২০/২. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪১৪৬-[৪৩] - হালাল-হারামের মূলনীতি
যেসব প্রাণী খাওয়া হালাল ও হারাম - তৃতীয় অনুচ্ছেদ
খাদ্যে হালাল-হারামের মূলনীতি
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৪১৪৬-[৪৩]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৪১৪৬-[৪৩]
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قَالَ: كَانَ أَهْلُ الْجَاهِلِيَّةِ يَأْكُلُونَ أَشْيَاءَ وَيَتْرُكُونَ أَشْيَاءَ تَقَذُّرًا فَبَعَثَ اللَّهُ نَبِيَّهُ وَأَنْزَلَ كِتَابَهُ وَأَحَلَّ حَلَالَهُ وَحَرَّمَ حَرَامَهُ فَمَا أَحَلَّ فَهُوَ حَلَالٌ وَمَا حَرَّمَ فَهُوَ حَرَامٌ وَمَا سَكَتَ عَنْهُ فهوَ عفْوٌ وتَلا ﴾قُلْ لَا أَجِدُ فِيمَا أُوحِيَ إِلَيَّ مُحَرَّمًا عَلَى طَاعِمٍ يَطْعَمُهُ إِلَّا أَنْ يَكُونَ مَيْتَةً أَو دَمًا﴿ رَوَاهُ أَبُو دَاوُد
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
মূর্খতার যুগের লোকেরা কোন কোন জিনিস খেতো, আবার কোন কোন জিনিসকে ঘৃণাবশতঃ বর্জন করত। অতঃপর আল্লাহ তা'আলা স্বীয় নবী (ﷺ)-কে পাঠালেন এবং অবতীর্ণ করলেন নিজের কিতাব (আল কোরআন)। তাতে তিনি হালালকে হালাল এবং হারামকে হারাম বলে ঘোষণা দিলেন। সুতরাং তিনি যা হালাল বলেছেন তা-ই হালাল আর তিনি যা হারাম করেছেন তা-ই হারাম। আর যে বস্তুতে নীরব রয়েছেন তা মার্জনীয়।এ বলে তিনি তিলাওয়াত করলেন- “বলে দিন, আমার নিকট যা কিছু ওহী করা হয়েছে তাতে লোকে যা আহার করে তার মধ্যে আমি কিছুই নিষিদ্ধ পাইনি; মৃত, প্রবহমান রক্ত ও শূকরের মাংস ব্যতীত”- (সূরা আল আন্‘আম ৬ : ১৪৫)।
[১] সানাদ সহীহ : আবূ দাঊদ ৩৮০০, দারাকুত্বনী ১২, মুসান্নাফ ‘আবদুর রায্যাক ৮৭৬৭, আস্ সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ১৯৯৯৩৯।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪১৪৬-[৪৩]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে ইবনু আব্বাস (রাঃ) জাহিলী যুগের খাবারের অভ্যাসের কথা বলেছেন। তারা কিছু জিনিস খেত, আবার কিছু জিনিস ঘৃণার কারণে ছেড়ে দিত। এরপর আল্লাহ তাঁর নবী صلى الله عليه وسلم-কে পাঠালেন এবং কিতাব নাযিল করলেন। তাতে হালালকে হালাল এবং হারামকে হারাম বলা হয়েছে। তাই যা আল্লাহ হালাল করেছেন, তা হালাল; যা হারাম করেছেন, তা হারাম। আর যে বিষয়ে নীরবতা আছে, তা মার্জনীয়। এরপর তিনি সূরাহ আল আনআমের আয়াত তিলাওয়াত করেন, যেখানে মৃত প্রাণী, প্রবহমান রক্ত ও শূকরের মাংসের কথা এসেছে। এই হাদিস খাদ্যের হালাল হারাম বুঝতে কুরআন ও নবী صلى الله عليه وسلم-এর দিকনির্দেশনাকে মূল ধরে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- হালাল-হারামের ভিত্তি আল্লাহর নির্দেশ ও তাঁর কিতাব।
- মানুষের শুধু ঘৃণা বা পছন্দ কোনো জিনিসকে হারাম বানায় না।
- যা হারাম বলা হয়েছে, সেটি হারাম হিসেবে মানতে হবে।
- যে বিষয়ে নীরবতা আছে, তা নিয়ে অযথা কঠোরতা না করাই শিক্ষা।
