২১/০. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪২৩১-[৭৩] - পেঁয়াজ খাওয়া নিয়ে হাদিস
খাদ্য - দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
(আরবি) দ্বারা উদ্দেশ্য (আরবি) অর্থাৎ পরস্পর দু’দলের মধ্যে সন্ধি স্থাপন। ইবনুল হুমাম বলেন : ইমাম যদি মনে করেন যে, শত্রুপক্ষের মালের বিনিময়ে অথবা মাল ব্যতিরেকেই সন্ধি করার মধ্যে কল্যাণ নিহিত আছে তাহলে তিনি সন্ধি করতে পারেন। কেননা আল্লাহ তা‘আলা বলেন : “তারা যদি শান্তির (সন্ধির) দিকে ঝুঁকে পড়ে তাহলে তুমি সেদিকে ঝুঁকে পড়ো।” (সূরাহ্ আল আনফাল ৮ : ৬১) যদিও আয়াতে কল্যাণের কথা উল্লেখ নেই তথাপি ফাকীহগণ একমত যে, মুসলিমদের কল্যাণ আছে বলে ইমামের নিকট সাব্যস্ত হলে তবেই শুধুমাত্র সন্ধি করা বৈধ। আর যদি সন্ধির মধ্যে কোনো কল্যাণ পরিলক্ষিত না হয় তাহলে সন্ধি করা বৈধ নয়।
পেঁয়াজ খাওয়া সম্পর্কে আয়িশাহ্ (রাঃ)-এর বর্ণনা
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৪২৩১-[৭৩]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৪২৩১-[৭৩]
وَعَن أبي زيادٍ قَالَ: سُئلتْ عائشةُ عَنِ الْبَصَلِ فَقَالَتْ: إِنَّ آخِرَ طَعَامٍ أَكَلَهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ طَعَامُ فِيهِ بصل. رَوَاهُ أَبُو دَاوُد
'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
‘আয়িশাহ্ (রাঃ)-কে পেঁয়াজ (খাওয়া) সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলো। তিনি বললেন : রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সর্বশেষ খাবার যা খেয়েছেন, তন্মধ্যে পেঁয়াজ ছিল।
[১] য‘ঈফ : আবূ দাঊদ ৩৮২৯, ইরওয়া ২৫১৩, মুসনাদে আহমাদ ২৪৫৮৫, সুনানুন্ নাসায়ী আল কুবরা ৬৬৮০, আস্ সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৫২৬৪। হাদীসটি য‘ঈফ হওয়ার কারণ, এর সনদে আছে, ‘‘বাকিয়্যাহ্ ইবনু ওয়ালীদ’’ নামক একজন মুদাল্লিস রাবী। যিনি ‘আন দ্বারা হাদীস বর্ণনা করেছেন। তাছাড়া তিনি ভুলও করতেন। দেখুন- তাহক্বীক মুসনাদে আহমাদ ২৪৬২৯ : শু‘আয়ব আরনাউত্ব।
অনুবাদের উৎস
- প্রকাশক:
- হাদিস একাডেমী
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪২৩১-[৭৩]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আবূ যিয়াদ (রহঃ) বলেন, ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)-কে পেঁয়াজ খাওয়া সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হয়। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) সর্বশেষ যে খাবার খেয়েছেন, তার মধ্যে পেঁয়াজ ছিল। এখানে মূল বিষয় হলো পেঁয়াজ খাওয়ার বিধান ও আদব। হাদিসটি দেখায় যে পেঁয়াজযুক্ত খাবারের কথা সরাসরি বর্ণনায় এসেছে। তবে অন্য বর্ণনা অনুযায়ী কাঁচা গন্ধযুক্ত জিনিস খেয়ে মানুষের কষ্টের বিষয়েও সতর্কতা এসেছে। তাই এ হাদিস থেকে পেঁয়াজকে একেবারে নিষিদ্ধ বলা যায় না; আবার গন্ধের কারণে অন্যকে কষ্ট দেওয়া থেকেও সতর্ক থাকতে হয়। সহজভাবে বললে, খাবার হালাল হলেও তার ব্যবহার ও সময়ের মধ্যে আদব থাকা দরকার।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- পেঁয়াজযুক্ত খাবারের কথা হাদিসে এসেছে।
- গন্ধযুক্ত খাবার খেলে অন্য মানুষের কষ্টের দিক ভাবা উচিত।
- খাবারের বিধান বুঝতে সরাসরি বর্ণনা ও আদব—দুটিই দেখা দরকার।
