২১/০. অধ্যায়ঃ

মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪২২১-[৬৩] - যায়তূনের তেল ও বরকতময় বৃক্ষ

খাদ্য - দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

(আরবি) দ্বারা উদ্দেশ্য (আরবি) অর্থাৎ পরস্পর দু’দলের মধ্যে সন্ধি স্থাপন। ইবনুল হুমাম বলেন : ইমাম যদি মনে করেন যে, শত্রুপক্ষের মালের বিনিময়ে অথবা মাল ব্যতিরেকেই সন্ধি করার মধ্যে কল্যাণ নিহিত আছে তাহলে তিনি সন্ধি করতে পারেন। কেননা আল্লাহ তা‘আলা বলেন : “তারা যদি শান্তির (সন্ধির) দিকে ঝুঁকে পড়ে তাহলে তুমি সেদিকে ঝুঁকে পড়ো।” (সূরাহ্ আল আনফাল ৮ : ৬১) যদিও আয়াতে কল্যাণের কথা উল্লেখ নেই তথাপি ফাকীহগণ একমত যে, মুসলিমদের কল্যাণ আছে বলে ইমামের নিকট সাব্যস্ত হলে তবেই শুধুমাত্র সন্ধি করা বৈধ। আর যদি সন্ধির মধ্যে কোনো কল্যাণ পরিলক্ষিত না হয় তাহলে সন্ধি করা বৈধ নয়।

যায়তূনের তেল খাওয়ার নববী শিক্ষা

মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৪২২১-[৬৩]

وَعَن أبي أُسَيدٍ الْأَنْصَارِيِّ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «كَلُوا الزَّيْتَ وَادَّهِنُوا بِهِ فَإِنَّهُ مِنْ شَجَرَةٍ مُبَارَكَةٍ». رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَابْنُ مَاجَهْ وَالدَّارِمِيُّ

আবূ উসায়দ আনসারী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন : তোমরা যায়তূনের তেল খাও এবং তা গায়ে মালিশ করো। কারণ তা একটি কল্যাণময় বৃক্ষ হতে (নির্গত)।

[১] সহীহ : তিরমিযী ১৮৫১, ইবনু মাজাহ ১৩১৯, দারিমী ২০৫২, মুসনাদে আহমাদ ১৬০৫৪, মুসান্নাফ ‘আবদুর রায্যাক ১৯৫৬৬৮, শু‘আবুল ঈমান ৫৯৩৮, সহীহুল জামি‘ ৪৪৯৮, সহীহ আত্ তারগীব ওয়াত্ তারহীব ২১২৭, সিলসিলাতুস্ সহীহাহ্ ৩৭৯।

মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪২২১-[৬৩]-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) যায়তূনের তেল খেতে এবং তা গায়ে মালিশ করতে বলেছেন। কথাটি খুব সংক্ষিপ্ত, কিন্তু এর শিক্ষা পরিষ্কার। খাবারের মধ্যে কিছু জিনিস আল্লাহর দেওয়া বিশেষ নিয়ামত হিসেবে আসে, আর যায়তূনের তেল তার একটি উদাহরণ। হাদিসে এর কারণও বলা হয়েছে—এটি একটি কল্যাণময় বৃক্ষ থেকে বের হয়। তাই এখানে মূল বিষয় হলো যায়তূনের তেল, বরকতময় খাবার এবং খাবারের আদব। এ হাদিস থেকে আমরা খাদ্যকে শুধু স্বাদ বা অভ্যাস হিসেবে দেখি না; বরং আল্লাহর দান হিসেবে দেখি। শরীরের যত্ন নেওয়া, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা এবং সহজ খাবারকে মূল্য দেওয়ার শিক্ষাও এখানে আছে। তবে হাদিসে যতটুকু বলা হয়েছে, ততটুকুতেই থাকা ভালো; অতিরিক্ত চিকিৎসাগত দাবি করা উচিত নয়।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • যায়তূনের তেল খাওয়া ও গায়ে ব্যবহার করার অনুমতি ও উৎসাহ আছে।
  • খাবারকে আল্লাহর নিয়ামত হিসেবে মূল্য দেওয়া উচিত।
  • বরকতময় জিনিসের ব্যবহারেও সংযম ও কৃতজ্ঞতা থাকা দরকার।

এই সম্পর্কিত হাদিসসমূহ

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন