয়ার নির্দেশ এসেছে।
- আঙ্গুলের ফাঁকে পানি পৌঁছানোর জন্য খিলাল করা উচিত।
- নাকে পানি পৌঁছানোর সময় রোজাদারের সতর্ক থাকা দরকার।
- ওজুতে যত্ন ও ভারসাম্য—দুটিই গুরুত্বপূর্ণ।
