৩/৬. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪৬১-[১১] - নাপাক অবস্থায় কুরআন পড়ার বিধান
নাপাক ব্যক্তির সাথে মেলামেশা - দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
নাপাক অবস্থায় কুরআন পড়ার বিধান
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৪৬১-[১১]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৪৬১-[১১]
وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ لَا تَقْرَأْ الْحَائِضُ وَلَا الْجُنُبُ شَيْئًا مِنَ الْقُرْآنِ. رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ
ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ ঋতুবতী স্ত্রীলোক ও নাপাক ব্যক্তি কোরআন মাজীদের কিয়দংশও পড়তে পারবে না। [১]
[১] মুনকার : তিরমিযী ১৩১। কারণ ইসমা‘ঈল ইবনু ‘আইয়্যাশ এর ব্যাপারে ইমাম বুখারী (রহঃ) বলেছেন যে, সে হিজায ও ‘ইরাক্ববাসীদের থেকে মুনকার হাদীস বর্ণনা করে। অর্থাৎ- তার তাদের থেকে বর্ণিত হাদীসগুলো মুনকার। এমনকি ইমাম আহমাদ (রহঃ) সেগুলোকে বাতিল বলেছেন।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪৬১-[১১]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে কুরআন তিলাওয়াতের সময় পবিত্রতার বিষয়টি স্পষ্টভাবে এসেছে। রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم বলেছেন, ঋতুবতী নারী এবং নাপাক ব্যক্তি কুরআন মাজীদের কোনো অংশও পড়বে না। এখানে মূল শিক্ষা হলো, কুরআন আল্লাহর কালাম; তাই এর সাথে আচরণে আদব ও পবিত্রতার প্রতি যত্ন দরকার। হাদিসের ভাষা সরাসরি কুরআন পড়ার বিষয়ে। তাই এর আলোচনায় অতিরিক্ত কোনো বিধান যোগ না করে এতটুকুই বলা যায় যে, হায়েয অবস্থায় কুরআন পড়া এবং জানাবাত অবস্থায় কুরআন তিলাওয়াত থেকে বিরত থাকার নির্দেশ এসেছে। এই বিষয়টি মুসলিম জীবনে কুরআনের মর্যাদা, পবিত্রতা এবং ইবাদতের শিষ্টাচার বুঝতে সাহায্য করে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কুরআন তিলাওয়াতের ক্ষেত্রে পবিত্রতার আদব মানা জরুরি।
- ঋতুবতী নারী ও নাপাক ব্যক্তির কুরআন পড়া থেকে বিরত থাকার নির্দেশ এসেছে।
- কুরআনের সাথে সম্পর্ক রাখার সময় সম্মান ও সতর্কতা দরকার।
- ইবাদতের বিষয়ে নিজের অবস্থা সম্পর্কে সচেতন থাকা উচিত।
