১/৯৮. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১৩১ - হায়েজ ও জানাবাতে কুরআন তিলাওয়াত
নাপাক ব্যক্তি ও ঋতুবর্তী নারী কুরআন তিলাওয়াত করবে না
হায়েজে কুরআন তিলাওয়াত: হাদিসের সতর্ক শিক্ষা
জামে‘ আত-তিরমিযী : ১৩১
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ১৩১
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ، وَالْحَسَنُ بْنُ عَرَفَةَ، قَالاَ حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ عَيَّاشٍ، عَنْ مُوسَى بْنِ عُقْبَةَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ «لاَ تَقْرَإِ الْحَائِضُ وَلاَ الْجُنُبُ شَيْئًا مِنَ الْقُرْآنِ» . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ عَلِيٍّ .قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ ابْنِ عُمَرَ حَدِيثٌ لاَ نَعْرِفُهُ إِلاَّ مِنْ حَدِيثِ إِسْمَاعِيلَ بْنِ عَيَّاشٍ عَنْ مُوسَى بْنِ عُقْبَةَ عَنْ نَافِعٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ «لاَ يَقْرَإِ الْجُنُبُ وَلاَ الْحَائِضُ» . وَهُوَ قَوْلُ أَكْثَرِ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ ﷺ وَالتَّابِعِينَ وَمَنْ بَعْدَهُمْ مِثْلِ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ وَابْنِ الْمُبَارَكِ وَالشَّافِعِيِّ وَأَحْمَدَ وَإِسْحَاقَ قَالُوا لاَ تَقْرَأُ الْحَائِضُ وَلاَ الْجُنُبُ مِنَ الْقُرْآنِ شَيْئًا إِلاَّ طَرَفَ الآيَةِ وَالْحَرْفَ وَنَحْوَ ذَلِكَ وَرَخَّصُوا لِلْجُنُبِ وَالْحَائِضِ فِي التَّسْبِيحِ وَالتَّهْلِيلِ . قَالَ وَسَمِعْتُ مُحَمَّدَ بْنَ إِسْمَاعِيلَ يَقُولُ إِنَّ إِسْمَاعِيلَ بْنَ عَيَّاشٍ يَرْوِي عَنْ أَهْلِ الْحِجَازِ وَأَهْلِ الْعِرَاقِ أَحَادِيثَ مَنَاكِيرَ . كَأَنَّهُ ضَعَّفَ رِوَايَتَهُ عَنْهُمْ فِيمَا يَنْفَرِدُ بِهِ . وَقَالَ إِنَّمَا حَدِيثُ إِسْمَاعِيلَ بْنِ عَيَّاشٍ عَنْ أَهْلِ الشَّأْمِ . وَقَالَ أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ إِسْمَاعِيلُ بْنُ عَيَّاشٍ أَصْلَحُ مِنْ بَقِيَّةَ وَلِبَقِيَّةَ أَحَادِيثُ مَنَاكِيرُ عَنِ الثِّقَاتِ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدَّثَنِي أَحْمَدُ بْنُ الْحَسَنِ قَالَ سَمِعْتُ أَحْمَدَ بْنَ حَنْبَلٍ يَقُولُ ذَلِكَ .
ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) বলেনঃ ঋতুবতী নারী ও নাপাক ব্যক্তি (যার উপর গোসল ফরজ) কোরআনের কোন অংশ তিলাওয়াত করবে না।
এ অনুচ্ছেদে ‘আলী (রাঃ) হতে বর্ণনাকৃত হাদীস ও আছে। আবূ ‘ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি ইসমা’ঈল ইবনু ‘আইয়াশ একটি মাত্র সনদে সূত্রেই বর্ণনা করেছেন যে, নাপাক ব্যক্তি ও হায়িযগ্রস্তা নারী কোরআন তিলাওয়াত করবে না। এ সূত্র ব্যতীত অন্য কোন সূত্রে আমরা উপরোক্ত হাদীস জানতে পারিনি। বেশিরভাগ বিশেষজ্ঞ সাহাবা ও তাবিঈ এটাই বলেছেন। তাদের পরবর্তীগণ যেমন, সুফইয়ান সাওরী, ইবনুল মুবারাক, শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাক বলেনঃ নাপাক ও হায়িয অবস্থায় কোরআনের কোন অংশ তিলাওয়াত করবে না; কিন্তু কোন আয়াতের অংশবিশেষ অথবা শব্দ ইত্যাদি পাঠ করতে পারবে। তাঁরা নাপাক ব্যক্তি ও হায়িযগ্রস্তা নারীকে তাসবীহ-তাহলীল (সুবহানাল্লাহ, লা-ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ ইত্যাদি) পড়ার অনুমতি দিয়েছেন। ইমাম তিরমিযী বলেনঃ আমি মুহাম্মদ ইবনু ইসমাঈল (বুখারী)-কে বলতে শুনেছি, এ হাদীসের এক রাবী ইসমাঈল ইবনু ‘আইয়াশ, হিজায ও ইরাকবাসীদের হতে অস্বীকৃত (মুনকার) হাদীসগুলো বর্ণনা করে থাকে। ইমাম বুখারী তাদের সূত্রে বর্ণিত তার এ ধরনের একক বর্ণনাগুলোকে য‘ঈফ বলতে চান। তিনি আরো বলেছেন, সিরীয়াবাসীদের নিকট হতে বর্ণিত ইসমা‘ঈল ইবনু ‘আইয়াশের হাদীসগুলো শক্তিশালী। আহমাদ ইবনু হাম্বাল বলেছেনঃ ইসমা‘ঈল ইবনু ‘আইয়াশ বাকিয়ার তুলনায় অনেক ভাল। কেননা বাকিয়া সিকাহ রাবীদের বরাতে মুনকার হাদীস বর্ণনা করেছেন। আবূ ‘ঈসা বলেনঃ আহমাদ ইবনু হাসান আমাকে এ কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন, আমি আহমাদ ইবনু হাম্বালকে এ কথা বলতে শুনেছি।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১৩১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে নবী (صلى الله عليه وسلم) বলেন, ঋতুবতী নারী এবং নাপাক ব্যক্তি, অর্থাৎ যার ওপর গোসল ফরজ, কুরআনের কোনো অংশ তিলাওয়াত করবে না। হাদিসের সঙ্গে বর্ণনাকারীদের আলোচনায় আরও এসেছে যে, অনেক আলেম এই বিষয়ে সতর্ক মত গ্রহণ করেছেন। তবে হাদিসের সরাসরি বক্তব্য হলো কুরআন তিলাওয়াতের ক্ষেত্রে হায়েজ ও জানাবাতের অবস্থাকে হালকা করে না দেখা। এখানে পবিত্রতা ও আল্লাহর কিতাবের সম্মান একসঙ্গে জড়িত। এই ব্যাখ্যায় শুধু হাদিসের কথাই ধরা হয়েছে; অন্য মত বা বিস্তারিত ফিকহি আলোচনা আলাদা বিষয়। তাই মূল শিক্ষা হলো, কুরআন তিলাওয়াতের আগে নিজের পবিত্রতার অবস্থা সম্পর্কে সচেতন থাকা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- হায়েজ ও জানাবাত অবস্থায় কুরআন তিলাওয়াত বিষয়ে সতর্ক নির্দেশ এসেছে।
- আল্লাহর কিতাবের সম্মান রক্ষায় পবিত্রতার গুরুত্ব আছে।
- গোসল ফরজ হলে পবিত্রতা অর্জনের বিষয়ে সচেতন হতে হবে।
- হাদিসের বক্তব্যের বাইরে বাড়তি দাবি করা উচিত নয়।
