২১/০. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪২২৮-[৭০] - হালাল হারামের মূলনীতি
খাদ্য - দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
(আরবি) দ্বারা উদ্দেশ্য (আরবি) অর্থাৎ পরস্পর দু’দলের মধ্যে সন্ধি স্থাপন। ইবনুল হুমাম বলেন : ইমাম যদি মনে করেন যে, শত্রুপক্ষের মালের বিনিময়ে অথবা মাল ব্যতিরেকেই সন্ধি করার মধ্যে কল্যাণ নিহিত আছে তাহলে তিনি সন্ধি করতে পারেন। কেননা আল্লাহ তা‘আলা বলেন : “তারা যদি শান্তির (সন্ধির) দিকে ঝুঁকে পড়ে তাহলে তুমি সেদিকে ঝুঁকে পড়ো।” (সূরাহ্ আল আনফাল ৮ : ৬১) যদিও আয়াতে কল্যাণের কথা উল্লেখ নেই তথাপি ফাকীহগণ একমত যে, মুসলিমদের কল্যাণ আছে বলে ইমামের নিকট সাব্যস্ত হলে তবেই শুধুমাত্র সন্ধি করা বৈধ। আর যদি সন্ধির মধ্যে কোনো কল্যাণ পরিলক্ষিত না হয় তাহলে সন্ধি করা বৈধ নয়।
হালাল-হারাম জানার সহজ মূলনীতি
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৪২২৮-[৭০]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৪২২৮-[৭০]
وَعَنْ سَلْمَانَ قَالَ: سُئِلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنِ السَّمْنِ وَالْجُبْنِ وَالْفِرَاءِ فَقَالَ: «الْحَلَالُ مَا أَحَلَّ اللَّهُ فِي كِتَابِهِ وَالْحَرَامُ مَا حَرَّمَ اللَّهُ فِي كِتَابِهِ وَمَا سَكَتَ عَنْهُ فَهُوَ مِمَّا عَفَا عَنْهُ». رَوَاهُ ابْنُ مَاجَهْ وَالتِّرْمِذِيُّ وَقَالَ: هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ وموقوفٌ على الأصحِّ
সালমান (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
একদিন রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে ঘি, পনির ও বন্য গাধা (খাওয়া) সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলো। তিনি (ﷺ) বললেন, আল্লাহ তাআলা তাঁর কিতাবে যা কিছু হালাল বলেছেন তা হালাল এবং যা কিছু হারাম করেছেন তা হারাম। আর যা হতে নীরব রয়েছেন তা মার্জনীয়। (আর ইমাম তিরমিযী (রহঃ) বলেন : হাদীসটি হাসান ও গরীব, তবে সঠিক কথা হলো তা মাওকূফ)
[১] হাসান : তিরমিযী ১৭২৬, ইবনু মাজাহ ৩৩৬৬, সহীহুল জামি‘ ৩১৯৫, আল মু‘জামুল কাবীর লিত্ব ত্ববারানী ৬০৩৬, আস্ সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ২০২১৫।
অনুবাদের উৎস
- প্রকাশক:
- হাদিস একাডেমী
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪২২৮-[৭০]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-কে ঘি, পনির ও বন্য গাধা সম্পর্কে প্রশ্ন করা হয়। উত্তরে তিনি বলেন, আল্লাহ তাঁর কিতাবে যা হালাল করেছেন তা হালাল, যা হারাম করেছেন তা হারাম, আর যে বিষয়ে নীরব থেকেছেন তা মার্জনীয়। এখানে মূল বিষয় হলো হালাল-হারামের সীমা। মানুষ অনেক খাবার নিয়ে প্রশ্ন করে; কিন্তু মুসলিমের জন্য মূল মানদণ্ড হলো আল্লাহর বিধান। হাদিসে কোনো খাবারকে নিজের মনমতো হারাম বানানোর শিক্ষা নেই। আবার হারাম বিষয়ে ঢিলেমি করার কথাও নেই। ইমাম তিরমিযীর মন্তব্য অনুযায়ী বর্ণনার মান নিয়ে আলোচনা আছে এবং সঠিক কথা মাওকূফ বলা হয়েছে—এটি উল্লেখযোগ্য। তাই ব্যাখ্যায় সতর্ক থাকা দরকার। মূল শিক্ষা হলো হালাল-হারাম বিষয়ে আল্লাহর কিতাব ও শরিয়তের সীমা মানা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- হালাল-হারামের মূল মানদণ্ড আল্লাহর বিধান।
- নিজের পছন্দ-অপছন্দ দিয়ে খাবার হারাম বলা ঠিক নয়।
- যে বিষয়ে স্পষ্ট নিষেধ নেই, তা নিয়ে সতর্ক ও জ্ঞানভিত্তিক থাকা দরকার।
- বর্ণনার মান নিয়ে আলেমদের মন্তব্য থাকলে তা সতর্কভাবে উল্লেখ করা উচিত।
