২২/০. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪৩১৯-[১৬] - রেশম বর্জনের আখিরাতমুখী শিক্ষা
পোশাক-অধ্যায় - প্রথম অনুচ্ছেদ
"اللباس(আল লিবা-স) শব্দটিباب سمع(বা-বি সামি‘আ)-এর মাসদার। এটি পেশের সাথেও ব্যবহার করা হয়। যার অর্থ পোশাক। আরباب ضرب(বা-বি যরাবা) থেকেلبسا(লাবসান) লামের উপর যবর যোগে আসে। যার অর্থ সংমিশ্রণ করা। মহান আল্লাহ বলেনঃوَلَا تَلْبِسُوا الْحَقَّ بِالْبَاطِلِ وَتَكْتُمُوا الْحَقَّ وَأَنْتُمْ تَعْلَمُونَ’‘আর তোমরা হককে বাতিলের সাথে মিশ্রিত করো না এবং জেনে-বুঝে হককে গোপন করো না’’- (সূরাহ্ আল বাকারাহ্ ০২ : ৪২)।বিভিন্ন কারণে ইসলামে কতিপয় পোশাক নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সেগুলো হল- ১. পুরুষের জন্য রেশমের পোশাক ও স্বর্ণমিশ্রিত পোশাক।২. পুরুষের জন্য মহিলাদের পোশাক।৩. মহিলাদের জন্য পুরুষের পোশাক।৪. খ্যাতি ও বড়াই প্রকাশক পোশাক।৫. ভিন্ন ধর্মীয় পোশাক।৬. আঁটসাঁট পোশাক ইত্যাদি। [সম্পাদক]"
রেশম বর্জন ও আখিরাতকে অগ্রাধিকার দেওয়া
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৪৩১৯-[১৬]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৪৩১৯-[১৬]
وَعَنْ عُمَرَ وَأَنَسٍ وَابْنِ الزُّبَيْرِ وَأَبِي أُمَامَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ أَجْمَعِينَ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «مَنْ لَبِسَ الْحَرِيرَ فِي الدُّنْيَا لَمْ يَلْبَسْهُ فِي الْآخِرَة»
উমর, আনাস, ইবনুয যুবায়র ও আবূ উমামাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) বলেছেন : যে ব্যক্তি দুনিয়াতে রেশমী পোশাক পরিধান করবে, সে পরকালে তা পরতে পারবে না (তথা বঞ্চিত হবে)।
[১] সহীহ : বুখারী ৫৮৩২, ৫৮৩৩, ৫৮৩৪; মুসলিম ২০৬৯, (২০৭৩)-২১, মুসনাদে আবূ ইয়া‘লা ১৭৫১, মুসনাদে আহমাদ ২৫১, মুসান্নাফ ইবনু আবী শয়বাহ্ ২৪৬৪৩, নাসায়ী ৫৩০৬, ইবনু মাজাহ ৩৫৯১, তিরমিযী ২৮১৭, সহীহুল জামি‘ ৬৫২৫, আল জামি‘উস্ সগীর ১১৪৭১।
অনুবাদের উৎস
- প্রকাশক:
- হাদিস একাডেমী
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪৩১৯-[১৬]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের বক্তব্য হলো, যে ব্যক্তি দুনিয়াতে রেশমী পোশাক পরিধান করবে, সে পরকালে তা পরতে পারবে না। এখানে পোশাকের মাধ্যমে আনুগত্যের পরীক্ষা বোঝা যায়। মানুষ অনেক সময় দামি বা আকর্ষণীয় পোশাককে মর্যাদার চিহ্ন মনে করে। কিন্তু এই হাদিস শেখায়, মুমিনের মর্যাদা আল্লাহর নির্দেশ মানার মধ্যে। রেশমী পোশাকের সতর্কতা আমাদের দুনিয়ার সাজ-সজ্জাকে সীমার মধ্যে রাখতে বলে। হাদিসটি অতিরঞ্জিত জীবনযাপন নয়; বরং নিয়ন্ত্রিত, শালীন এবং আখিরাতমুখী জীবন বেছে নিতে সাহায্য করে। তাই পোশাকের ক্ষেত্রেও মুসলিমের সিদ্ধান্ত হওয়া উচিত ঈমান ও আনুগত্যের ভিত্তিতে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- রেশমী পোশাক থেকে বিরত থাকার শিক্ষা এসেছে।
- আল্লাহর নির্দেশ মানাই মুমিনের আসল মর্যাদা।
- দুনিয়ার সাজসজ্জাকে সীমার মধ্যে রাখা উচিত।
- পোশাকের পছন্দেও আখিরাতের চিন্তা থাকা দরকার।
