২১/০. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪২৩৩-[৭৫] - এক জায়গা থেকে খাওয়ার আদব
খাদ্য - দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
(আরবি) দ্বারা উদ্দেশ্য (আরবি) অর্থাৎ পরস্পর দু’দলের মধ্যে সন্ধি স্থাপন। ইবনুল হুমাম বলেন : ইমাম যদি মনে করেন যে, শত্রুপক্ষের মালের বিনিময়ে অথবা মাল ব্যতিরেকেই সন্ধি করার মধ্যে কল্যাণ নিহিত আছে তাহলে তিনি সন্ধি করতে পারেন। কেননা আল্লাহ তা‘আলা বলেন : “তারা যদি শান্তির (সন্ধির) দিকে ঝুঁকে পড়ে তাহলে তুমি সেদিকে ঝুঁকে পড়ো।” (সূরাহ্ আল আনফাল ৮ : ৬১) যদিও আয়াতে কল্যাণের কথা উল্লেখ নেই তথাপি ফাকীহগণ একমত যে, মুসলিমদের কল্যাণ আছে বলে ইমামের নিকট সাব্যস্ত হলে তবেই শুধুমাত্র সন্ধি করা বৈধ। আর যদি সন্ধির মধ্যে কোনো কল্যাণ পরিলক্ষিত না হয় তাহলে সন্ধি করা বৈধ নয়।
খাবারের পাত্রে হাত চালানোর সঠিক আদব
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৪২৩৩-[৭৫]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৪২৩৩-[৭৫]
وَعَنْ عِكْرَاشِ بْنِ ذُؤَيْبٍ قَالَ: أُتِينَا بِجَفْنَةٍ كَثِيرَة من الثَّرِيدِ وَالْوَذْرِ فَخَبَطْتُ بِيَدِي فِي نَوَاحِيهَا وَأَكَلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ بَيْنِ يَدَيْهِ فَقَبَضَ بِيَدِهِ الْيُسْرَى عَلَى يَدِيَ الْيُمْنَى ثُمَّ قَالَ: «يَا عِكْرَاشُ كُلْ مِنْ مَوْضِعٍ وَاحِدٍ فَإِنَّهُ طَعَامٌ وَاحِدٌ». ثُمَّ أَتَيْنَا بِطَبَقٍ فِيهِ أَلْوَانُ التَّمْرِ فَجَعَلْتُ آكُلُ مِنْ بَيْنِ يَدَيَّ وَجَالَتْ يَدُ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي الطبقِ فَقَالَ: «يَا عِكْرَاشُ كُلْ مِنْ حَيْثُ شِئْتَ فَإِنَّهُ غَيْرُ لَوْنٍ وَاحِدٍ» ثُمَّ أَتَيْنَا بِمَاءٍ فَغَسَلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَدَيْهِ وَمسح بَلل كَفَّيْهِ وَجْهَهُ وَذِرَاعَيْهِ وَرَأْسَهُ وَقَالَ: «يَا عِكْرَاشُ هَذَا الْوُضُوءُ مِمَّا غَيَّرَتِ النَّارُ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ
‘ইকরাশ ইবনু যুআয়ব (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
একদিন আমাদের সম্মুখে বৃহদাকার একটি খাদ্যপাত্র আনা হলো। পাত্রটিতে ছিল সারীদ ও গোশতের টুকরা। আমি আমার হাত দিয়ে পাত্রের চারপাশ হতে নিতে লাগলাম। আর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নিজের সম্মুখ হতে খাচ্ছিলেন। এমন সময় তিনি (ﷺ) বাম হাত দ্বারা আমার ডান হাত ধরে ফেললেন এবং বললেন : হে ‘ইকরাশ! এক জায়গা হতে খাও, কেননা এটা একই প্রকারের খাদ্য।(বর্ণনাকারী ‘ইকরাশ বলেন :) অতঃপর আমাদের সম্মুখে একখানা থালা আনা হলো। তন্মধ্যে বিভিন্ন প্রকারের খেজুর ছিল। তখন আমি কেবলমাত্র আমার সম্মুখ হতে খেতে লাগলাম। আর রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর হাত গোটা থালার মধ্যে ঘুরছিল। তিনি বললেন : হে ‘ইকরাশ! থালার যে জায়গা হতে ইচ্ছা হয় খাও, কেননা এটা এক প্রকারের নয়। অতঃপর আমাদের জন্য পানি আনা হলো। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নিজের উভয় হাত ধুলেন এবং ভিজা হাত দিয়ে মুখমণ্ডল, বাহুদ্বয় ও মাথা মুছে নিলেন এবং বললেন : হে ‘ইকরাশ! এটা হলো সে খাদ্যের ওজু যাকে আগুন পরিবর্তন করে দিয়েছে (অর্থাৎ- রান্না করা হয়েছে)।
[১] য‘ঈফ : তিরমিযী ১৮৪৮, ইবনু মাজাহ ৩২৭৪, য‘ঈফ সুনান ইবনু মাজাহ ৭০৬। হাদীসটি য‘ঈফ হওয়ার কারণ, এর সনদে ‘‘আলা ইবনু ফায্ল’’ নামের একজন, দুর্বল (য‘ঈফ) বর্ণনাকারী সম্পর্কে ইমাম যাহাবী (রহঃ) বলেন, তার মধ্যে ফীহি জাহালাহ্। ইবনু হিব্বান বলেনঃ মুনকারুল হাদীস। ইমাম বুখারী বলেনঃ ফী ইসনাদিহী নায্রম্নন তথা তার বর্ণিত সনদে সমস্যা রয়েছে। বিস্তারিত দেখুন- সিলসিলাতুয্ য‘ঈফাহ্ ৩/২৫৮ পৃঃ, হাঃ ১১২৭।
অনুবাদের উৎস
- প্রকাশক:
- হাদিস একাডেমী
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪২৩৩-[৭৫]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে ‘ইকরাশ (রাঃ)-এর খাবারের মজলিসের ঘটনা এসেছে। প্রথমে সারীদ ও গোশত এক ধরনের খাবার হিসেবে পেশ করা হলে তিনি পাত্রের চারপাশ থেকে নিতে থাকেন। নবী (صلى الله عليه وسلم) তাঁর হাত ধরে বলেন, এক জায়গা থেকে খাও, কারণ এটি একই প্রকারের খাবার। পরে বিভিন্ন ধরনের খেজুর এলে তিনি সামনে থেকে খেতে থাকেন, আর নবী (صلى الله عليه وسلم) বলেন, ইচ্ছামতো জায়গা থেকে খাও, কারণ এটি এক প্রকার নয়। শেষে রান্না করা খাবারের পর হাত ধোয়া ও ভিজা হাত দিয়ে মুখমণ্ডল, বাহু ও মাথা মুছার কথা এসেছে। এই হাদিস খাবারের আদব খুব সুন্দরভাবে শেখায়। একই খাবারে সামনে থেকে খাওয়া, ভিন্ন ধরনের খাবারে পছন্দমতো নেওয়া এবং খাওয়ার পর পরিচ্ছন্নতা—সবই এখানে সরাসরি আছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- একই ধরনের খাবার হলে নিজের সামনে বা এক জায়গা থেকে খাওয়া উচিত।
- ভিন্ন ধরনের খাবার হলে পছন্দমতো জায়গা থেকে নেওয়ার সুযোগ আছে।
- রান্না করা খাবারের পর হাত ধোয়া পরিচ্ছন্নতার আদব।
- নবী (صلى الله عليه وسلم) ভুল দেখলে কোমলভাবে সংশোধন করতেন।
