২১/৩. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪২৭১-[৯] - রূপার পাত্রে পান করার ভয়াবহতা
পানীয় দ্রব্যের বর্ণনা - প্রথম অনুচ্ছেদ
আল্ মুগরিব গ্রন্থকার বলেন : ফাই বলা হয় ঐ সম্পদকে যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর কোনো ভূমি যখন মুসলিমদের অধিকারে চলে যায় তখন এ ভূমিতে বসবাসকারী কাফিরদের কাছ থেকে যা গ্রহণ করা হয় তাই হলো ফাই। মাফাতীহ গ্রন্থকার বলেন : যুদ্ধ না করেই মুসলিমগণ কাফিরদের নিকট থেকে যে সম্পদ অর্জন করে তাকে ফাই বলা হয়। রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবদ্দশাতে তিনি স্বীয় ইচ্ছা মতো ফাই এর মাল ব্যয় করার অধিকারী ছিলেন। তা থেকে নিজ পরিবারের জন্য ব্যয় করতেন।সেনাবাহিনী প্রস্তুত, মেহমানের মেহমানদারী করা এবং প্রতিনিধি দলের লোকেদের সম্মানার্থে ব্যয় নির্বাহ এ মাল থেকেই করতেন। পরবর্তীতে তা ‘উমার (রাঃ) বায়তুল মালের অন্তর্ভুক্ত করে মুসলিমদের কল্যাণে ব্যয় করতেন। (মির্ক্বাতুল মাফাতীহ)
রূপার পাত্রে পান করার কঠোর নিষেধ
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৪২৭১-[৯]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৪২৭১-[৯]
وَعَنْ أُمِّ سَلَمَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «الَّذِي يَشْرَبُ فِي آنِيَةِ الْفِضَّةِ إِنَّمَا يُجَرْجِرُ فِي بَطْنِهِ نَارَ جَهَنَّمَ». مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ. وَفِي رِوَايَةٍ لِمُسْلِمٍ: «إِنَّ الَّذِي يَأْكُلُ وَيَشْرَبُ فِي آنِية الْفضة وَالذَّهَب»
উম্মু সালামাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন : যে ব্যক্তি রৌপ্য পাত্রে পান করে, বস্তুত সে যেন তার পেটের মধ্যে জাহান্নামের আগুনের ঢোক গিলে নেয়। আর মুসলিম-এর রিওয়ায়াতে আছে, যে ব্যক্তি রৌপ্য ও স্বর্ণের পাত্রে পানাহার করে।
[১] সহীহ : বুখারী ৫৬৩৪, মুসলিম (২০৬৫)-১, সহীহ ইবনু হিব্বান ৫৩৪২, ইবনু মাজাহ ৩৪১৩, ইরওয়া ৩৩, সহীহুল জামি‘ ৯৬২৮, সহীহ আত্ তারগীব ওয়াত্ তারহীব ২১১০, মুওয়াত্ত্বা মালিক ৩৪২০, মা‘রিফাতুস্ সুনান ওয়াল আসার লিল বায়হাক্বী ১৩৬, মুসান্নাফ ‘আবদুর রায্যাক ১৯৯২৬, মুসনাদুশ্ শাফি‘ঈ ২৩, মুসনাদে আবূ ইয়া‘লা ৬৯৯৮, দারিমী ২১২৯, আল মু‘জামুল কাবীর লিত্ব ত্ববারানী ১৯৩৬৪।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪২৭১-[৯]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে উম্মে সালামাহ রা. থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم বলেছেন—যে ব্যক্তি রূপার পাত্রে পান করে, সে যেন তার পেটে জাহান্নামের আগুনের ঢোক গিলে নেয়। মুসলিমের বর্ণনায় সোনা ও রূপার পাত্রে পানাহারের কথাও এসেছে। হাদিসের ভাষা খুব কঠোর। তাই সোনা-রূপার পাত্রে পান করা বা খাবার খাওয়ার বিষয়ে মুসলিমকে সতর্ক থাকতে হবে। এখানে মূল শিক্ষা হলো, বিলাসিতা ও নিষিদ্ধ পাত্র ব্যবহারের ব্যাপারে নবী صلى الله عليه وسلم কঠোরভাবে সতর্ক করেছেন। পানীয় আদব শুধু কীভাবে পান করব তা নয়; কোন পাত্র ব্যবহার করব, সেটিও ইসলামী শিষ্টাচারের অংশ।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- রূপার পাত্রে পান করার ব্যাপারে কঠোর সতর্কতা এসেছে।
- সোনা-রূপার পাত্রে পানাহার থেকে বিরত থাকা দরকার।
- খাবার-পানীয়ের পাত্রও ইসলামী বিধানের আওতায় আসে।
- বিলাসী ও নিষিদ্ধ ব্যবহারের ব্যাপারে মুসলিমকে সতর্ক হতে হবে।
