২১/০. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪২৩৪-[৭৬] - জ্বরে হাসা খাওয়ার নির্দেশ
খাদ্য - দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
(আরবি) দ্বারা উদ্দেশ্য (আরবি) অর্থাৎ পরস্পর দু’দলের মধ্যে সন্ধি স্থাপন। ইবনুল হুমাম বলেন : ইমাম যদি মনে করেন যে, শত্রুপক্ষের মালের বিনিময়ে অথবা মাল ব্যতিরেকেই সন্ধি করার মধ্যে কল্যাণ নিহিত আছে তাহলে তিনি সন্ধি করতে পারেন। কেননা আল্লাহ তা‘আলা বলেন : “তারা যদি শান্তির (সন্ধির) দিকে ঝুঁকে পড়ে তাহলে তুমি সেদিকে ঝুঁকে পড়ো।” (সূরাহ্ আল আনফাল ৮ : ৬১) যদিও আয়াতে কল্যাণের কথা উল্লেখ নেই তথাপি ফাকীহগণ একমত যে, মুসলিমদের কল্যাণ আছে বলে ইমামের নিকট সাব্যস্ত হলে তবেই শুধুমাত্র সন্ধি করা বৈধ। আর যদি সন্ধির মধ্যে কোনো কল্যাণ পরিলক্ষিত না হয় তাহলে সন্ধি করা বৈধ নয়।
জ্বরের সময় হাসা খাওয়ানোর নববী শিক্ষা
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৪২৩৪-[৭৬]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৪২৩৪-[৭৬]
وَعَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا أَخَذَ أَهْلَهُ الْوَعْكُ أَمَرَ بِالْحَسَاءِ فصُنعَ ثمَّ أَمر فَحَسَوْا مِنْهُ وَكَانَ يَقُولُ: «إِنَّهُ لَيَرْتُو فُؤَادُ الحزين ويسرو عَن فؤاد السقيم كَمَا تسروا إِحْدَاكُنَّ الْوَسَخَ بِالْمَاءِ عَنْ وَجْهِهَا». رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَقَالَ: هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ
'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর পরিবারস্থ কারো জ্বর হলে তিনি হাসা প্রস্তুত করতে বলতেন এবং তা চেটে খেতে নির্দেশ দিতেন। তিনি (ﷺ) বলতেন, এটা চিন্তাযুক্ত মনকে সুদৃঢ় করে এবং পীড়িতের অন্তর হতে রোগের ক্লেশকে দূর করে, যেমন- তোমাদের নারীদের কেউ পানি দ্বারা নিজের মুখমণ্ডল হতে ময়লা দূর করে থাকে। (তিরমিযী বলেছেন : এ হাদীসটি হাসান সহীহ।)
[১] য‘ঈফ : তিরমিযী ২০৩৯, ইবনু মাজাহ ৩৪৪৫, য‘ঈফ সুনান ইবনু মাজাহ ৭৫২, মুসনাদে আহমাদ ২৪০৩৫। হাদীসটি য‘ঈফ হওয়ার কারণ, এর সনদে আছে ‘‘মুহাম্মাদ ইবনু সায়িব’’ তার মা থেকে। কিন্তু তার মায়ের পরিচয় জানা যায় না। বিস্তারিত দেখুন- তাহক্বীক মুসনাদে আহমাদ, শু‘আয়ব আরনাউত্বব : ২৪০৮১।
অনুবাদের উৎস
- প্রকাশক:
- হাদিস একাডেমী
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪২৩৪-[৭৬]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর পরিবারের কেউ জ্বরে আক্রান্ত হলে তিনি হাসা প্রস্তুত করতে বলতেন এবং তা চেটে খেতে নির্দেশ দিতেন। তিনি বলতেন, এটি চিন্তাগ্রস্ত মনকে মজবুত করে এবং অসুস্থ ব্যক্তির অন্তর থেকে রোগের কষ্ট দূর করে, যেমন পানি দিয়ে মুখের ময়লা দূর হয়। এখানে মূল বিষয় হলো অসুস্থতার সময় সহজ খাবার, যত্ন এবং সান্ত্বনা। হাদিসে হাসার কথা এসেছে; এটি খাবার হিসেবে রোগীর জন্য কোমল ও সহজভাবে গ্রহণযোগ্য। তবে এই বর্ণনার বাইরে গিয়ে সব রোগের জন্য একই দাবি করা উচিত নয়। সরাসরি শিক্ষা হলো, অসুস্থ মানুষকে যত্ন করা, উপযোগী খাবার দেওয়া এবং তার মনকে সান্ত্বনা দেওয়া নববী আদবের অংশ।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- পরিবারের অসুস্থ সদস্যের যত্ন নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
- জ্বরের সময় উপযোগী ও সহজ খাবার দেওয়া যেতে পারে।
- রোগীর শরীরের পাশাপাশি মনের কষ্টের দিকও ভাবা উচিত।
- নবী (صلى الله عليه وسلم) অসুস্থতার সময় খাবার ও সান্ত্বনার শিক্ষা দিয়েছেন।
