২১/০. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪১৭৫-[১৭] - মুমিনের খাবার বিষয়ে মুসলিমের বর্ণনা
খাদ্য - প্রথম অনুচ্ছেদ
أطعمة(আত্ব‘ইমাহ্) শব্দটি বহুবচন। এর একবচন হলطَعَامٌ(ত্ব‘আ-মুন)। অর্থ হলো, যে জিনিস খাওয়া বা ভক্ষণ করা হয়ে থাকে। এখানেأطعمة(আত্ব‘ইমাহ্) দ্বারা ভক্ষণীয় ও পানীয় উভয় ধরনের বস্তু উদ্দেশ্য। কিন্তু ভক্ষণীয় জিনিসকে প্রাধান্য দিয়ে লেখক শিরোনাম তৈরি করেছেন। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)মূলত এ অধ্যায়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যেসব খাবার খেয়েছেন, পান করেছেন অথবা খাননি, পানও করেননি তা বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করা হয়েছে। আর খাবার ও পান করার আদব বা শিষ্টাচার শিক্ষা দেয়া হয়েছে।[সম্পাদক]
মুমিনের খাবার সংযম: মুসলিমের সংক্ষিপ্ত রিওয়ায়াত
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৪১৭৫-[১৭]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৪১৭৫-[১৭]
وَرَوَى مُسْلِمٌ عَنْ أَبِي مُوسَى وَابْنِ عُمَرَ الْمسند مِنْهُ فَقَط
ইমাম মুসলিম আবূ মূসা ও ইবনু উমর (রাঃ) হতে শুধুমাত্র রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বর্ণিত বাণীটিই (অর্থাৎ- اِنَّ الْمُؤْ مِنَ يَأْكُلُ.....) বর্ণনা করেছেন।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪১৭৫-[১৭]-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় ইমাম মুসলিম আবূ মূসা ও ইবনু উমর (রাঃ) থেকে শুধু রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর বাণীটি উল্লেখ করেছেন। এখানে দীর্ঘ ঘটনা নেই; মূল বক্তব্য হলো মুমিনের খাবার সংযমের শিক্ষা। এই কারণে ব্যাখ্যাও সংক্ষিপ্ত ও হাদিসের ভাষার মধ্যে থাকা উচিত। “মুমিন খায়...” কথাটি খাবার গ্রহণে ভারসাম্য, আত্মনিয়ন্ত্রণ এবং অতিরিক্ততা থেকে সতর্ক থাকার দিকে নিয়ে যায়। তবে হাদিসে যতটুকু আছে, ততটুকুই বলা নিরাপদ। এখানে কোনো আলাদা খাদ্যতালিকা বা চিকিৎসা-নিয়ম বলা হয়নি। বরং দৈনন্দিন জীবনে খাওয়া-পানার সময় মুমিনের আচরণে সংযম থাকা উচিত—এটাই মূল শিক্ষা। এই হাদিস একই বিষয়ের একটি সংক্ষিপ্ত প্রাসঙ্গিক বর্ণনা হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- এই রিওয়ায়াতে দীর্ঘ ঘটনা নয়, মূল বাণীটি এসেছে।
- খাবারে সংযম মুমিনের আচরণের অংশ হিসেবে বোঝা যায়।
- হাদিসের সীমার বাইরে খাদ্যবিধি বানানো ঠিক নয়।
- খাওয়া-পানার ক্ষেত্রেও আত্মনিয়ন্ত্রণের শিক্ষা পাওয়া যায়।
